মাদক ছাড়তে ইচ্ছাই যথেষ্ট
অলংকরণ: তুলি
৯ অক্টোবর বিকেল পাঁচটায় ধানমন্ডি ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে পরামর্শ সহায়তা ৩০-এর আসরটি অনুষ্ঠিত হয়। এ আসরে উপস্থিত ছিলেন মনোরোগ চিকিৎসক মোহিত কামাল, তাজুল ইসলাম, আহমেদ হেলাল, অভ্রদাস ভৌমিক, ব্রাদার রোনাল্ড ড্রাহোজাল, মেখলা সরকার ও ফারজানা রহমান। পরামর্শ সহায়তায় আলোচিত বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন: আমার ছোট ভাইয়ের বয়স ৩২ বছর। ১৫ বছর যাবৎ গাঁজা নিচ্ছে। কারও সঙ্গে কথা বলে না। এখন আপনে সাত মাস ধরে চিকিৎসাধীন। পরিবারে একমাত্র আমি তার সঙ্গে কথা বলি। সে একাকী থাকতে পছন্দ করে। এখন কী করতে পারি?
উত্তর: গাঁজা খেলে মানুষের মধ্যে কিছু ভ্রান্ত ধারণা ও মানসিক সমস্যা তৈরি হয়। ভ্রান্ত ধারণা ও মানসিক সমস্যার জন্য পরিবারে কারও সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক নেই। তাকে দেখতে পারলে ভালো হতো। তার পরও আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে, এখন তার মানসিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আগে তার মানসিক সমস্যার চিকিৎসা করতে হবে। বাসায় বা নিরাময়কেন্দ্র যেকোনো জায়গায় এ চিকিৎসা করাতে পারেন। এখন তাকে মানসিক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। কিছু ওষুধ খেলে এ সমস্যা কেটে যাবে।
প্রশ্ন: পুনবার্সন কেন্দ্র থেকে বাসায় আনতে চাই। আমাকে শত্রু মনে করে। বাসায় আনলে তার আচরণ কী হবে—এ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছি। এ ব্যাপারে করণীয় কী?
উত্তর: মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা একধরনের স্বাধীনতা আশা করে। নিজের ইচ্ছেমতো থাকতে চায়, মাদক নিতে চায়। পরিবার থেকে পর্যাপ্ত টাকা আশা করে। তার ভালো থাকার জন্য আপনি এর কোনোটাই চান না। আপনার কাছ থেকে কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। ফলে সে আপনাকে শত্রু মনে করে। তাকে সাত মাস নিরাময়কেন্দ্রে রেখেছেন। হয়তো সে এখন ভালো আছে। পরিবারের সবাই তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করুন। তার সঙ্গে খোলামনে কথা বলুন। তার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করুন। তাকে কখনোই বুঝতে দেবেন না যে সে মাদকাসক্ত ছিল। সে আনন্দ পায়—এ রকম কিছু কাজের মধ্যে তাকে ব্যস্ত রাখুন। চিকিৎসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করুন। সবার ভালো আচরণ ও চিকিৎসকের নির্দেশমতো ওষুধ খেলে সে ভালো থাকবে।
প্রশ্ন: আমার স্বামী কিছুদিন ভালো থাকে। আবার বিশেষ বিশেষ দিনে মাদক নেয়। এটা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। কোনোভাবেই নিরাময়কেন্দ্রে নিতে পারি না।
উত্তর: আপনার স্বামী দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকাসক্ত। এখন বিশেষ বিশেষ দিনে মাদক নিচ্ছেন। এর অর্থ হচ্ছে, তিনি সম্পূর্ণ মাদকাসক্ত। নানা অজুহাতে মিথ্যা বলছেন, ভালো থাকার কথা বলছেন। বিশেষ বিশেষ দিনে কেন, কেউ যদি একবারও মাদক নেয়, তাহলে তার মধ্যে মাদক নেওয়ার প্রবণতা সব সময় কাজ করে। আপনার স্বামী মাদকাসক্ত ছিলেন। এখন বলছেন বিশেষ বিশেষ দিনে নিচ্ছেন। আসলে তিনি মাদক ছাড়তে পারেননি।
এখন চিকিৎসার জন্য পরিবারের সবাই মিলে তাঁকে বোঝাতে হবে। মাদকের ভয়ংকর পরিণতির কথা বলতে হবে। কোনোভাবে কাজ না হলে পুলিশের সাহায্য নিতে হবে। আজকাল হাসপাতালগুলোতে এ ধরনের রোগীদের ভর্তি করানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা আছে। তাদের সাহায্য নিতে হবে। যে করেই হোক তাঁকে চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। কেউ যদি নিজের ইচ্ছায় চিকিৎসা নিতে আসেন, তাহলে তিনি খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হতে পারেন। জোর করে আনলে সুস্থ হতে সময় লাগতে পারে।
প্রশ্ন: শ্বশুর-শাশুড়ি সামাজিক অবস্থান নষ্ট হওয়া বা মানসম্মানের ভয়ে ছেলের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিতে চান না। এ ক্ষেত্রে কী করণীয়?
