তদন্ত প্রতিবেদনে তথ্য, মামলার প্রস্তুতি দুদকের
৩০০০ কোটি টাকা সরিয়েছেন ডেসটিনির পরিচালকেরা
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সোয়া তিন হাজার কোটি টাকা নিজেদের নামে তুলে নিয়েছেন ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিস্তারিত তদন্ত শেষে তিন হাজার ২১৮ কোটি ৩৮ লাখ ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তরের প্রমাণ পেয়েছে।
গতকাল বুধবার কমিশনে জমা দেওয়া চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য রয়েছে। মূলত ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এবং ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের মাধ্যমে আদায় করা অর্থই ছিল ডেসটিনি গ্রুপের মূলধনের মূল উৎস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি না মেনে ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সময়ে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির এক হাজার ১১১ কোটি ৭৩ লাখ ৫৫ হাজার ৮৭৫ টাকা ঋণ, লভ্যাংশ ও কমিশন আকারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ এবং নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে লেনদেন করে ডেসটিনি গ্রুপের পরিচালকেরা মানি লন্ডারিং আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
এ ছাড়া ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের জন্য সংগ্রহ করা দুই হাজার ৩৩৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে মাত্র ২২৯ কোটি ১০ লাখ দুই হাজার টাকার দালিলিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাকি দুই হাজার ১০৬ কোটি ৬৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা। তাঁরা এ অর্থ বেতন-ভাতা, সম্মানী, লভ্যাংশ, বিশেষ ভাতা বা কমিশন আকারে নিয়েছেন। সব মিলিয়ে তাঁরা নিয়েছেন তিন হাজার ২১৮ কোটি ৩৮ লাখ ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা। তদন্তের সময় জব্দ করা ডেসটিনির নথিপত্র থেকে দেখা গেছে, ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের গোল্ডেন প্যাকেজ, প্রিমিয়ার প্যাকেজ, ক্ল্যাসিক প্যাকেজ, সিলভার প্যাকেজ, সুপার সিলভার প্যাকেজ ও সুপার গোল্ড প্যাকেজসহ ২৬ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮৩টি প্যাকেজে পাঁচ কোটি ৪৮ হাজার ৮৫টি গাছ বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে আট লাখ ৪৯ হাজার ৪৬৪টি গাছের ক্ষেত্রে সনদ দেওয়া হয়েছে। বাকি গাছের কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।
যদিও তদন্তের সময় ট্রি প্ল্যান্টেশনের পক্ষ থেকে ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৮০টি গাছ লাগানোর দাবি করা হয়েছে, যার বিক্রীত মূল্য ২৯৮ কোটি ৯৮ লাখ ১৬ হাজার টাকা বলে হিসাবে দেখানো হয়েছে। তার পরও জনগণের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ হয় দুই হাজার ৩৬ কোটি ৭৬ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেকার এক ভুয়া চুক্তি অনুযায়ী ট্রি প্ল্যান্টেশনের কমিশন বাবদ ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড এক হাজার ৩৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ৮৭ হাজার ৬৪০ টাকা সরিয়ে নিয়েছে। ভুয়া খরচ হিসেবে দেখানো হয়েছে ২১৪ কোটি ৯৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই ট্রি প্ল্যান্টেশন থেকে কোনো ধরনের লাভ না হওয়া সত্ত্বেও লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছে ছয় কোটি ৬০ লাখ টাকা, যার পুরোটাই পরিচালকদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে গেছে। আর ট্রি প্ল্যান্টেশনের নামে ব্যাংকের স্থিতি হিসাবে রয়েছে মাত্র ১০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
