জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

রেলে নিয়োগ-বাণিজ্য

| তারিখ: ১২-০৯-২০১২

  • ৯ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

কোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রেই যদি দুর্নীতি হয়, তবে সেই প্রতিষ্ঠান যে দুর্নীতিগ্রস্তদের আখড়ায় পরিণত হবে, তাতে সন্দেহ নেই। বাংলাদেশ রেলওয়ে সে পথেই হাঁটছে। এমনিতেই বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগের অন্ত নেই। এখন ঘুষ-বাণিজ্যের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া আরও হাজার খানেক কর্মী যোগ হবেন এই প্রতিষ্ঠানে। দুর্নীতি না করলে নতুন নিয়োগ পাওয়া এই কর্মীরা চাকরির জন্য দেওয়া ঘুষের টাকা তুলবেন কীভাবে! কী ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে এই প্রতিষ্ঠানের সামনে!
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে এটা পরিষ্কার হয়েছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ছয় বিভাগে এক হাজার ৬৯টি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অবৈধ বাণিজ্য হয়েছে। এর সঙ্গে যেমন রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন খাতা মূল্যায়নকারী কয়েকজন শিক্ষকও। নিয়োগ নিয়ে যে বাণিজ্য হয়েছে, তা বাংলাদেশ রেলওয়ে ও রেল মন্ত্রণালয়ের আলাদা তদন্তেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতির প্রমাণ মিললেও তা বাতিল করা হচ্ছে না কেন—এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে রেলওয়ের মহাপরিচালক যা বললেন, তা স্রেফ দায়িত্বহীনতা ছাড়া কিছু নয়। যদি এ বিষয়ে তাঁর কিছু না জানা থাকে, তিনি রেলওয়ের এই দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন কেন? জনগণের টাকায় বেতন-ভাতা নিচ্ছেন কেন?
বিভিন্ন পদে যে নিয়োগ হয়েছে, তার মধ্যে ট্রেড অ্যাপ্রেন্টিস পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৩৬৯ জনকে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এই পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রার্থীপ্রতি চার লাখ থেকে সাত লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় কী পরিমাণ ঘুষের লেনদেন হয়েছে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। বস্তাভর্তি লাখ সত্তর টাকা নিয়ে রেলমন্ত্রীর এপিএস, এক মহাব্যবস্থাপক ও রেল পুলিশের কমান্ড্যান্ট ধরা পড়ার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত মন্ত্রীকে সরে যেতে হয়েছে। সে সময়ই অভিযোগ উঠেছিল, নিয়োগ-বাণিজ্য থেকে পাওয়া অর্থই উদ্ধার হয়েছিল গাড়ি থেকে।
দুদক, রেলওয়ে ও মন্ত্রণালয়ের তদন্তে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ায় শুরুতেই যে কাজটি করা প্রয়োজন, তা হচ্ছে এই প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়োগ বাতিল করা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। এ ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই। কারণ, ঘুষ দিয়ে বা দুর্নীতির মাধ্যমে যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁরা কোনোভাবেই বৈধ হতে পারেন না।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির ব্যাপারে তারা শিগগিরই মামলা করতে যাচ্ছে এবং রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ২৫ জনসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা আশা করব, দুদক সর্বোচ্চ সক্রিয় হয়ে মামলাটি পরিচালনা করবে এবং রেলওয়ের এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে। এ ধরনের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করাও আমাদের দেশ ও সমাজের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Twohedul Azam

Twohedul Azam

২০১২.০৯.১২ ০৩:৩৪
Further to your comment about 70 lakhs taka being rescued from the car of Rail Minister's APS, I would like to know what happened to the driver Azam of that car, now I do not see any follow up news about that. I think it is important that we find out about Azam becuase he can give us important information about high level corruption in rail ministry. It is a mystery why Azam never came to media . If Azam is lost then who has kidnapped him? How powerful are they? Please give us some follow up reports on this.

