চি ঠি প ত্র
শিক্ষক নিয়োগ
সম্প্রতি নিবন্ধিত হওয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। উত্তীর্ণ হওয়া ৪২ হাজার শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষক ইতিমধ্যে নিয়োগ পেয়েছেন। ৩০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ পেতে এখনো বাকি। এরই মধ্যে সরকার দেশের সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পর্যায়ক্রমে সরকারীকরণের ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের সব প্যানেলভুক্ত শিক্ষকের জন্য এটি একটি সৌভাগ্যের ব্যাপার।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, বর্তমান সরকার উল্লেখ করে, রেজিস্টার্ড ২৬ হাজার বিদ্যালয় সরকারি হবে এবং বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে কর্মরত এক লাখ চার হাজার শিক্ষক সরকারের আওতায় আসবেন। কিন্তু রেজিস্টার্ড বিদ্যালয়ে নিয়োগের জন্য বর্তমান সরকারের নির্বাচিত বাকি ৩০ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ কি বৃথা যাবে? যদি তা-ই হয়, তবে নির্বাচিত ৩০ হাজার শিক্ষককে মেরে ফেলুন। এটাই হবে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার শিক্ষকের পরম পাওয়া। কেননা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা যে নিয়মে হয়, ঠিক সেই নিয়মে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে। নিয়মকানুনের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র ব্যবধান নেই। কাজেই বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারীকরণ হলে নির্বাচিত প্যানেলভুক্ত শিক্ষকেরা সরকারীকরণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার দাবিদার।
প্যানেলভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে অনেকের বয়স ৩০ বছর উত্তীর্ণ হয়েছে। যদি কোনো কারণে নির্বাচিত প্যানেলভুক্ত শিক্ষক নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে তাঁদের জীবন বৃথা যাবে। যেহেতু বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারীকরণ প্রক্রিয়াধীন, সেহেতু সরকারীকরণের আগেই প্যানেলভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হোক।
বর্তমান সরকার দেশকে ডিজিটাল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। সুতরাং প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ডিজিটাল করে প্রতি স্কুলে একজন করে শিক্ষক বাড়িয়ে চারজনের স্থলে পাঁচজন করলে প্যানেলভুক্ত শিক্ষকেরা সবাই নিয়োগ পেয়ে যান। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল তিন-চার মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত প্যানেলভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগদানের ব্যাপারে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাব্যঞ্জক। নির্বাচিত প্যানেলভুক্ত শিক্ষকেরা শেষ পর্যন্ত নিয়োগ পাবেন কি? যদি পান, তাহলে কত দিনের মধ্যে? এমতাবস্থায় আমরা প্রধানমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
মো. শফিকুল ইসলাম
কলাকুতা, তারাকান্দা, ময়মনসিংহ।
নিরক্ষরমুক্ত দেশ
৮ সেপ্টেম্বর দৈনিক প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যার শিরোনাম ছিল, ‘২০১৪ সালের মধ্যে তিন কোটি মানুষকে নিরক্ষরমুক্ত করার লক্ষ্য।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এখনো দেশের ১১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী তিন কোটির বেশি মানুষ নিরক্ষর।’ আরও বলা হয়েছে, ‘এখন দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এখন কেবল লিখতে পারলেই হবে না, পড়তে ও অনুধাবনও করতে হবে এবং অন্যকে ব্যাখ্যা করতে হবে।’ সরকার ২০১৪ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। তা হলে ২০১৪ সালের মধ্যে এই তিন কোটি মানুষকে নিরক্ষরমুক্ত করতে হবে। অন্যদিকে শুধু নাম লিখতে পারলেই হবে না, সেই সঙ্গে পড়তে হবে, অনুধাবন করতে হবে এবং অন্যের কাছে ব্যাখ্যা দিতে হবে। এই বিশাল পবিত্র কাজ বিশুদ্ধভাবে সমাপ্ত করতে গেলে শুধু সরকার নয়, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবার আগে যেটি প্রয়োজন, তা হলো শিশুকে বিদ্যালয়গামী করা। অর্থাৎ প্রাথমিক স্কুলগুলোতে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্রে বয়স্কদের নিরক্ষরতামুক্ত করার কাজটা করতে হবে নিরলসভাবে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে কাজ করার জন্য কলেজ ও হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের কাজে লাগানো যায়।
সঞ্জয় কুমার ভৌমিক
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, শ্রীমঙ্গল।
শিক্ষক নিবন্ধন
বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকেন। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, এ পরীক্ষায় পাসের হার অতি নগণ্য। এটা খুবই অস্বাভাবিক ব্যাপার। এর কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পরীক্ষা অত্যন্ত কঠিন প্রশ্নপত্রে নেওয়া হয়। অথচ বিসিএস ও অন্যান্য সরকারি চাকরির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ পরীক্ষায়ও এর মতো এত কঠিন প্রশ্নপত্র করা হয় না।
এ ছাড়া এই পরীক্ষায় নৈর্ব্যক্তিক ও রচনামূলক অংশে আলাদাভাবে ৪০ নম্বর করে পেয়ে পাস করতে হয়, যা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। চার বছর ধরে নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা শেষ করে একজন পরীক্ষার্থীর পক্ষে হঠাৎ করে পড়াশোনার বাইরে থেকে অন্য বিষয়ের ওপর পরীক্ষা দেওয়া খুবই কঠিন ব্যাপার। নৈর্ব্যক্তিক ও রচনামূলক অংশে আলাদাভাবে ৪০ নম্বর করে পেয়ে পাস করার শর্তই বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর প্রতিবছর অকৃতকার্য হওয়ার মূল কারণ।
কাজেই পরীক্ষার্থীদের বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে আলাদাভাবে পাসের নিয়ম বাদ দিয়ে নৈর্ব্যক্তিক ও রচনামূলক অংশ মিলিয়ে একত্রে পাস নম্বর ৮০ করার নিয়ম এ বছর থেকে কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষভাবে দাবি জানাচ্ছি।
উজ্জ্বল দাস পোদ্দার
ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






