ধর্ষককেই বিয়ে করতে চান তিনি
মাত্র চার দিন আগে রাজকুমারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। যে থানায় অভিযোগ করেন, সেই থানাতেই গিয়েই তিনি অভিযোগ তুলে নেন। শুধু তা-ই নয়, এখন ধর্ষক রাজকুমারকেই বিয়ে করতে চান।
গত বুধবার গুজরাটের আহমেদাবাদের নদীয়াতে অন্তঃসত্ত্বা নারীটি থানায় যান। সেখানে তিনি স্থানীয় পুলিশ কনস্টেবলের ছেলে রাজকুমারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি নদীয়াতেই বসবাস করেন। ওই অন্তঃসত্ত্বা নারী অভিযোগ করেন, রাজকুমার তাঁকে অপহরণ করে নদীয়ার নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। আর সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করেন।
ওই নারী আরও অভিযোগ করেন এর আগে রাজকুমার সন্তানের জন্ম দেওয়ার জন্য তাঁর গর্ভ ভাড়া করেন। তবে পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, পুলিশ কনস্টেবল রাজকুমার বিবাহিত। স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়েছে।
পুলিশের অপরাধ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার একে শর্মা জানান, নারীটি রাজকুমারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে নিলেও আরও বেশ কয়েকটি বিষয়ে তদন্ত চলতে পারে। তিনি বলেন, পুলিশকে তদন্ত করে দেখতে হবে অন্যের সন্তানকে গর্ভে ধারণকারী ওই মায়ের প্রথম সন্তানটি কীভাবে মুম্বাইতে সন্তানহীন এক দম্পতির কাছে গেল। আর কীভাবে সেই সন্তানকে টাকার জন্য বিক্রি করা হলো। আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন থেকে নেওয়া ওই শিশুটির জন্মনিবন্ধনপত্র সম্পর্কেও অনুসন্ধান চালিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।
পুলিশ জানায়, অন্যের সন্তানকে গর্ভে ধারণকারী ওই মায়ের দাবি অনুযায়ী, তাঁর প্রথম সন্তান ২০১১ সালে শহরের এক হাসপাতালে জন্ম নেয়। তাহলে সেই শিশুর জন্ম সম্পর্কে ওই হাসপাতালে রেকর্ড থাকার কথা। সেই রেকর্ডে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখতে হবে শিশুটি অন্য দম্পতির কি না। ওই নারী সত্যিই তাঁকে শুধু গর্ভে ধারণ করেছিলেন কি না। যদি তা না হয়, তাহলে শিশুটির বাবা কে সেটিও জানতে হবে।
অন্তঃসত্ত্বা নারীটি এখন দাবি করছেন, তিনি অন্য দম্পতির সন্তান গর্ভে ধারণ করেছেন। সন্তানহীনা এক দম্পতির জন্য তিনি দ্বিতীয়বারের মতো তাঁর গর্ভ ভাড়া দিয়েছেন। চিকিত্সক ভরত অতীত পুলিশকে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে পুলিশ এখন নারীটির প্রথম সন্তানের খোঁজ করছে। ওই নারীর সঙ্গেই এখন রাজকুমার রয়েছেন। পুলিশের সহকারী কমিশনার ময়ূর চাভদা জানান, নারীটির প্রথম সন্তানটি কার কাছে বিক্রি হয়েছে, রাজকুমার ও ওই নারী একত্রে শিশুটিকে বিক্রি করেছে কি না, সেটি নিয়েই তারা এখন তদন্ত করছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া।







Reaz Mahmud ( দোহা-কাতার)
২০১২.০৭.১৬ ২১:৪৯