উত্তর: মাদকাসক্ত আর দশটা রোগের মতো একটা রোগ। একে বিশেষভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বারবার বলার চেষ্টা করি, যিনি মাদকাসক্ত হন, তিনি অপরাধী নন, তিনি একটি অপরাধের শিকার হয়েছেন। অন্য যেকোনো দুর্ঘটনায় আমরা কাউকে দোষ দিই না। গোপন করি না, বরং চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। কিন্তু আপনজন মাদকাসক্ত হলে গোপন করি। মনে করি সে অপরাধী। এভাবে গোপন করার ফলে একসময় সে ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি মাদকাসক্ত ব্যক্তি ও তার পরিবার উভয়ের জন্য অনেক বেশি অপমানজনক। আর সাধারণত গোপনীয়তা রক্ষা করেই রোগীকে চিকিৎসা করানো হয়। একটি বিষয় সবাইকে মনে রাখতে হবে, ভালো হয়ে যাওয়ার পর আবার সে মাদকাসক্ত হতে পারে। এটি বারবার ঘটতে পারে, এমনকি ১০-১৫ বার এমন হতে পারে। কিন্তু সে ভালো হবে—এই বিশ্বাস সবার রাখতে হবে।
প্রশ্ন: একজন মাদকাসক্ত রোগীর মাদকমুক্ত হওয়ার জন্য ওষুধই কি যথেষ্ট?
উত্তর: একজন মাদকাসক্ত রোগীর ভালো হওয়ার জন্য, ভালো থাকার জন্য অনেক কারণের মধ্যে ওষুধ একটি প্রধান কারণ—কিন্তু একমাত্র কারণ নয়। ওষুধ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে পরিবার থেকে, পরিবেশ থেকে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে হবে। তাকে আনন্দের মধ্যে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ, মাদক খেলে সে আনন্দ পেত। তার সঙ্গে হাসিখুশি আচরণ করতে হবে।
সৃষ্টিশীল কাজের মধ্যে রাখতে হবে। মোট কথা, ওষুধের সঙ্গে সঙ্গে তাকে ভালো থাকার উপযোগী পরিবেশ দিতে হবে। এ কারণগুলো অনুপস্থিত থাকলে ওষুধ গ্রহণ করলেও সে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়বে। মাদকের চিকিৎসা একটি সমন্বিত চিকিৎসা।
প্রশ্ন: আমার স্বামীকে তিনবার ভর্তি করানো হয়েছে। কিন্তু ভালো হচ্ছেন না। তিনি চাকরি করেন। শাস্তি হিসেবে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় বদলি করা হয়েছে। একসঙ্গে থাকার সময় খুব খারাপ আচরণ করেছেন। কিছু বলতে গেলেই শারীরিক নির্যাতন করতেন। এখন কোনো যোগাযোগ করেন না। আমি কী করতে পারি?
