শেয়ার কারসাজির অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে এসইসি
শেয়ার কারসাজির অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচ পরিবার, দুই ব্যক্তি আর দুই প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
তিনটি মার্চেন্ট ব্যাংকের অমনিবাসের আওতায় ১৯টি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে এসব কারসাজি ঘটানো হয়। কারসাজির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন: লুৎফর রহমান বাদল ও তাঁর স্ত্রী সোমা আলম রহমান; বাদলের স্ত্রীর বড় ভাই আহসান ইমাম ও তাঁর স্ত্রী মেহজাবীন মোস্তফা ইমাম; ইয়াকুব আলী খোন্দকার ও তাঁর মেয়ে সারাহ খোন্দকার; সামরিক কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন ফকির ও তাঁর স্ত্রী রোকসানা আমজাদ; শেয়ার ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা আক্তার লতা; আওয়ামী লীগের নেতা এইচ বি এম ইকবাল ও আমেরিকাপ্রবাসী শেয়ার ব্যবসায়ী মনিরউদ্দিন আহমেদ।
এ ছাড়া অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো: নূর আলীর মালিকানাধীন ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস এবং বাদলের মালিকানাধীন নিউ ইংল্যান্ড ইক্যুইটি।
কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বাধীন পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তিনটি মার্চেন্ট ব্যাংকের অমনিবাসের আওতায় পরিচালিত এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিও হিসাবের অধিকতর তদন্ত করে এসইসি। তাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন ও বিধান লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়। গত বছরের ডিসেম্বরে এসইসির এই অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদনটি কমিশনের চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেনের কাছে জমা দেওয়া হলেও দীর্ঘদিন তিনি তা নিজের কাছে রাখেন।
এসইসির ওই অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৮ আগস্ট প্রথম আলোতে ‘৪৩৬ কোটি টাকার শেয়ার কারসাজি’ শিরোনামে প্রধান খবর ছাপা হয়। তাতে প্রতিবেদনটি অপ্রকাশিত রাখার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। এসইসির ওই অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদনের কপি প্রথম আলোর হাতে রয়েছে। অবশেষে গতকাল কারসাজির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
গতকাল বুধবার কমিশনের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের প্রয়োগ বা এনফোর্সমেন্ট বিভাগকে এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভা শেষে কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তাতে বলা হয়, সভার কার্যবিবরণীর অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এনফোর্সমেন্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসইসির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, উল্লিখিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবি ইনভেস্টমেন্ট, প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট ও সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেডের অমনিবাস হিসাবের আড়ালে নানা কারসাজি ও অনিয়মের মাধ্যমে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে বাজার থেকে প্রায় ৪৩৬ কোটি টাকা তুলে নিয়ে গেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রোকসানা আমজাদ, লুৎফর রহমান বাদল, আহসান ইমাম ও তাঁর স্ত্রী মেহজাবীন মোস্তফা ইমাম, ইয়াকুব আলী খোন্দকার, এইচ বি এম ইকবালের বিরুদ্ধে ঋণসুবিধাবহির্ভূত শেয়ারে বেআইনিভাবে ঋণসুবিধা গ্রহণ করার অভিযোগ আনা হয়। আর গোলাম মোস্তফা ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা আক্তার লতা এবং মোসাদ্দেক আলী ফালুর বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯’র ১৭(ই) ধারা লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
এসইসির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১১ সালের ১৫ জুন সময়কালের মধ্যে এসব কারসাজি ও আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।








ABDUL MAJID QUAZI
২০১২.০৯.২০ ০৩:৩৪Md. Rezaul Karim
২০১২.০৯.২০ ১০:১৮