এফবিসিসিআইয়ের সাময়িকীর বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ

স্যামসন এইচ চৌধুরী সততার সঙ্গে ব্যবসা করার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ১২-০৯-২০১২

  • ২ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা স্যামসন এইচ চৌধুরীর ওপর এফবিসিসিআইয়ের বিজনেস নিউজ-এর বিশেষ সংখ্যার প্র

বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা স্যামসন এইচ চৌধুরীর ওপর এফবিসিসিআইয়ের বিজনেস নিউজ-এর বিশেষ সংখ্যার প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অতিথিরা

প্রথম আলো

পাবনার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে দেশের সবচেয়ে বড় শিল্পপতি হয়েছেন। সততার সঙ্গে ব্যবসা করার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তবে যত বড় ব্যবসায়ী ছিলেন, তার চেয়েও বড় মাপের মানুষ ছিলেন তিনি। দেশের প্রতি তাঁর দায়িত্ব ছিল। তিনি সবার কাছে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।
দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরীকে এভাবেই স্মরণ করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী, ব্যবসায়ী নেতা, বন্ধু ও স্বজনেরা। তাঁরা দেশের স্বার্থে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে স্যামসন এইচ চৌধুরীর কর্মজীবন ও নীতি-নৈতিকতা তুলে ধরারও আহ্বান জানান।
দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) গতকাল মঙ্গলবার ফেডারেশন ভবনে এই স্মরণসভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্যামসন এইচ চৌধুরীর কর্মজীবন নিয়ে এফবিসিসিআইয়ের প্রকাশিত বিজনেস নিউজ-এর বিশেষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘বর্ণাঢ্য ব্যবসায়ী হিসেবে সবাই তাঁকে চেনে। কিন্তু তিনি একজন বর্ণাঢ্য মানুষও ছিলেন। সেটা মানুষ জানে না। কারণ, তিনি ছিলেন প্রচারবিমুখ।’
অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, ‘স্যামসন এইচ চৌধুরী ছিলেন অমায়িক মানুষ। বয়সে আমার চেয়ে ১৮ বছরের বড় বলে তাঁকে প্রথম প্রথম ভাই ডাকতাম। কিন্তু তাতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছিলেন, “তোমার ভাই তোমার কাছেই রাখ। আজ থেকে শুধু স্যামসন ডাকবে।”’
মঞ্জুর এলাহী আরও বলেন, ‘এরপর ধীরে ধীরে আমরা অনেক কাছের বন্ধু হয়ে উঠি। প্রায় প্রতিদিনই তিনি খোঁজখবর নিতেন। বিপদে-আপদে সব সময়ই পরামর্শ দিতেন।’
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘স্কয়ারের সমসাময়িক সময়ে পাবনায় আরও দুটি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ছিল। সেগুলোর অস্তিত্ব আজ আর নেই। তবে স্কয়ার দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। স্যামসন চৌধুরী নিজের একাগ্রতার জন্যই এত বড় সাফল্য পেয়েছেন। আজকে তাঁর নীতিগুলো নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে পারলেই তাঁকে শ্রদ্ধা দেখানো হবে।’
এ কে আজাদ বলেন, ‘স্যামসন এইচ চৌধুরী প্রায় ৩৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানে তিনি করপোরেট সংস্কৃতি চালু করেছেন। তাই তিনি আজ না থাকলেও তাঁর প্রতিষ্ঠান কিন্তু থেমে নেই।’
স্যামসন এইচ চৌধুরীর ছেলে অঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘ব্যবসা যে সততার সঙ্গে করা যায় তিনি সেটি দেখিয়ে গেছেন।’
আরেক ছেলে তপন চৌধুরী বলেন, ‘নিয়মকানুনের দিক দিয়ে তিনি সব সময় কঠোর ছিলেন। মনের দিক থেকে তিনি দেশের মানুষের জন্য চিন্তা করতেন। তিনি প্রায়ই মাকে বলতেন, ওপরওয়ালা সুযোগ দিয়েছেন, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। সবাই তো সুযোগ পায় না।’
নাতনি আনিকা চৌধুরী বলেন, ‘আমার কর্মজীবনে প্রথম দিকেই আমি তাঁকে পেয়েছি। খুব অল্প সময়ে আমি তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। শুধু ব্যবসা না, মানুষের জন্য তিনি যা করেছেন সে জন্য তিনি আমার কাছে অনুপ্রেরণা।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি সিঙ্গাপুরের র‌্যাফেলস হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত রোগে স্যামসন এইচ চৌধুরী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সে সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

monir

monir

২০১২.০৯.১২ ১০:১৫
স্যামসন এইচ চৌধুরী যত বড় ব্যবসায়ী ছিলেন, তারচেয় বড় মাপের মানুষ ছিলেন তিনি।

ayub

ayub

২০১২.০৯.১২ ১৭:৪৪
Adviser and Minister ..... be careful. Don't attend any function.......... Remember Tanvir of Hall Marks...