পদ্মা সেতুতে মালেয়শিয়ার অর্থায়ন প্রসঙ্গে
আলোচনার পরই অনেক কিছু পরিষ্কার হবে : কাদের
যোগাযোগ ও রেলমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যাপারে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আমাদের একটি স্মারক ও সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। স্মারক স্বাক্ষর মানেই চুক্তি স্বাক্ষর নয়। জাতীয় ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাইয়ের পরই চুক্তি স্বাক্ষর হবে। আগামী মাসের ৫ তারিখে মালয়েশিয়া সরকারের প্রতিনিধিদল আসবে। তাদের সঙ্গে আলোচনার পরেই অনেক কিছু পরিষ্কার হবে।
আজ বুধবার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পাগলা পুরোনো সড়ক ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড (সংযোগ) পরিদর্শন করে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পদ্মা সেতুর ব্যাপারে কোরিয়া ও চায়না থেকেও আমাদের কাছে প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু প্রস্তাব এলেই তা গ্রহণ করা হবে না। এ নিয়ে অনেক আলোচনা ও পর্যালোচনা প্রয়োজন। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছেন, এ সরকারের আমলে এমনকি এ অর্থবছরের মধ্যেই প্রয়োজনে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এ সরকার সেতু নির্মাণের জন্য বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা রেখেছে। কিন্তু তার পরও পদ্মা সেতু নিয়ে একই কথা বারবার হচ্ছে। একেকজন একেক কথা ভিন্নভাবে কথা বলছেন। এতে করে দেশের মানুষ বিরক্ত ও বিভ্রান্ত হচ্ছে। মানুষ বিরক্ত হয় এসব বিভ্রান্তিমূলক কথা বারবার বলা ঠিক না। এ ব্যাপারে কথা কম বলে কাজে বেশি মনোনিবেশ করা উচিত। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর দিনক্ষণ ঠিক না হলে এ সম্পর্কে কথা বলা উচিত হবে না। কারণ, আমি এর আগে পদ্মা সেতু সম্পর্কে যেসব কথা বলেছি, এখন নতুন করে বলার মতো কোনো অবস্থার সৃষ্টি হয়নি।’
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৭ জুলাই ঢাকার যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের কাজ চলার কারণে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি রোধে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রামসহ মহাসড়কের যান চলাচলের জন্য বিকল্প তিনটি রুটের প্রস্তাব দেন যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ওই তিনটি রুটের একটি হলো ঢাকার পোস্তগোলা হয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পাগলা পুরোনো সড়ক দিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। বিকল্প এ দুটি সড়ক দিয়ে দিয়ে যানবাহন ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যেতে পারবে। মন্ত্রী জানান, তিনি মূলত এ সড়ক পরিদর্শন করতে এসেছেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সড়ক চলাচলের উপযোগী করতে কাজ করে যাচ্ছে। একসময় নারায়ণগঞ্জ-পাগলা সড়ক চলাচলের উপযোগী ছিল না। সেটা এখন উপযোগী করা হয়েছে। সড়কের পাশের কাঁচা বাজার ও আবর্জনা না রাখতেও তিনি লোকজনকে অনুরোধ করেন। এ ছাড়া তিনি রাস্তার পাশে ট্রাকসহ অন্য যান পার্কিং করে যানজট সৃষ্টি না করারও আহ্বান করেন। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পাগলা এলাকায় ট্রাক টার্মিনাল স্থাপনের অনুরোধ জানান মন্ত্রীর কাছে। ঈদের আগে রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং না করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সৈয়দ মেহেদী হাসান ও সহকারী পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) আশরাফুজ্জামানকে নির্দেশ দেন।
এ সময় মন্ত্রী ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পাগলা সড়কে চলাচল করা কয়েকটি গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করেন। তিনি কয়েকটি বাসের চালকের কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চান। এ সময় ওইসব বাসের চালক তাঁদের লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট দেখাতে ব্যর্থ হলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।







kader
২০১২.০৮.০১ ২২:০৪