উত্তর কোরিয়ার সামরিক-প্রধানের অপসারণ (ভিডিও)
রি ইয়ং
উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রধান রি ইয়ং-হোকে সব ধরনের দাপ্তরিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এ তথ্য জানায়।
পদচ্যুত হো সেনাবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাধর কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সহসভাপতি ছিলেন। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদেও ছিলেন তিনি।
ওয়ার্কার্স পার্টির এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, অসুস্থতার কারণে হোকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তবে দলীয় এ ব্যাখ্যা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানায়, গতকাল রোববার ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির এক বৈঠকের পর হোকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংক্ষিপ্ত ওই বিবৃতিতে সদ্য সাবেক এ সেনাপ্রধানের উত্তরসূরি কোনো কর্মকর্তার নাম জানানো হয়নি।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রধানের এ অপসারণকে অস্বাভাবিক বলেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ বিষয়ের মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কিম হোয়াং সুক। তিনি বলেন, ‘এটি খুবই অস্বাভাবিক যে উত্তর কোরিয়া গতকালের এক বৈঠক অনুযায়ী আজ এত ঝটপট ও প্রকাশ্যে একটি সিদ্ধান্ত জানাল। তাই বিষয়টিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি আমরা।’
বিবিসির খবরে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার প্রয়াত প্রধান নেতা কিম জং ইলের সময়ে তিন বছর আগে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পান হো। ইলের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি ও দেশটির প্রধান নেতা কিম জং উনের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন সাত পদস্থ রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের একজন বিবেচিত হন তিনি। ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে উনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন তিনি। এমনকি ইলের শবযাত্রায় ছেলে উনের সঙ্গীও হয়েছিলেন তিনি। এসব কারণে উত্তর কোরিয়ার নতুন নেতার অন্যতম বিশ্বস্ত মনে করা হচ্ছিল তাঁকে। তাই তাঁর এ অপসারণের বিষয়টিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিশ্লেষকদের মতে, হোর অপসারণ উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার পরিবর্তনের এক নতুন মাত্রা। এর ফলে কম বয়সী ও অনভিজ্ঞ কিম জং উনই রাষ্ট্রের নতুন দায়িত্ব নিতে পারেন।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






