চি ঠি প ত্র
ছিনতাইয়ের উৎসব
যাত্রাবাড়ীতে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তা রাতের বেলা কতটা ভয়ানক হতে পারে সে অভিজ্ঞতা যিনি পেয়েছেন, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা অনুভব করতে পারবে না।
৪ জুলাই আমার শাশুড়িকে যাত্রাবাড়ীতে তাঁর বাসায় নামিয়ে দিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে কলাবাগানের বাসায় ফিরছিলাম। সঙ্গে আমার সাত বছরের ছেলে। যাত্রাবাড়ীর চৌরাস্তা ঘুরে সায়েদাবাদের দিকে যাওয়ার পথে ট্রাক এবং বাসের ভিড়ে অনেকটাই বিচলিত বোধ করছিলাম। তখন গাড়ি ঘণ্টায় এক কিলোমিটার গতিতে চলছিল। হঠাৎ তিনজন যুবক এলোপাতাড়িভাবে ছিনতাই শুরু করল। আমার সামনের একটি প্রাইভেট কার জানালা খোলা অবস্থায় চলছিল। ছিনতাইকারীরা গাড়ির ড্রাইভার এবং যাত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে সবকিছু ছিনিয়ে নিয়ে আমার গাড়ির দিকে ধেয়ে আসে।
প্রচণ্ড যানজটের কারণে গাড়ি এতটুকু চালানোর কোনো উপায় ছিল না। ওরা আমার গাড়ির বন্ধ জানালায় বেশ জোরে বাড়ি মেরে সামনের একটি লুকিং গ্লাস ভেঙে নিয়ে যায়। প্রত্যেকের হাতে ছুরি ছিল। ওই দিন যাত্রাবাড়ীর মোড় থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত যেতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছিল। যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ মোড়ে বেশ কয়েকজন ট্রাফিক সার্জেন্টকে দেখলাম দাঁড়িয়ে গল্প করছেন। আতঙ্কে আমার অবস্থা এতটাই খারাপ যে থানাপুলিশের কাছে যাওয়ার মানসিক অবস্থা তখন ছিল না।
এলাকার লোকজনের ভাষ্য, এখানে সন্ধ্যার পর থেকে ছিনতাইয়ের মহোৎসব শুরু হয়। দেখার কেউ নেই। তাই যাঁরা সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় যাবেন, অবশ্যই গাড়ির জানালা এবং দরজা ভালোভাবে লক করে চালাবেন।
মোয়েজ আহমেদ চৌধুরী কলাবাগান, ঢাকা।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






