এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এইউডব্লিউ), চট্টগ্রাম
১০ আলোকচ্ছটা
এইউডব্লিউ-প্রথম আলো ‘ফার্স্ট ইন দ্য ফ্যামিলি’ বৃত্তিপ্রাপ্ত ১০ শিক্ষার্থী।
ছবি: সৌরভ দাশ
ওরা ১০ জন। সবাই অনগ্রসর পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী। তাঁদের পরিবারের কোনো নারীই এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে লেখাপড়ার সুযোগ পাননি। এবার তাঁরা এইউডব্লিউ ও প্রথম আলো ‘ফার্স্ট ইন দ্য ফ্যামিলি (পরিবারে প্রথম)’ বৃত্তির অধীনে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) স্নাতক পর্যায়ে লেখাপড়ার সুযোগ পেলেন। সারা দেশের প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী এ বৃত্তির জন্য আবেদন করেন। ১০ সেপ্টেম্বর তাঁদের মধ্য থেকে ১০ জনকে বাছাই করে চট্টগ্রামের এইউডব্লিউ ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
প্রথমবারের মতো চালু হওয়া এই বৃত্তির অধীনে এইউডব্লিউ সম্পূর্ণ বিনা খরচে তাঁদের লেখাপড়া করার সুযোগ দেবে এবং প্রথম আলো তাঁদের মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।
বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন: সিনথিয়া খোন্দকার, আকলিমা চৌধুরী, বিবি জয়নাব, মৌসুমি আলম, মেরিনা আফরিন, নূর-ই-জান্নাত, তাসলিমা খাতুন, শারমিন আক্তার, শারমিন আক্তার জাহান ও সাদিয়া ইসলাম।
সিনথিয়া খোন্দকার, ঢাকা
দুটি পরীক্ষাতেই জিপিএ-৫ পেয়েছেন সিনথিয়া। এসএসসি ঢাকার মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে আর এইচএসসি করেছেন বিসিআইসি কলেজ থেকে। তাঁর বাবা খোন্দকার শহিদুল ইসলাম দরজির কাজ করেন এবং মা রহিমা আকতার গৃহিণী। বাবার সামান্য আয় দিয়েই চলে সিনথিয়া ও তাঁর তিন ভাইয়ের পড়াশোনা এবং সংসার। ভাইদের একজন পড়ছেন কলেজে, একজন অষ্টম শ্রেণীতে ও অপরজন প্রথম শ্রেণীতে।
সিনথিয়া নিজেকে একজন অণুজীববিজ্ঞানী হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন। এর মাধ্যমে তিনি দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি ঘটাতে চান।
আকলিমা চৌধুরী, চাঁদপুর
চাঁদপুরের মেয়ে আকলিমা চৌধুরী ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন। আর নিজের কাজের মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশকে মানবিকতার দিক দিয়ে এগিয়ে থাকা দুর্নীতিমুক্ত একটি দেশ হিসেবে তুলে ধরতে চান।
আকলিমার বাবা আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বিজি প্রেসের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। মা রহিমা চৌধুরী গৃহিণী। তিন ভাইবোনের মধ্যে বড়। ছোট ভাই দশম শ্রেণীতে ও বোন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে।
আকলিমা পঞ্চম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ থেকে ‘এ’ প্লাস পেয়ে এসএসসি পাস করেন।
বিবি জয়নাব, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের বিবি জয়নাবের জন্মের আগেই মারা যান তাঁর বাবা আবদুস সোবহান। মা সালমা বেগম সংসারের হাল ধরেন। চার বোনের মধ্যে দুজন বিয়ে করেছেন। অপরজন উচ্চমাধ্যমিকে পড়ছে। মামা-চাচাদের আর্থিক সাহায্যে দুই বোনের পড়াশোনার খরচ চলতে থাকে। বিবি জয়নাব মনে করেন, এই বৃত্তি না পেলে তাঁর পক্ষে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হতো না।
রাউজানের সুলতানপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন বিবি জয়নাব। ভবিষ্যতে নেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, যার মাধ্যমে তিনি সামাজিক পরিবর্তনে অবদান রাখতে পারবেন।
মৌসুমি আলম, কুমিল্লা
‘তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গ্রামে থাকতাম। দাদু, ফুফুরাও বলতেন, মেয়েদের আর পড়াশোনার দরকার নেই। কিছুদিন পর বিয়ে দিয়ে দিতে হবে। কিন্তু আমার জেদ ছিল, পড়ালেখা আমি কিছুতেই বন্ধ করব না।’ কথাগুলো বলছিলেন কুমিল্লার মেয়ে মৌসুমি আলম। মা-বাবাসহ তাঁরা কুমিল্লা ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন। মৌসুমির পড়াশোনা শুরু হয় আবার। ঢাকার লালমাটিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন।
