তারা ‘মনিকা মনিকা’ বলে টমেটো ছুড়ল হিলারিকে (ভিডিও)
আলেকজান্দ্রিয়ায় হিলারির ছবি সম্বলিত ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করছে মিসরীয়রা।
ছবি- ওয়েবসাইট
মিসর সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের মোটর শোভাযাত্রায় টমেটো ও জুতা ছুড়েছে রাস্তার পাশে দাঁড়ানো লোকজন। এ সময় তাঁকে ‘মনিকা-মনিকা’ বলে কটাক্ষও করে তারা। গতকাল রোববার মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ায় সফরের শেষ দিনে এ ঘটনা ঘটে।
দুই দিনের ওই সফর শেষে আজ সোমবার ইসরায়েল যাচ্ছেন হিলারি। সেখানে তিনি ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিসরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও থেমে যাওয়া ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের শান্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করবেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের এ কথা জানানো হয়।
গতকাল আলেকজান্দ্রিয়ায় সফরের শেষ দিনে হিলারির গাড়িবহরে টমেটো ও জুতো ছোড়ার ঘটনা ঘটে। একটি টমেটো মিসরের এক কর্মকর্তার মুখে গিয়ে পড়ে। এ ছাড়া বিক্ষোভকারীদের ছোড়া জুতো ও পানির বোতল হিলারির প্রতিনিধিদলের সুরক্ষিত গাড়ির কাছে গিয়ে পড়ে। আলেকজান্দ্রিয়ায় একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে হিলারির গাড়িবহর এ টমেটো-বৃষ্টির শিকার হয়। তবে হিলারি ও তাঁর গাড়ি এ হামলা থেকে রক্ষা পায় বলে জানান এক মার্কিন কর্মকর্তা।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা হিলারির স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও হোয়াইট হাউসের তত্কালীন কর্মী মনিকার সম্পর্ক টেনে এনে ‘মনিকা’ ‘মনিকা’ বলে চিত্কার করছিল। কেউ কেউ জোর গলায় বলছিল ‘চলে যাও ক্লিনটন’। তবে বিক্ষোভকারীরা কারা বা কোন দলের সমর্থক, সেটা জানা যায়নি।
প্রায় দুই বছরের মধ্যে ইসরায়েলে হিলারির এটা প্রথম সফর। ইসরায়েল সফরে দেশটির নেতাদের সঙ্গে তাঁর প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে মিসরের নতুন ইসলামপন্থী সাবেক মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ মুরসির সরকার নিয়ে। গত বছর সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের উত্খাতের পর প্রথম আরব রাষ্ট্র হিসেবে মিসরের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো শান্তিপ্রক্রিয়া তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলে আসছিল।
ইসরায়েলে হিলারির সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয় নিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, মিসরে দুই দিনের সফরে হিলারির নিজস্ব অনুভূতি ও বিশ্লেষণ নিয়ে আলোচনা হবে ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে।
সফরে হিলারির সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এভিগদর লিবারমেন ও প্রেসিডেন্ট শিমন প্যারেসের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এ ছাড়া ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী সালাম ফায়াদের সঙ্গেও হিলারি দেখা করবেন।
কয়েকজন কূটনীতিক আশা করছেন, আগামী নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা নিয়ে কোনো গতি হতে পারে।
ইসরায়েলের এক বেতারে দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ড্যানি আয়ালন বলেন, হিলারি প্রশান্তির বার্তা নিয়ে আসছেন। মিসর নিয়ে ঘরোয়া পরিবেশে আলোচনা হবে। প্রেসিডেন্ট মুরসি সম্পর্কে আয়ালন বলেন, তাঁর কাজ হবে অর্থনীতির পুনর্বাসন। অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাটাও তাঁর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরব-বসন্তের প্রভাব নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। আরব-বসন্তের হাওয়ায় মিসর থেকে মোবারক উত্খাত হলেও এটি সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলের এই দুই অস্থিতিশীল প্রতিবেশী তাদের আলোচনায় স্থান পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও হিলারি ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করবেন। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সন্দেহ, বেসামরিক কর্মসূচির নামে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান বরাবরই বলে আসছে বিদ্যুত্ ও চিকিত্সা খাতের উন্নয়নে চলছে তার এই কর্মসূচি। মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী ইসরায়েল সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে কূটনৈতিক তত্পরতা ব্যর্থ হলে তারা ইরান আক্রমণ করবে।







Sumaiya
২০১২.০৭.১৬ ১৪:৪১Egyptians...salam..salam to you...You are doing really fantastic...and you have our support..Yalla!!..go on....Have a nice democratic country,Inshallah..

২০১২.০৭.১৬ ১৫:০৬mizan
২০১২.০৭.১৬ ১৫:১০farid
২০১২.০৭.১৬ ১৫:৫৩rafikul islam
২০১২.০৭.১৬ ২০:৫২