চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম | তারিখ: ১২-০৯-২০১২

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে কর্তব্যরত প্রায় ৩০০ শিক্ষানবিশ চিকিৎসক গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।
এর আগে গতকাল বিকেলে ইসলামিয়া কলেজের ছাত্রদের হাতে মিজানুর রহমান নামের এক শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসক লাঞ্ছিত হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ও মেডিকেলের ছাত্ররা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
ইসলামিয়া কলেজের ছাত্ররা এস এম করিম নামের এক রোগীকে আহত অবস্থায় নিয়ে এসে ওয়ার্ডের ওই চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করে বলে জানা যায়। পরে চমেক হাসপাতালে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংগঠন ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ (আইডিএ) এক জরুরি সভায় বসে। সভায় বিভিন্ন দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রসঙ্গত, চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় ৩০০ শিক্ষানবিশ চিকিৎসক কর্মরত। এ প্রসঙ্গে আইডিএর আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী বলেন, ‘কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন (মঙ্গলবার রাত) থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এ ছাড়া চিকিৎসকের ওপর হামলায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে আগামীকাল (আজ বুধবার) মানববন্ধন কর্মসূচি দিয়েছি।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র পরিচয় দিয়ে একজনকে আহত অবস্থায় চমেক হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এ সময় ওই ছাত্রকে নিয়ে আসা ২০-২৫ জন ওয়ার্ডের ভেতরে ঢুকে দাঁড়িয়ে ছিল। চিকিৎসকেরা তাদের সেখান থেকে সরে যেতে বলেন। পরে তাঁরা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু করে দেয়। এ ঘটনার পর বিকেল পাঁচটার দিকে ওই ওয়ার্ডের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক মিজানুর রহমান ওয়ার্ড থেকে বের হয়ে আসার সময় ইসলামিয়া কলেজের ছাত্ররা এক পাশে ডেকে নিয়ে লাঞ্ছিত করে।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাকে তারা এক পাশে ডেকে নিয়ে থাপড় মারে। এ সময় আজিম নামের একজন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পরিচয় দেয়। পরে আমাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে এলে সুমন নামের আরেক মেডিকেল ছাত্রের মাথা ফাটিয়ে দেয় তারা।’
এ ঘটনার পর মিজানুর রহমান অন্যান্য শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ও সাধারণ ছাত্রদের বিষয়টি জানান। পরে তাঁরা লাঠি, হকিস্টিক নিয়ে ইসলামিয়া কলেজের ছাত্রদের ধাওয়া দেন। এ সময় দুই পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ক্যাম্পাসে যায়।
চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ইসলামিয়া কলেজের ছাত্ররা এক চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করে। পরে আমরা ও মেডিকেল ছাত্ররা তাদের ধাওয়া করে বাইরে বের করে দিই।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন