শিরোনাম:

সাক্ষাতে অনাগ্রহ রেজওয়ানুলের

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি | তারিখ: ২২-১০-২০১২

  • ১৫ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি যুবক কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, রেজওয়ানুলের বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে ‘কনস্যুলার অ্যাকসেস’ চাওয়া হয়। আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির সম্মতি সাপেক্ষে কনস্যুলার অ্যাকসেস মঞ্জুর করা হয়। নিউইয়র্কের কারাগারে আটক রেজওয়ানুল বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ দূতাবাসকে জানিয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রেজওয়ানুলের ব্যাপারে নিবিড় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাঁর বাইরে চলাফেরা ছাড়াও ইন্টারনেট বা ফোনে যোগাযোগের সূত্র ধরে গোয়েন্দা তদন্ত চলছে। বাংলাদেশ থেকে আসা গোয়েন্দা তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছে ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস। বাংলাদেশে রেজওয়ানুলের কোনো জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাঁকে সহযোগিতা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রেজওয়ানুলের সর্বশেষ অবস্থা জানতে ওয়াশিংটন দূতাবাস থেকে একজন পদস্থ কর্মকর্তা নিউইয়র্ক সফর করছেন।
নাফিসের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি বাংলাদেশি মঈন চৌধুরী ‘প্রথম আলো’কে জানান, প্রচলিত আইনে রেজওয়ানুলকে প্রথমে ‘প্রি-ট্রায়াল’-এর মুখোমুখি করা হবে। এ পর্যায়ে নাফিসকে অপরাধ স্বীকার করে হ্রাসকৃত দণ্ড গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হবে। রেজওয়ানুল নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে বিচারটি ‘বেঞ্চ ট্রায়াল’ বা পূর্ণ জুরি ট্রায়ালে ফয়সালা হবে। জুরি ট্রায়াল দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া বলে জানান মঈন চৌধুরী।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সন্ত্রাসবাদী হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গত বুধবার বাংলাদেশি যুবক রেজওয়ানুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অভিযোগপত্র গ্র্যান্ড জুরিতে পাঠানো হয়েছে। মার্কিন আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে রেজওয়ানুলের মামলা গ্র্যান্ড জুরির সামনে উঠবে। জুরির অভিমত সাপেক্ষে অভিশংসকেরা এরপর আদালতে অভিযোগ উত্থাপন করবেন। রেজওয়ানুল তখন নিজেকে নির্দোষ ঘোষণা বা দোষ স্বীকারের সুযোগ পাবেন।
রেজওয়ানুলের একমাত্র ভরসা এখন গ্র্যান্ড জুরি। গ্র্যান্ড জুরিরা যদি রেজওয়ানুলকে নির্দোষ বলে রায় দেন, তবেই তিনি মুক্তি পাবেন। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপকবিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার ও জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
সাধারণত, বড় ধরনের বা চাঞ্চল্যকর মামলা পাঠানো হয় গ্র্যান্ড জুরিতে। গ্র্যান্ড জুরিরা তদন্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনে ও প্রমাণ দেখে জানাবেন মামলা চলবে কি না। ১৬ থেকে ২৩ জন থাকেন গ্র্যান্ড জুরিতে। এর মধ্যে কমপক্ষে ১২ জনের সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়।
রেজওয়ানুলকে ধরা হয় ‘স্টিং অপারেশন’-এর মাধ্যমে। ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই এই অপারেশন পরিচালনা করে। মূলত, ফাঁদ পেতে অপরাধ করতে সহযোগিতা ও উত্সাহ জুগিয়ে অপকর্ম সংঘটনের ঠিক আগমুহূর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ধরার নাম ‘স্টিং অপারেশন’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি পরিচালিত হলেও সুইডেন ও নেদারল্যান্ডে তা নিষিদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রে এটি বেশি ব্যবহূত হচ্ছে। নিউইয়র্কে ২০০১ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আল-কায়েদার হামলার পর থেকে এফবিআই এটি বেশি ব্যবহার করছে।
মার্কিন গোয়েন্দাদের এ ধরনের পাতা ফাঁদে ফেলে গত ১০ বছরে ২০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিচারের মুখোমুখি হওয়া ৮১ জনের মধ্যে সবার দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর এ পর্যন্ত আরও তিনজন বাংলাদেশি প্রায় একই ধরনের সন্ত্রাসী পরিকল্পনার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিচারে তাঁদের সবাইকেই কারাদণ্ড ভোগ করতে হচ্ছে। ২০০৪ সালে মোহাম্মদ হোসেন নামের একজন বাংলাদেশি ইমামকে একই ধরনের নাশকতামূলক পরিকল্পনায় গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে অপরাধ স্বীকার করে মোহাম্মদ হোসেন ১৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী পরিকল্পনার অভিযোগে ২০০৯ সালে এহসানুল সাদেকী নামের এক বাংলাদেশি যুবককে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসে বড় হওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রেজওয়ান ফেরদৌস নামের আর এক বাংলাদেশি যুবককে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন আটলান্টার কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
২০১২.১০.২২ ১৬:১১
এমন একটা সুবোধ ছেলেকে ওদের বেড়াজালে ফেলে অমানসিক অত্যাচার চালাচ্ছে।
২০১২.১০.২২ ১৮:৪৭
how do we know he doesn't want to see us or talk to us, we did not see him saying that.

