এসিড-সন্ত্রাসের শিকার দুই বোনের পরিবার ভিটেমাটি ছাড়া!
নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের মতিপুর গ্রামে এসিড-সন্ত্রাসের শিকার দুই বোন ও তাদের পরিবার নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। পরিবারটি বসতভিটা ছেড়ে ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে একই গ্রামের নানাবাড়িতে।
কলেজছাত্রী সেলিনা আক্তারের ওপর এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামির মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। তাঁরা হলেন: মো. শাহজাহান ওরফে সুনাম (২২), ইয়াছিন আরাফাত ওরফে সজীব (১৮), মো. শরিফ ওরফে বিহারী শরিফ (১৯)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তে এজাহারভুক্ত ছয় আসামির মধ্যে তিনজনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে। ছোট বোন মাদ্রাসাছাত্রী ফারহানার ওপর এসিড নিক্ষেপের মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ায় গত ১ মে ভোররাতে বসতঘরে ঢুকে বড় বোন সেলিনা আক্তারের (১৭) ওপর এসিড নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। সেলিনা নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। এসিডে সেলিনার মুখের একাংশ ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।
পরিবারের পক্ষে সেলিনাকে ওই দিনই নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে একই দিন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার বনানীতে এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে এক মাস নয় দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে আসে সেলিনা।
প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে সেলিনা আক্তার বলে, ‘হাসপাতাল থেকে ফিরলেও অভিযুক্ত আসামিদের পরিবারের লোকজনের হুমকি-ধমকির কারণে পৈতৃক ভিটিতে থাকতে পারছি না। আমরা দুই বোন ও মা এখন চরম নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছি। তাই বাধ্য হয়ে নানাবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।’
এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কারা ভিকটিম ও তাঁর পরিবারের লোকজনকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেলিনাদের পরিবার প্রথম এসিড-সন্ত্রাসের শিকার হয় বিগত ২০১০ সালের ১৬ জুন। ওই দিন গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় মাদ্রাসাছাত্রী ফারহানা আক্তারের (১৪) ওপর এসিড ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। ওই সময় একই বিছানায় ঘুমানো বড় বোন রৌশনারা (২৪), শিশুপুত্র লিয়ান-বিন অভিও (৪) এসিডদগ্ধ হয়।
আসামি ইয়াছিন আরাফাত ও শাহজাহানের বিধবা মা ফয়েজুন্নেছা দাবি করেন, সেলিনার মামা নিজাম উদ্দিন ষড়যন্ত্র করে তাঁর দুই ছেলেকে এসিড নিক্ষেপ মামলায় জড়িয়েছেন। আগের মামলায়ও তাঁদের জড়ানো হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, একসঙ্গে দুই ভাই কি কোনো অপকর্ম করতে যেতে পারে? প্রথম এসিড নিক্ষেপ মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এমদাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফারহানার ওপর এসিড নিক্ষেপ মামলাটির বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাক্ষী গ্রহণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ টি এম মহিব উল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ফারহানার ওপর এসিড নিক্ষেপের মামলার ছয় আসামিই উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় এসিড নিক্ষেপের ঘটনার পর থেকে দুজন নিয়মিত হাজিরা দিলেও বাকিরা পলাতক।







fahim
২০১২.০৮.২৯ ১৮:০১