শিরোনাম:

মুক্তিযোদ্ধা শাফায়াত জামিল আর নেই

অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: ১১-০৮-২০১২

  • ১০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) শাফায়াত জামিল বীর বিক্রম গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি... রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। খবর বাসসের।

শাফায়াত জামিলের ছোট ভাই সাদাকাত জামিল জানান, রাত দুইটা ১০ মিনিটে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, উত্তরার বাড়িতে জামিলের বুকে ব্যথা হওয়ায় তাঁকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু তাঁর অবস্থার অবনতি হলে মাঝপথে তাঁকে অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয়।
জামিল ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা নেতৃস্থানীয় বাঙালি সামরিক কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন।
তিনি স্ত্রী ও তিন ছেলে রেখে গেছেন। ছেলেদের মধ্যে দুজন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। তাঁর ছোট ছেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর।
জামিলের প্রথম জানাজা উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের কাছে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁর মরদেহ ঢাকা সেনানিবাসে নেওয়া হয়। সেখানে আল্লাহু মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁকে বনানীর কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ২৬ মার্চ কাল রাতে তাদের কুখ্যাত অপারেশন সার্চলাইট অভিযান শুরু করলে জামিল চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের (ডাকনাম বেবি টাইগারস) বাঙালি সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকদের নিয়ে বিদ্রোহ করেন। তিনি অক্টোবরের ১০ তারিখ পর্যন্ত ১১ নম্বর সেক্টরে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। পরে তিনি সিলেট সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
স্বাধীনতার পর জামিল লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি পান এবং বীর বিক্রম উপাধিতে ভূষিত হন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর সেনা অভ্যুত্থানে তিনি ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে সহায়তা করেন এবং খন্দকার মোশতাক আহমদের শাসনের বিরুদ্ধে বঙ্গভবনের দিকে অগ্রসর হন। ৭ নভেম্বর তাঁর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং খালেদ মোশাররফ নিহত হন। কর্নেল জামিল গ্রেপ্তার হন এবং তাঁকে অবসরে পাঠানো হয়।
জামিল সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এ এইচ করিমুল্লাহর ছেলে।
শাফায়াত জামিল ১৯৪০ সালের ১ মার্চ জন্ম নেন। তিনি ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কাবুলের পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে শিক্ষাগ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে কমিশন্ড লাভ করেন।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

dr kaes

dr kaes

২০১২.০৮.১১ ১৫:৪৭
innalillahi wainnailaihi rajeun.
উনি সাধারন মুক্তি যোদ্ধাদের প্রতি অনেক সহানুভূতিশীল ছিলেন। রঙাগণে শত্রুর মেশিনগানের সামনে যখন সাধারন মুক্তিযোদ্ধারা নির্বিচারে শহীদ হত উনি এ সকল দৃশ্য দেখে শিশুর মতো কাঁদতেন।

Syed Kamrul Huq

Syed Kamrul Huq

২০১২.০৮.১১ ১৬:১০
ওনার সাথে অনেক অপ্রকাশিত সত্যের সলিল সমাধি হল

২০১২.০৮.১১ ১৬:১৯
আমরা বাংলাদেশের একজন শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হারালাম। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

তালুকদার

তালুকদার

২০১২.০৮.১১ ১৬:৩০
এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে আমার সালাম! আল্লাহ্ তুমি তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসে স্তান দিও।এবং প্রত্যেক মরহুম মুক্তিযোদ্ধাদেরকে তাদের কবর আজাব থেকে আসান করে দিও আমিন।

Shafiqul Islam

Shafiqul Islam

২০১২.০৮.১১ ১৬:৪১
ওনার সাথে অনেক অপ্রকাশিত সত্যের সলিল সমাধি হল। কেন যে তিনি চুপ করে ছিলেন !
২০১২.০৮.১১ ১৭:০৯
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ২৬ মার্চ কাল রাতে তাদের কুখ্যাত অপারেশন সার্চলাইট অভিযান শুরু করলে জামিল চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের (ডাকনাম বেবি টাইগারস) বাঙালি সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকদের নিয়ে বিদ্রোহ করেন। তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না। জাতির এই-শ্রেষ্ঠ সন্তানকে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে আমার সালাম স্যালুট। সাথে সাথে অনেক অপ্রকাশিত সত্যের সলিল সমাধি হল। ওনার আত্মার শান্তি কামনা করছি।

S. Arefin

S. Arefin

২০১২.০৮.১১ ১৮:১১
amar priyo ekjon manush mara gelen.

Muzibur rahman

Muzibur rahman

২০১২.০৮.১১ ২০:১৬
Real hero of liberation war,

Mustafiz Rahman

Mustafiz Rahman

২০১২.০৮.১১ ২১:২১
বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) শাফায়াত জামিল বীর বিক্রমকে বিদায়ী স্যালুট জানাই । তার বিদেশী আত্নার শান্তি কামনা করি ।

Ajabul Morfud

Ajabul Morfud

২০১২.০৮.১১ ২২:৫৭
শুনেছিলাম, কর্নেল শাফায়াত জামিল ৩ নভেম্বর, ১৯৭৫-এ আঙ্গুল নাচিয়ে কথা বলতে বলতে এগিয়ে যেয়ে কূচক্রী খন্দকার মুস্তাককে খাপ্পর মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দিয়েছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বীর বিক্রম খেতাবধারী বীরের মতই কাজ করে ছিলেন । তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।