উত্তর: আপনার স্বামী চাকরি করেন। মাস শেষে বেতনের টাকা পান। আবার একা থাকেন। এটা মাদকাসক্ত ব্যক্তির মাদক গ্রহণের জন্য অনুকূল পরিবেশ। আপনার স্বামী পূর্ণমাত্রায় মাদকাসক্ত। এখন যে করেই হোক তাঁর সঙ্গে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। কাছাকাছি থেকে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এ অবস্থায় তাঁর পাশে একজন মানুষের খুবই প্রয়োজন।
আপনি যদি একান্তই না পারেন, তাহলে যারা তাঁর কথা শুনে তাদের মাধ্যমে তাঁকে চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। এ সময় তাঁর চাকরির থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো চিকিৎসা। চিকিৎসা না করলে তিনি বেশি দিন চাকরি করতে পারবেন না। ধীরে ধীরে অনেক বেশি অসুস্থ হয়ে যাবেন।
প্রশ্ন: আমার ছেলেটি পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। তার মধ্যেও শাসন ও ধমকের প্রবণতা দেখা যায়। বাসার মানুষকে সহ্য করতে পারে না। তার বাবাকে দেখে দেখে এমন হয়েছে বলে আমার ধারণা।
উত্তর: আপনি ঠিকই ধরেছেন। মনে হয়, তার বাবার আচরণ তার মধ্যে প্রভার ফেলেছে। আশা করি, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠিক হয়ে যাবে। তবে এখন যেটা করতে পারেন তা হলো, ওকে সরকারি মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যাবেন। সেখানে বিনা পয়সায় প্রতি সোম ও বুধবার সকাল নয়টায় শিশুদের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ পরামর্শ আপনার সন্তানের জন্য খুবই উপকারী হবে।
প্রশ্ন: আমার ছেলের বয়স ৩৫। ১৮-২০ বছর যাবৎ মাদক গ্রহণ করছে। পঞ্চম শ্রেণীপড়ুয়া একটা মেয়ে আছে। সর্বক্ষণ তাকে নিয়ে শঙ্কার মধ্যে থাকি। প্রতিদিন ৫০০-১০০০ টাকা দিতে হয়। কোনো কথা শোনে না। এখন কী করতে পারি?
উত্তর: সন্তানেরা অনেক সময় মা-বাবার কাছে অন্যায় আবদার করে। মা-বাবা আবদার রক্ষা না করলে চিৎকার করবে, যেকোনো অপ্রীতিকর অবস্থা তৈরি করবে। এ ক্ষেত্রে মা-বাবা যদি আবদার রক্ষা করেন, তাহলে এই সন্তানের মধ্যে প্রতারণার প্রবণতা তৈরি হবে। মাদক ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রেও সে এই সুযোগ গ্রহণ করতে চাইবে। আপনি তাকে বলবেন,‘আমি তোমাকে ভালোবাসি, তোমার সব ভালো কাজে আমার সমর্থন আছে। তোমার ভালো কাজে আমার যত কষ্টই হোক সহযোগিতা করব। তোমাকে যেখানে সহযোগিতা করছি না, সেটি তোমার জীবনের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর। এ ক্ষেত্রে আমি কেন, কোনো সন্তানের অভিভাবক সহযোগিতা করতে পারে, না।
প্রশ্ন: আমি একজন ছাত্র। ধূমপান করি। এখন ছাড়তে চাই। করণীয় কী?
উত্তর: সিগারেটকে বলা হয় মাদকের মা। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, মাদকের ভয়াল ছোবলে যারা আক্রান্ত, তারা সবাই কোনো না কোনোভাবে ধূমপানের মাধ্যমে এ পথে এসেছে। ধূমপানকে কোনোক্রমেই হালকাভাবে দেখা যাবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০০৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে মারা যায় ৫৭ হাজার মানুষ। পঙ্গুত্ব বরণ করে তিন লাখ ৮২ হাজার। এটি ২০০৪ সালের হিসাব, কিন্তু বর্তমানে এই সংখ্যা অনেক বেশি হবে। নীরব ঘাতক এই নেশাদ্রব্য থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এখন কীভাবে ছাড়বেন সেটি আপনার প্রশ্ন। আপনি নিজেই ধূমপান শুরু করেছেন, ছাড়ার প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে আপনাকেই। সব সময় সচেতন থাকতে হবে। ধূমপান না করার জন্য তীব্র ইচ্ছা পোষণ করতে হবে। প্রয়োজনে পরিবারসহ আত্মীয়স্বজন সবার সামনে ধূমপান না করার ঘোষণা দিতে হবে। তাতে ধূমপান ছাড়ার জন্য নিজের মধ্যে অতিরিক্ত দায়বদ্ধতা তৈরি হবে।
যে পরিরেশে গেলে ধূমপানের আশঙ্কা থাকে, সেসব পরিবেশ বর্জন করতে হবে। হঠাৎ ছয় মাস, এক-দুই বছর ভালো থাকার চেষ্টা করলাম, বিষয়টি তা নয়। এটি একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। অর্থাৎ, সারা জীবন ভালো থাকার চেষ্টা করতে হবে। সর্বোপরি আপনাকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য কিছু ভালো মানুষ আপনার পাশে থাকতে হবে। একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যত ভয়ংকর মাদক হোক বা ধূমপান হোক, কোনো মানুষ যদি নিজ থেকে ছাড়ার ইচ্ছা পোষণ করে, তাহলে এটা নিশ্চিত যে সে ছাড়তে পারবেই।
প্রশ্ন: ধূমপান ছাড়ার জন্য বিশেষ কোনো ওষুধ আছে কি না?
