বাঘিনী জোলি, শিকারি পিট!
ব্র্যাড পিট আর অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। হলিউডের আলোচিত এ জুটিকে সবারই চেনার কথা। একসঙ্গে ঘর করছেন তাঁরা, পালন করছেন ছয়-ছয়টি সন্তানকেও। বিয়ের জন্য ইতিমধ্যেই আংটি বদল সেরে ফেলেছেন তাঁরা। কিন্তু কীভাবে অ্যাঞ্জেলিনাকে জয় করলেন ব্র্যাড পিট? বনের বাঘিনীকে যেভাবে শিকারির হাতে পড়তে হয়, সেভাবেই! অর্থাৎ জোলিকে পেতে অপেক্ষা করেছেন পিট, দীর্ঘ সে অপেক্ষা। সম্প্রতি পিট আর জোলির সম্পর্ক নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডেইলি এক্সপ্রেস।
পিটের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বরাতে ডেইলি এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সাত বছর ধরে একই ছাদের নিচে বাস করছেন পিট আর জোলি। কিন্তু তাঁরা বিয়ের মন্ত্র পড়েননি এত দিন! পিট অপেক্ষা করছিলেন, কবে জোলিকে বিয়ের জন্য ‘হ্যাঁ’ বলতে শুনবেন। সাত বছর পর তাঁর অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে। ব্র্যাড পিট যা করেছেন, তা হলিউডে আর কারোর পক্ষেই এভাবে করা সম্ভব নয়।
ব্র্যাড পিটের অসীম ধৈর্য নিয়ে তাঁর খুব কাছের বন্ধুটির মন্তব্য হচ্ছে, ব্র্যাড হলিউডের এমন একজনকে বেছে নিয়েছেন, যাঁকে বনের বাঘিনীর সঙ্গে তুলনা করা যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, তিনি হিংস্র সেই বাঘিনীকেও পোষ মানিয়েছেন। এই বাঘিনীর মধ্যে হিংস্রতার সব উপকরণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও পিট তাঁকে সামলানোর সব ধরনের মন্ত্রই রপ্ত করে নিয়েছেন।
জোলিকে হিংস্র বাঘিনীর সঙ্গে তুলনা করার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। কারণ জোলির অতীত। সেই ইতিহাস ঘাঁটলে অদম্য আর হিংস্র এক চরিত্রের ব্যাড গার্লের দেখা মিলবে, যে সহজে পোষ মানার নয়। দুই-দুইবার সংসার ভাঙা, ড্রাগ আর সম্পর্কের বিতর্ক যাঁকে ঘিরে থাকত, তাঁকে খাঁচায় আটকাতে দক্ষ শিকারিই হতে হয়।
অবশ্য ব্র্যাড খাঁচায় পুরেছেন জোলিকে—এটি না বলে হয়তো জেনিফার অ্যানিস্টনের কাছ থেকে ব্র্যাডকেই জোলি ছিনিয়ে নিয়ে গেছেন বলাই ভালো। কিন্তু এই চুরির ফল হয়েছে ভিন্ন। শিকারই ফাঁসিয়েছে শিকারিকে। ব্র্যাডকে চুরি করে নেওয়ার পর থেকেই জোলি যেন কেমন বদলে গেছেন। এতটাই বদলেছেন যে হলিউডের অনেকের কাছেই তা ঈর্ষণীয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, জোলির হিংস্র জীবনকে ব্র্যাড কোন মন্ত্রে বশে এনে সাত বছর ধরে তাঁর মন জয় করার অবকাশ পেলেন?