Jahangir Mahmud

Jahangir Mahmud

২০১২.১০.২২ ১৯:৪৪
বিষময়কর !

এস,এম লিটন

এস,এম লিটন

২০১২.১০.২২ ১৯:৪৮
নাফিস বাংলাদেশে কি করত আগে সেই তথ্য বাহির করা দরকার ।

sharif

sharif

২০১২.১০.২২ ১৯:৫৯
হায়রে কপাল গেল কিসর জন্ন্য আর হলো কি.........................।

২০১২.১০.২২ ২০:০৭
আসলে কি সে দেখা করতে চায় নি নাকি police মিথথা কথা বলসে ?

দোজা

দোজা

২০১২.১০.২২ ২০:২৮
মার্কিন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানিয়েছে নিউইয়র্কের কারাগারে আটক রেজওয়ানুল বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কেন? তবেকি সত্যই সে জঙ্গি তৎপরতার সাথে জড়িত! আল-কায়েদার সাথে তার যোগাযোগ আছে? একজন বাংলাদেশী হিসাবে তার জন্য অপরাধীবোধ অনুভব করছি।

Sajid

Sajid

২০১২.১০.২২ ২০:৩০
যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তৈরির কারখানা । সামনে নির্বাচন.... যে কারণে এই ধরণের জিনিস নিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করার নোংরা খেলা শুরু করেছে। আমাদের অর্থনৈতিক মাজা ভাঙ্গা তৃতীয় বিশ্ব এর মতো দেশগুলোকে সবসময় হেয় করে রাখার জন্য এটা ওদের একটা চমৎকার হাতিয়ার।।

Farzana Rahman

Farzana Rahman

২০১২.১০.২২ ২১:০৫
Its really sound fishy fishy for me! Why he doesn’t want to talk with Bangladesh high commissioner?

Masud Khan

Masud Khan

২০১২.১০.২২ ২১:১৮
@২০১২.১০.২২ ১৬:১১, You think he is "সুবোধ ছেলে"? May be time to get your head examined!
২০১২.১০.২২ ২১:৪৬
একটা কিছু যে সে করেছে তা সত্যি. এফ বি আই এর কি আর কাজ নেই যে একজন কলেজ স্টুডেন্ট কে নিয়ে হয়রানি করবে? আমরা বাংলাদেশীরা দেশের বাইরে অনেক সন্মান পেতাম একজনের অপকর্মে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে.

Kazi Mahabubur Rahman

Kazi Mahabubur Rahman

২০১২.১০.২২ ২২:১৫
বিসয়তি নিবিরভাবে পরজেবেখন দরকার

রফিকুল ইসলাম তনি

রফিকুল ইসলাম তনি

২০১২.১০.২২ ২৩:০৫
''নাফিস ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। " ----- এই কথা পৃথিবীর বিচারবুদ্ধি সম্পূর্ণ কোনো মানুষ বিশ্বাস করবে না।

M. Mahboob Hossain

M. Mahboob Hossain

২০১২.১০.২২ ২৩:২৪
I do not believe that Nafis is terrorist. If the source is a Muslim then we need to know whehter he has green card. In the USA many so called source victimize such innocent people to get green card or from other benefit.

MOHAMMAD JAKARIA.

MOHAMMAD JAKARIA.

২০১২.১০.২৩ ০২:৫৩
FBI & CIA ARE THE BIGGEST LIRE IN THE WORLD..