উত্তর: ভালো প্রশ্ন করেছেন। আজকাল বিশেষ কিছু ওষুধ পাওয়া যায়। এ ওষুধ তিন-চার মাস খেলে ধূমপানের নেশা চলে যায়। এ ছাড়া নিকোটিন গাম পাওয়া যায়—এটা খেলে ধূমপানের নেশা থাকে না। তবে নিকোটিন গাম খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রশ্ন: আমি মাদকমুক্ত হয়েছি। ছোট্ট সন্তানের সঙ্গে সারা দিন ঘরে থাকি। কিন্তু একঘেয়েমি লাগে। একঘেয়েমি থেকে মুক্তির উপায় কী?
উত্তর: একজন সুস্থ মানুষের সারা দিন ঘরে থাকা সত্যিই কষ্টকর। তার পরও যে সময় চলে যাচ্ছে, সেটি আপনার সন্তানের জন্য। কিন্তু বেশি দিন এভাবে সময় কাটাতে পারবেন না। আপনাকে কোনো না কোনো ভালো কাজের মধ্যে যুক্ত থাকতে হবে। সেটি ঘরেও হতে পারে, বাইরেও হতে পারে। বাইরে ভালো কাজ না পাওয়া গেলে ঘরেই করতে হবে। ঘরে অনেক সৃষ্টিশীল কাজ করা যায়।
একজন অভিভাবকের অভিজ্ঞতা: আমার বুয়েটে পড়া ছেলে মাদকাসক্ত। ছেলেকে ভালো করতে গিয়ে বুঝেছি, এখানে হতাশ হলে চলবে না। প্রচণ্ডভাবে লেগে থাকতে হবে এবং বিশ্বাস রাখতে হবে, ভালো হবেই। অনেকেই বলেছেন, কথা শোনে না। এ ক্ষেত্রে তার ওপর যাদের প্রভাব রয়েছে, তাদের কাজে লাগাতে হবে। নিজেকে এ ব্যাপারে কিছুটা শক্ত হতে হবে।
এ বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য হাসপাতালের বিশেষ লোকদের কথা বলা হলো। প্রয়োজনে তাদের সাহায্য নিতে হবে। আমার সন্তানের দুটো ঘটনা বলি—একদিন বুয়েট থেকে তাকে নিরাময়কেন্দ্রে নিতে চাইলাম। সে যেতে রাজি নয়। আমি বুয়েটের একজন রেজিস্ট্রার ও অ্যাম্বুলেন্সের সহযোগিতায় নিতে সক্ষম হলাম। অন্য একদিন বাসা থেকে কোনোভাবেই নিতে পারছি না। তখন আমার ছোট ভাইকে খবর দিলাম। তার আসার কথা শুনেই যেতে রাজি হয়ে গেল। তাই হাল ছেড়ে না দিয়ে তার সঙ্গে লেগে থাকতে হবে এবং কলাকৌশলে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন প্রথম আলো ট্রাস্ট মাদকবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কারী ফেরদৌস ফয়সাল।
গ্রন্থণা: আশফাকুজ্জামান
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