shihab ahmed

shihab ahmed

২০১২.০৯.১২ ০৪:১৩
সুশাসনের অভাবে আওয়ামী লীগের দিন বদলের স্বপ্ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ভেস্তে গেছে। গত তিন বছরের অপশাসনে দেশ আজ রসাতলে যেতে বসেছে।পদ্মা ব্রীজ দুর্নীতি থেকে শুরু করে অতি সম্প্রতি সোনালী ব্যাংক ও রেলওয়েতে নিয়োগ বাণিজ্যের দুর্নীতি - একের পর এক কেলেঙ্কারী আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করছে। এখনই সচেতন না হলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের জন্য নিশ্চিত এক করুণ পরিণতি বয়ে আনবে।

Mahtaf Hossain

Mahtaf Hossain

২০১২.০৯.১২ ০৭:১২
ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ-প্রাপ্ত সকলকে চাকরি থেকে terminate করে নতুন স্বচ্ছ্ব নির্বাচনী পরীক্ষার মাধ্যমে রেলের লোকবল নিয়োগ দিতে হবে এবং এ প্রক্রিয়াটা মামলা করার আগেই করতে হবে, কেননা মামলা করা হ'লে তখন মামলার রায়ের অজুহাত দিয়ে এ-সব অবৈধ নিয়োগকে প্রলম্বিত করার পায়াতারা করা হবে।

Abdul Salam

Abdul Salam

২০১২.০৯.১২ ১০:১৮
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যারা দূর্নীতিতে জড়িত তাদের এমন শাস্তি দিন যাতে যাতে ভবিষ্যত সোনার বাংলা গড়তে আর কেউ বাধা হয়ে দাড়াতে না পারে।

Mofassel Uddin Ahmed

Mofassel Uddin Ahmed

২০১২.০৯.১২ ১১:৫৪
এমন নির্লজ্জ দূর্নীতি করলে একসময় একদল জনগন একমত হবে যে তারেক জিয়া খুব বেশী খারাপ ছিলেন না। তিনি দূর্নীতি করলেও প্রিয় নেতার সন্তান হিসেবে তার পকেটে কিছু টাকা এসেছে, মন্দ কি? আওয়ামী মহাজনেরা যেভাবে সার্বজনিন দূর্নীতি করছে তাতে কার আম কার ছালায় যাচ্ছে কে জানে।

Farhan

Farhan

২০১২.০৯.১২ ১১:৫৯
আমি বলে দিচ্ছি কি হবে!!! রেলওয়ের কিছু লোক বলির পাঁঠা হয়ে চাকুরী হারাবে। যারা অপেক্ষাকৃত ছোট চাকুরীজীবী শুধু তারা এই পরিস্থিতির শিকার হবে। অবশ্য তাদের কোন জেল জরিমানা হবে না। যারা রাঘব বোয়াল চাকুরীজীবী তাদের কিচ্ছু হবে না।

Masudur

Masudur

২০১২.০৯.১২ ১২:০৮
যারা ঘুষের বিনিময়ে চাকরী পেয়েছে, তাদের নিয়োগকে অবশ্যই বাতিল করতে হবে। কিন্তু আমার প্রশ্ন যারা ঐ ঘুষের টাকা নিয়েছে তাদের কাছথেকে কি ঘুষের টাকাগুলি আদায় করে যারা ঘুষ দিয়েছিল তাদেরকে ফেরত দেওয়া হবে কি না? এই দায়িত্বটা যদি সরকার না নেয় তাহলে তো বেচারাদের আম ও ছালা দুটিই গেল। যদিও তাদের আম ও ছালা দুটিই যাওয়া উচিৎ।

Khan Motiur Rahman

Khan Motiur Rahman

২০১২.০৯.১২ ১২:১৯
corruption in recruitment is not a new issue... we, the applicant of the posts know it . But we cant derive from applying for the post. Because , we r helpless. We need job for food. we just act in comedy..

Masudur

Masudur

২০১২.০৯.১২ ১২:৪৪
কখনই আমি আমার পূর্ণ কমেন্ট দেখতে পাই না। আমার পরের অংশটুকু ছিল যারা ঘুষের টাকা নিয়েছে তাদেরকি কি লঘু শাস্তি দিয়ে ছেড়ে দিলে তো তারা আম ঠিকই খেতে পারবে কারন যারা ঘুষ দিয়েছে তাদের এমন কোন খুটির শক্তি নেই যে ঘুষের টাকা আদায় করবে।