ট্রি প্ল্যান্টেশনের মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার জন্য দুদক যাঁদের অভিযুক্ত করেছে তাঁরা হলেন, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড ও ট্রি প্ল্যান্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও ট্রি প্ল্যান্টেশনের চেয়ারম্যান এম হারুন অর রশিদ, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন এবং পরিচালক মোহাম্মদ গোফরানুল হক, মোহাম্মদ সাইদ উর রহমান, মো. মেজবাহউদ্দিন, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, ইরফান আহমেদ, ফারাহ দীবা, জামসেদ আরা চৌধুরী, শেখ তৈয়ুবুর রহমান, নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক।
অন্যদিকে ডেসটিনি মাল্টিপারপাসের হিসাব থেকে ২৭০ কোটি ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৮২৪ টাকা ঋণ হিসেবে ১৪টি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়েছে। ডায়মন্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের ৮৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ দেখানো হলেও বাস্তবে ওই প্রতিষ্ঠানে মাত্র নয় কোটি ৫৮ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫ টাকা বিনিয়োগের দালিলিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। একইভাবে কোনো ধরনের লাভ না হওয়া সত্ত্বেও ডায়মন্ড বিল্ডার্স থেকে ৬৮ কোটি ৮৭ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা লভ্যাংশ তুলে নিয়েছেন পরিচালকেরা। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের অনিয়ম করে শুধু ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ১৪৭ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা লভ্যাংশ নিয়েছেন তাঁরা।
জনগণের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের জন্য ১১ লাখ ৯৭ হাজার ৩১৬টি শেয়ার সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ১৩ হাজার ৬৫টি শেয়ার সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে। বাকি ১১ লাখ ৭১ লাখ ১৮৬টি শেয়ার ইস্যু না করেই জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন পরিচালকেরা। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের ব্যাংক হিসাবে ও নগদ তহবিলে মাত্র এক কোটির কিছুর বেশি টাকা অবশিষ্ট রয়েছে।
অন্যদিকে ২০০৯-১০ বছর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৭৩৩ কোটি ৩১ লাখ ২৯ হাজার ৬৪৩ টাকা কমিশন হিসেবে সরিয়ে নিয়েছে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের পরিচালকেরা। এ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন: রফিকুল আমীন, মোহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ গোফরানুল হক, সাইদ উর রহমান, মেজবাহউদ্দিন স্বপন, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, ইরফান আহমেদ, ফারাহ দীবা, জামসেদ আরা চৌধুরী, শেখ তৈয়ুবুর রহমান, নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক দিদারুল আলম, সম্পাদক জাকির হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আজাদ রহমান, কোষাধ্যক্ষ আকবর হোসেন, সদস্য আবুল কালাম আজাদ, শিরীন আক্তার, রফিকুল ইসলাম সরকার, মুজিবুর রহমান, সুমন আলী খান ও সাইদুল ইসলাম খান।
