অসহায় নারীকে পথে ফেলে নিপীড়ন, উত্তাল গুয়াহাটি (ভিডিও)
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার আসামের গুয়াহাটি এখন নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে উত্তাল। ৯ জুলাই রাতে শহরটির রাস্তায় উচ্ছৃঙ্খল মানুষের হাতে একজন নারী ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হলে, জনবিক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। আক্রমণকারীরা ওই নারীর পোশাক টেনে ছিঁড়ে ফেলে, শরীর জখম করে এবং বিভিন্ন জায়গায় সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকা দেয়।
জনসম্মুখে নিপীড়ন বন্ধ করতে পুলিশের ধীর তত্পরতা এবং নারীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে শহরটির হাজার হাজার মানুষ পথে নেমেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এখন পর্যন্ত সাতজনকে আটক করেছে। যদিও ঘটনার হোতাসহ পাঁচজন এখনো নিখোঁজ।
ভয়াবহ নির্যাতন
এনডিটিভির অনলাইনে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, আসামের স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল নিউজলাইভের প্রতিবেদক গৌরব জ্যোতি নিয়োগ কর্তব্য শেষে ঘরে ফেরার পথে নিপীড়নের ঘটনা ক্যামেরায় ধারণ করেন। ধারণ করা চিত্রে দেখা গেছে, ২০-৩০ জন মানুষ দৌড়ে গিয়ে ওই নারীর চুল টেনে ধরে এবং হিঁচড়ে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। এরপর তারা মেয়েটিকে মাটিতে ঠেসে ধরে মারতে থাকে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী সাহায্য চেয়ে চিত্কার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। আশপাশের দোকানদারেরা তাকিয়ে তাকিয়ে মজা দেখেছে। প্রায় আধা ঘণ্টার এ নির্যাতনে ঘটনার শিকার নারীটিকে পেটানো হয় এবং গায়ের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়।
ইন্ডিয়া টুডেতে গতকাল রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র এক মাইল দূরের থানা থেকে ঘটনাস্থলে আসতে পুলিশের সময় লেগেছে ৪৫ মিনিট। পৌঁছানোর পরেও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এনডিটিভির অনলাইনে প্রকাশিত এক খবরে আজ সোমবার বলা হয়, ওই নারী একটি পানশালা থেকে তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে বের হন। একজন ছেলে বন্ধুর সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতিও হয়। এরপরে ছেলে বন্ধুরা মেয়েটিকে রেখে চলে যায়। এর কয়েক মিনিট পরে নিপীড়ক দল মেয়েটির ওপরে আক্রমণ চালায়। তবে, এনডিটিভির অপর এক সংবাদে বলা হয়, গৌরব ঘটনাস্থলে পৌঁছে বুঝতে পারেন তিনি একা কিছুই করতে পারবেন না, তাই তিনি তাঁর অন্য বন্ধুদের খবর দেন। তিনি পুলিশেও ফোন করেন।
নিপীড়নের পরবর্তী অবস্থা
ঘটনার প্রতিবাদে শহরটি পোস্টারে ছেয়ে গেছে। জন-অসন্তোষ থামাতে আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ গত শনিবার দোষীদের ধরতে পুলিশকে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। পুলিশ ইউটিউবে পাওয়া কয়েকটি ভিডিও চিত্র দেখে দোষীদের ধরার চেষ্টা করছে।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিও ধারণকারী প্রতিবেদক বলেছেন, তিনি মেয়েটিকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘ভিড়ের মধ্যে মেয়েটি আমাকে দেখে সাহায্য পাওয়ার জন্য চিত্কার করতে থাকে। লোকজন আমাকে জিজ্ঞাসা করতে থাকে, আমি কেন মেয়েটিকে সাহায্য করতে চাই। আমি পুলিশকে ফোন করি। আমাকে জানানো হয়, পুলিশ ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে।’
তবে, ঘটনার প্রতিবাদকারীরা টেলিভিশন চ্যানেলটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান। গত মঙ্গলবার প্রতিবেদক গৌরব জ্যোতি নিয়োগ পদত্যাগ করেছেন। চ্যানেলটির বার্তা সম্পাদক জারির হুসেইন বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে গৌরব পদত্যাগ করেছেন। তদন্তকাজকে সহযোগিতা করতে আমরা এখনো আমাদের সংবাদকে সঠিক বলে মনে করি, তবে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রেপ্তার
আজকে যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে, তাদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তবে এর আগে পুলিশ দিগন্ত বাসুমাতারি, নবজ্যোতি দেকা, ঘনশ্যাম মল্লিক, ধনঞ্জয় বাসফর ও বুলবুল দাসকে গ্রেপ্তার করে। মূল অভিযুক্ত অমরজ্যোতি কালিতা এখনো পলাতক। পুলিশ অমরজ্যোতি কালিতার খোঁজদাতার জন্য এক লাখ ভারতীয় রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
ধীর তত্পরতার জন্য দিশপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শুভন চন্দ্র বড়ুয়াকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছে।
জাতীয় মহিলা কমিশনের তিন সদস্যের একটি দল গোহাটিতে পৌঁছেছে। দলের অন্যতম সদস্য অলকা লাম্বা বলেন, তিনি ঘটনায় আতঙ্কিত। ‘মেয়েটির শরীরের আঘাতের চিহ্নের আশপাশে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। একটি অসহায় মেয়ের সঙ্গে পশুদের মতো আচরণ করা হয়।’ তবে তিনি বলেন, ওই নারী এখন নিরাপদ এবং তাঁর মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে। তিনি বলেন, মেয়েটি যাতে তাঁর মানসিক যন্ত্রণা থেকে বের হয়ে আসতে পারেন, সে জন্য দরকার কাউন্সেলিং।
নারীদের প্রতি সহিংসতায় ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষে। সহিংসতার এটা হলো শেষ নিদর্শন। গত মাসে একজন বাবা তাঁর মেয়ের মাথা কেটে নিয়ে গ্রামের সবার সামনে প্রদর্শন করেন। সম্মান বাঁচানোর জন্য মেয়েটিকে হত্যা করা হয়। ১০ জুলাইয়ের ঘটনার ভিডিও ইউটিউবে প্রচার হওয়ার পরে এ নিয়ে জন-অসন্তোষ শুরু হয়।








২০১২.০৭.১৬ ২১:২৯Babu Adonis
২০১২.০৭.১৬ ২১:৩৭Elias Muhammad
২০১২.০৭.১৬ ২২:৩৬Zonayed
২০১২.০৭.১৬ ২৩:৫১মানবতা নামে একটা কি জানি আছে,সেটাতো তাগো মাঝেই নাই..................!!!!!!!!!!!!!!
Borhan
২০১২.০৭.১৭ ০২:৩৩