পিটের অন্তরঙ্গ সূত্রটি জানিয়েছে, তাঁর বন্ধুটি বেশ চতুর। শিকারি যেমন শিকার করার সময় তার শিকারকে বুঝতে দেয় না, নিজের মতো করে খেলতে দেয়, ব্র্যাড পিটও সেই সূত্র মেনে চলেছেন। জোলির মতো করেই তাঁকে থাকতে দিয়েছেন, তারপর ধীরে ধীরে উপলব্ধি থেকেই এসেছে এই পরিবর্তন। জোলি যেমনটি নন, তাঁকে তেমন করার কোনো চেষ্টাই করেননি পিট। সূত্রটি জানিয়েছে, পিট যা করেছেন, অনেকেই এটি করতে পারেন না বা সঙ্গীর মধ্যে জোর করে পরিবর্তন আনতে গিয়ে সম্পর্কটা নষ্ট করে ফেলেন। অনেকে তাল মেলাতে গিয়ে নিজেও পথ ভুল করেন। পিট এ ভুল করেননি। জোলিকে তাঁর নিজের মতো করে ভাবতে সুযোগ করে দিয়েছেন, তারপরই স্থিরতা এসেছে তাঁর মধ্যে। পরে যোগ হয়েছে সন্তান আর জোলির ক্যারিয়ারের বিষয়টি। জোলিকে তাঁর নিজের চারপাশের পৃথিবীকে নিজেই গড়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন পিট।
পিটের ঘনিষ্ঠ সূত্রটির মতে, ব্র্যাডের নিজের উপলব্ধি আর জোলিকে বুঝতে পারার ক্ষমতাই বশে এনে দিয়েছে বুনো এই বাঘিনীকে। বিশ্বস্ততা আর শর্তহীন সম্পর্কই জয়ী করেছে পিটকে। জোলির সাবেক প্রেমিকদের কেউই এ বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারেননি। জোলির নিজের চাওয়াটাও ছিল এমনই। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমি সব সময় ভালোবাসা চেয়েছি, যা হবে উদার আর হূদয় থেকে উত্সারিত। সে ভালোবাসায় বিশ্বস্ততা থাকতে হবে। কখনো যেন ভালোবাসার মধ্যে সামান্যতম ফাঁক না থাকে বা প্রতারণা না থাকে। আর তা হলেই আমাকে জয় করা যাবে।’
জোলির এ চাওয়া হয়তো অনেক বেশি কিছু আর স্বপ্নের রাজপুত্র চাওয়ার মতো বিষয় ছিল। কিন্তু ব্র্যাড পিট সব সময় পাশে থেকে জোলিকে তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য সমর্থন দিয়ে যেতে পেরেছেন। এই পাশে থাকাটাই জোলির বিশ্বাসকে জিতে নিয়েছে। ব্র্যাড পিটের কাছ থেকে দাতব্য কাজ আর আশ্রয়হীন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দীক্ষাও পেয়েছেন জোলি।
ধরাবাঁধা সম্পর্কে জড়ানোর মতো মানসিকতা কখনোই ছিল না জোলির। জোলি স্বীকার করেছেন, সম্পর্কের টানাপোড়েনে তাঁর যে সময় কেটেছে, এর পরিপূর্ণতা এসেছে পিটের হাত ধরেই। পিটই তাঁকে নিজেকে চিনতে শেখার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। জোলি বলেন, ‘এখন আমি যখন কোনো উৎপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াই, তখনই জীবনের একটা উদ্দেশ্য খুঁজে পাই। বিশ্বের একটা চিত্র আমার চোখের ওপর এসে পড়ে।’
নিজের বর্তমান অবস্থা, পিট আর নিজেকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে জোলি বলেন, ‘পিট আমাকে পুরোপুরি বুঝতে পারে। এই যে আমি, আমার সবকিছুই তাঁর জানার অধিকারে। আমি বলতে পারি, সে আমাকে ভালোবাসে। আমাকে আমার বাচ্চারাও খুব ভালোবাসে। তারা আমার দোষ-গুণ সম্পর্কে জেনে আমাকে আপন করে রেখেছে। আর এভাবেই আমি নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবি।’







আবদুল কারিম
২০১২.০৮.২০ ২০:৪৮
২০১২.০৮.২১ ০০:৪৬I suspect prothom-alo will not publish this criticism as they do very often. Thats another alarming trend against free spreech which they advocate.
zakir hossain
২০১২.০৮.২১ ১৪:৪৩Bm Raafie
২০১২.০৮.২১ ১৪:৫৪