ব্যক্তি হিসোবে টাকা: তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এম হারুন অর রশিদের ব্যাংক হিসাবে পাঁচ কোটি ৮৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা, রকিফুল আমীন ও ফারাহ দীবার ব্যাংক হিসাবে আট কোটি ৩৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, মোহাম্মদ হোসেনের হিসাবে এক কোটি ২৪ লাখ, মোহাম্মদ গোফরানুল হকের হিসাবে দুই কোটি ৫০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, মো. সাইদুর রহমানের হিসাবে ছয় কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার টাকা, মো. মেসবাহ উদ্দিনের হিসাবে তিন কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা, শেখ তৈয়ুবুর রহমান ও সেলিনা রহমানের ব্যাংক হিসাবে ছয় কোটি ৮৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনের ব্যাংক হিসাবে ৪৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, মো. ইরফান আহমেদ সানীর হিসাবে ৩৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা, নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস ও মিতু রানী বিশ্বাসের ব্যাংক হিসাবে ৩২ লাখ ২৫ হাজার টাকা জমা রয়েছে।
এ ছাড়া তাঁদের সবার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে ঋণ, লভ্যাংশ ও কমিশন হিসাবে এক হাজার ১৭৮ কোটি ৬১ লাখ ২৩ হাজার ২৪ টাকা অবৈধ উপায়ে স্থানান্তরের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।







Zaman Ibne Hanif
২০১২.০৭.২৬ ০২:৩৫Md. Aminul Islam Opu
২০১২.০৭.২৬ ০৩:৩৮Mahbubul Hoque
২০১২.০৭.২৬ ০৫:১২Abm Asaduzzaman
২০১২.০৭.২৬ ০৫:৩১sheikh shohel
২০১২.০৭.২৬ ০৫:৪৫nadimul karim
২০১২.০৭.২৬ ০৭:০২Rajib Hasan
২০১২.০৭.২৬ ০৭:৪৯f.net
২০১২.০৭.২৬ ০৮:০৬Eyaqub
২০১২.০৭.২৬ ০৮:২১Md Arifuzzaman
২০১২.০৭.২৬ ০৮:২৪দেলোয়ার হোসেন
২০১২.০৭.২৬ ০৮:৩৭সরকারের কাছে আমাদের বিনীত আবেদন, ডেসটিনিতে বিনিয়োগকৃত আমাদের লাখ লাখ আমানতকারীর আমানত ফিরিয়ে দিবার ব্যবস্থা করে দিন।
Mazedul Hoque
২০১২.০৭.২৬ ০৮:৪৩Selim Saroar
২০১২.০৭.২৬ ০৮:৪৪Meer Hossain
২০১২.০৭.২৬ ০৯:০৪পঙ্কজ নাথ Pankaj Nath
২০১২.০৭.২৬ ০৯:০৭প্রকৌশলী মো. মিনহাজুল ইসলাম
২০১২.০৭.২৬ ০৯:১৫Md Jamal Hossain
২০১২.০৭.২৬ ০৯:২০Rohan Issan
২০১২.০৭.২৬ ০৯:২০শফিক,চরটেকী-পাকুন্দিয়া,কিশোরগঞ্জ
২০১২.০৭.২৬ ০৯:২১Tarique Bin Shahid
২০১২.০৭.২৬ ০৯:৪২Now they should save this money & return any how
monir
২০১২.০৭.২৬ ০৯:৫১A.K. Azad
২০১২.০৭.২৬ ০৯:৫৭Nurul Huda
২০১২.০৭.২৬ ১০:০৬amjad khan
২০১২.০৭.২৬ ১০:১২Md. Nurul Islam
২০১২.০৭.২৬ ১০:২৫Bayezid Hossain
২০১২.০৭.২৬ ১০:২৫Sharif Uddin Ahmed
২০১২.০৭.২৬ ১০:২৬Jahangir Hossain
২০১২.০৭.২৬ ১০:৩০Shakhawat Hossain
২০১২.০৭.২৬ ১০:৩৫AMIR HOSSAIN
২০১২.০৭.২৬ ১০:৩৭
২০১২.০৭.২৬ ১০:৪২আলী আহাম্মেদ ( সুমন )
২০১২.০৭.২৬ ১০:৪২Mohammad Jabul Hossen
২০১২.০৭.২৬ ১০:৪৮Mohammad Jabul Hossen
২০১২.০৭.২৬ ১০:৫১Murad
২০১২.০৭.২৬ ১১:০১MD IMRUL HASAN
২০১২.০৭.২৬ ১১:০৬সব্যসাচী
২০১২.০৭.২৬ ১১:১৬MMR Sarker Miraj
২০১২.০৭.২৬ ১১:২৩Arifur Rahman
২০১২.০৭.২৬ ১১:৩৫Eyaqub
২০১২.০৭.২৬ ১১:৪১monir
২০১২.০৭.২৬ ১১:৫৩Rohan Issan
২০১২.০৭.২৬ ১১:৫৯ali
২০১২.০৭.২৬ ১২:০৭Mujeeb
২০১২.০৭.২৬ ১২:১৯tea leaf
২০১২.০৭.২৬ ১২:২১Golam Mostofa
২০১২.০৭.২৬ ১২:৩৩Hotobak Bashar
২০১২.০৭.২৬ ১২:৪১Shohag Ahmed
২০১২.০৭.২৬ ১২:৪১ABDUL MAJID QUAZI
২০১২.০৭.২৬ ১২:৪২M.R KARIM
২০১২.০৭.২৬ ১২:৫৩Md. S.K.Nasim
২০১২.০৭.২৬ ১২:৫৪asraful alom
২০১২.০৭.২৬ ১২:৫৬সুমন আহাদ
২০১২.০৭.২৬ ১২:৫৮মঈন উদ্দিন
২০১২.০৭.২৬ ১৩:০০A. R. M. Shamsur Rahman
২০১২.০৭.২৬ ১৩:০৯Md. S.K.Nasim
২০১২.০৭.২৬ ১৪:০৩M.A. Jibon khan
২০১২.০৭.২৬ ১৪:২৪Tuhin
২০১২.০৭.২৬ ১৪:৩১এরা সবাই দেশপ্রেমিক, দেশের সম্মান রাখতে এরা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন !! এটা একমাত্র আওয়ামী লীগ আমলেই সম্ভব। আমাদের সেই সাহস আছে!
SR Taufiq
২০১২.০৭.২৬ ১৪:৩৪Ratan Adhikary Ratul
২০১২.০৭.২৬ ১৪:৩৯Mohiuddin Maswood
২০১২.০৭.২৬ ১৪:৪৩Akhteruzzaman Kujan
২০১২.০৭.২৬ ১৫:২৫S.M. Alamin Hossain
২০১২.০৭.২৬ ১৫:৩৪mahmud hasan
২০১২.০৭.২৬ ১৬:১৮MD. EHSAN TAHMID KHAN
২০১২.০৭.২৬ ১৬:২২Aurko
২০১২.০৭.২৬ ১৭:২৬Golam Nabi Khan
২০১২.০৭.২৬ ১৮:০৮A. M RANA
২০১২.০৭.২৬ ২৩:০৪