চিনি রপ্তানির সুযোগ দিল সরকার
শেষ পর্যন্ত পরিশোধিত চিনি রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। চিনি ব্যবসায়ীরা বহুদিন ধরে রপ্তানির জন্য তদবির করে আসছিলেন। অবশেষে সফল হলেন তাঁরা।
মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলনকক্ষে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে চিনি রপ্তানির এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নূরুল করিম সাংবাদিকদের চিনি রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার তথ্য জানান।
নূরুল করিম বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) থেকে চিনি রপ্তানিতে আর কোনো বাধা থাকল না। পরিশোধন কারখানার মালিকেরা দেশীয় চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে সতর্ক না থাকলে সুযোগটি শেষ পর্যন্ত থাকবে না। মূল্য কারসাজি করলেও এ সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
সরবরাহ ঘাটতির শঙ্কা ও সম্ভাব্য মূল্য কারসাজির কারণে সরকার কয়েক বছর ধরেই চিনি রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। বর্তমান সরকারের আমলের শুরু থেকেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন পরিশোধন কারখানার মালিকেরা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, চিনি পরিশোধন কারখানাগুলোর বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ৩৪ লাখ টন। আর দেশে চিনির চাহিদা ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন। রপ্তানির সুযোগ দেওয়ায় উৎপাদনক্ষমতার পুরোটা এখন ব্যবহূত হবে এবং বছরে ১৮ থেকে ২০ লাখ টন চিনি রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
সিটি, এস আলম, মেঘনা, দেশবন্ধু ও আবদুল মোনেম লিমিটেড—এই পাঁচ চিনি পরিশোধন কারখানা বর্তমানে চালু রয়েছে। এর মধ্যে সিটি গ্রুপেরই ১৫ লাখ টনের সমান উৎপাদনক্ষমতা রয়েছে।
বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেন এর আগে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘রপ্তানির সুযোগ না থাকায় পুরো উৎপাদনক্ষমতা কারখানাগুলো কাজে লাগাতে পারছিল না। অথচ পরিশোধন কারখানাগুলো স্থাপনই করা হয় রপ্তানির বিষয়টি মাথায় রেখে।’
ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাংলাদেশ চিনি পরিশোধন কারখানা মালিক সমিতির মহাসচিব মহিউদ্দিন মোনেম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেরিতে হলেও সরকার একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আরেকটি পথ তৈরি হলো।’ লোকসান গুনতে গুনতে কারখানাগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রপ্তানির সুযোগে এখন কারখানাগুলো একটু নিশ্বাস নিতে পারবে।’
তবে চিনি রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হলেও কয়েকটি ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন দরকার বলে মনে করেন নিত্যপণ্যের বাজার পর্যবেক্ষণকারীরা। তাঁদের মতে, চিনি রপ্তানির সুযোগে বেশকিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির সংকট দেখা দিলে বা রমজানে দেশে চাহিদা বেড়ে গেলে কারখানাগুলো সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখবে কি না। দ্বিতীয়ত, কী পরিমাণ অপরিশোধিত চিনি রপ্তানির জন্য আনা হচ্ছে এবং কী পরিমাণ চিনি রপ্তানি হচ্ছে, সে বিষয়টি সরকারের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকবে কি না, যাতে ঘোষিত চিনির চেয়ে বেশি রপ্তানি করলে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তৃতীয়ত, রপ্তানির জন্য আনা অপরিশোধিত চিনির জন্য শুল্ক আদায়ের ব্যবস্থা। এর ফলে দেশের বাজারে চিনির দাম বাড়ারও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।







ABDUL MAJID QUAZI
২০১২.০৯.১২ ০৪:২৫Mohammad Nuruddin Jahangir
২০১২.০৯.১২ ১২:০৫Mahmud
২০১২.০৯.১২ ১২:০৮Naz
২০১২.০৯.১২ ১৪:০৩