মৌসুমির মা নিলুফা খানম গৃহিণী। গ্রামের সামান্য জায়গাজমি আর বাবা মোরশেদ আলমের চুক্তিভিত্তিক চাকরিতে চলে তাঁদের সংসার। তিন ভাইবোনের মধ্যে বড় মৌসুমি। তাঁর স্বপ্ন, ভালো ফল করা এবং এরপর নিজের পরিবারকে সহযোগিতা করা, তাদের পাশে দাঁড়ানো।
মেরিনা আফরিন, যশোর
মেরিনা আফরিন যশোর মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার বিএফ শাহীন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন—দুটোতেই পেয়েছেন জিপিএ-৫। বাবা সিদ্দিকুর রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে অবসর নিয়েছেন। মা সখিনা রহমান গৃহিণী। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে দুই ভাই চাকরি করেন আর দুই বোন বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন। মেরিনার পড়াশোনা চলছিল ভাইদের রোজগারে।
মেরিনা ভবিষ্যতে ব্যাংকার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। অর্থনীতি নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার ইচ্ছে আছে।
নূর-ই-জান্নাত, শেরপুর
শেরপুরের নূর-ই-জান্নাত বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। শেরপুর নবারুন স্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ আর এইচএসসিতে শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে এ পেয়েছেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে বড় জান্নাত। জান্নাতের মা নূর-ই-ইয়াসমিন স্বাস্থ্য বিভাগে কাজ করেন, আর বাবা আবদুল করিম নিজেদের সামান্য কিছু জমিজমা দেখাশোনা করেন। জান্নাত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানে ভর্তি হলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পড়াশোনার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। এ বৃত্তি তাঁকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
তাসলিমা খাতুন, নেত্রকোনা
সংসারের অভাব-অনটন দেখে মন ভেঙে যায় নেত্রকোনার তাসলিমা খাতুনের। তার উচ্চমাধ্যমিক পড়ার মতো খরচ জোগানোও কঠিন ছিল। বাবা এ বি সিদ্দিক ছিলেন মৎস্য বিভাগের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। অবসর নিয়েছেন। ধারদেনায় জড়িয়ে পড়েন। জমিজমা বলতেও কিছু নেই তাদের। তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে বড় বোন বিয়ে করেছেন। পাশের বাড়ির একজন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পড়তেন। তাঁর কাছে খবর পেয়ে এখানে ভর্তির চেষ্টা করেন।
তাসলিমা ব্যাংকার হতে চান।
শারমিন আক্তার জাহান, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের মেয়ে শারমিন আকতার জাহান। ফটিকছড়ির হেয়াকোতে বাড়ি। মা-বাবার মতো আদর্শ শিক্ষক হতে চান। বাবা নুরুল আমিন মাস্টার প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে অবসর নিয়েছেন। মা শাহানারা বেগম এখনো শিক্ষকতা করছেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে ছোট শারমিন। তবে ভাইয়েরা সবাই বেকার। তাই এখনো সংসারের হাল মা-বাবার ওপরই। শারমিন হেয়াকো বনানী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন জিপিএ-৫ নিয়ে।
শারমিন আক্তার, ঢাকা
শিক্ষক হতে চান ঢাকার মেয়ে শারমিন আক্তার। কারণ, এ পেশার মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করার সুযোগ মেলে। ইসলামবাগ আশরাফ আলী উচ্চাবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও মেট্রোপলিস কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পান।
বাবা মো. শাহজাহানের ছোটখাটো একটি দোকান আছে। মা জামিলা খাতুন গৃহিণী। এক ভাই ও শারমীনসহ তিন বোন রয়েছে পরিবারে।
সাদিয়া ইসলাম, ঝালকাঠি
ঝালকাঠির সাদিয়া ইসলাম আজিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন জিপিএ-৫ পেয়ে। বাবা রেজাউল ইসলাম খান নিজেদের জায়গাজমি চাষবাস তদারকি করেন। মা বুশরা বেগম গৃহিণী। ছোট ভাই সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে।
সাদিয়া একজন সফল মানুষ হতে চান। বিশেষ করে অবহেলিত নারীদের জন্য কাজ করার ইচ্ছে আছে।







Sultan Mahmod Iqbal
২০১২.০৯.১২ ০৫:১৬Belal Uddin
২০১২.০৯.১২ ০৭:১৯Sudarsan Barua
২০১২.০৯.১২ ০৯:৫১From Thailand....
MASUD CHY.
২০১২.০৯.১২ ০৯:৫২Sharif Siddique
২০১২.০৯.১২ ১০:২০shawkat Ali
২০১২.০৯.১২ ১২:১৭