শিরোনাম:

এইচএসসি ’১২ অদম্য মেধাবী

কথা রেখেছেন তাঁরা

প্রথম আলো ডেস্ক | তারিখ: ২১-০৭-২০১২

  • ৪ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
  • খুরশিদা পারভিন, লিটন মিয়া,	রোজিনা আক্তার, সত্যজিত রায়, উত্তম কুমার ও সুমী আক্তার

    খুরশিদা পারভিন, লিটন মিয়া, রোজিনা আক্তার, সত্যজিত রায়, উত্তম কুমার ও সুমী আক্তার

  • নাজমিন বেগম, চন্দ্র শেখর, ইকরা সুলতানা ও জয়ন্তী রায়

    নাজমিন বেগম, চন্দ্র শেখর, ইকরা সুলতানা ও জয়ন্তী রায়

‘কাকা, আমি প্রথম আলোর কথা রেখেছি। পত্রিকার সবাইকে জানিয়ে দেবেন, আমি জিপিএ-৫ পেয়েছি।’ গত বুধবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মুঠোফোনে এভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সাতক্ষীরার পশ্চাৎপদ উপজেলা আশাশুনির উত্তম কুমার সরদার।
ইচ্ছা থাকলে অভাব-অনটন যে কোনো বাধা নয়, তা আবারও প্রমাণ করলেন উত্তমসহ আরও অনেকে।
২০১০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিকূলতা পেরিয়ে জিপিএ-৫ পান তাঁরা। অদম্য ওই মেধাবীদের সাফল্যের কথা প্রকাশিত হয় প্রথম আলোয়। তাঁদের মধ্য থেকে ৫০ জনকে বাছাই করে শিক্ষাবৃত্তি দেয় ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী তহবিল। ওই অদম্য মেধাবীদের অনেকে এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের এগিয়ে যাওয়ার কথা শুনব আজ:
দুই বছর আগে উত্তমসহ শতাধিক অদম্য মেধাবীকে ঢাকায় সম্মাননা দেওয়া হয় ওই তহবিলের পক্ষ থেকে। ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে ডাকা হয় উত্তমকে। উত্তম তুলে ধরেন তাঁর অভাবী পরিবারের দিন না-চলার চিত্র। কষ্টের গল্প। পরে উত্তম মাকে নিয়ে গান করেন। ‘যখন রাত্রি নিঝুম, নেই চোখে ঘুম একলা শূন্য ঘরে, তোমায় মনে পড়ে মাগো, তোমায় মনে পড়ে...’ গানটি অশ্রুসিক্ত করে সবাইকে। সেই উত্তম এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উত্তমের মতো আরেকজন সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকার নাজমিন বেগম। বুধবার ফল ঘোষণার পরই বাবাকে নিয়ে আসেন প্রথম আলোর সিলেট কার্যালয়ে। নাজমিন বলেন, ‘আমি পেরেছি...আবারও দেখিয়ে দিলাম!’
নাজমিনের বাবা রফিক উদ্দিন রাজমিস্ত্রি। লেখাপড়ার খরচ চালাতে না পেরে ২০০৭ সালের ১৯ মার্চ একজন প্রবাসীর সঙ্গে নাজমিনের বিয়ে দেন। শ্বশুরবাড়ির বাধা সত্ত্বেও ২০১০ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেন নাজমিন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পান জিপিএ-৫। স্বামীর বারণ সত্ত্বেও ভর্তি হন কলেজে। স্বামী বললেন, হয় সংসার, নয় পড়াশোনা। তালাক দিয়ে পড়াশোনাকেই বেছে নেন নাজমিন। সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। এখন তিনি স্বপ্ন দেখেন চিকিৎসক হওয়ার।
নাজমিনের মতো চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রোজিনা আক্তার, গাইবান্ধার চন্দ্রশেখর চৌহান, নীলফামারীর সৈয়দপুরের জয়ন্তী রায় ও কিশোরগঞ্জের মো. লিটন মিয়া।
তাঁদেরই একজন চন্দ্রশেখর চৌহান বলেন, ‘২০১০ সালে প্রথম আলো আমার পাশে দাঁড়ায়। এখন কে দাঁড়াবে? তাহলে কি চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যাবে।’
অদম্য মেধাবী জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার খুরশিদা পারভীন পলি ও রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার সত্যজিৎ রায় চান প্রকৌশলী হতে। এর মধ্যে খুরশিদার গ্রাম পুলিশ বাবা আবদুল জলিল বেঁচে নেই। সত্যজিতের বাবা ক্ষিতীশ চন্দ্র রায় ক্ষুদ্র মুড়ি ব্যবসায়ী। খুরশিদার বড় বোন জলি ২০০৭ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান। তাঁর মা সাজেদা বেওয়া বলেন, ‘প্রথম আলো পাশে না থাকলে আমার মেয়ে দুটি এত দূর আসত না।’
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মৃত শাহ আলমের মেয়ে ইকরা সুলতানা ও কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শহীদুল্লাহর মেয়ে সুমী আক্তার চান বড় ব্যাংকার হতে।
[প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা; সাইফুল হক মোল্লা, কিশোরগঞ্জ; উজ্জ্বল মেহেদী, সিলেট; গাজীউল হক, কুমিল্লা; শাহাবুল শাহীন, গাইবান্ধা; ইব্রাহিম খলিল, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম); রমেশ কুমার পার্থ, নান্দাইল (ময়মনসিংহ); আজিজার রহমান, ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট); আলতাফ হোসেন, বদরগঞ্জ ও (রংপুর); এম আর আলম, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি]

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

tito

tito

২০১২.০৭.২১ ০৪:২২
go ahead.

Sharmin Akhter

Sharmin Akhter

২০১২.০৭.২১ ০৯:৫৭
Congrats to all.

khalilurcrp rahman

khalilurcrp rahman

২০১২.০৭.২১ ১৪:৪৪
keep it up and go ahead

Nur Alam

Nur Alam

২০১২.০৭.২১ ২০:২১
Congratulations to All, Go ahead Bangladesh is waiting for all of you