স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থেই প্রকাশ করা জরুরি

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

| তারিখ: ১৬-০৭-২০১২

  • ৮ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

কী কারণে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিল করেছে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সরকার বলছে, পদ্মা সেতুতে কোনো দুর্নীতি হয়নি, বিশ্বব্যাংক অন্যায়ভাবে চুক্তিটি বাতিল করে বাংলাদেশের মানুষকে অপমান করেছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের দাবি, দুর্নীতির ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের ব্যাপারে বাংলাদেশ কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি গণমাধ্যমে বিশ্বব্যাংককে লেখা সরকারের ছয়টি চিঠিও হস্তান্তর করেছেন। এর মাধ্যমে দেশবাসী বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের জবাবে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে পেরেছে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক কী কী অভিযোগ এনেছিল, তা জানতে পারেনি। যে কারণে নানা গুজব ডালপালা মেলেছে। বিরোধী দলও বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ পাচ্ছে।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, বিশ্বব্যাংক তাঁদের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনটি যেহেতু ‘অত্যন্ত গোপনীয়’ আখ্যায়িত করেছে, সেহেতু এটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না। অন্যদিকে গতকাল ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি অ্যালেন গোল্ডস্টেইন বলেছেন, স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থে সরকার পদ্মা সেতু প্রকল্পে ‘দুর্নীতির প্রমাণ’ হিসেবে বিশ্বব্যাংক যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তা প্রকাশ করতে পারে। তিনি এও বলেছেন, বাংলাদেশসহ সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে দায়বদ্ধতার কারণেই বিশ্বব্যাংক নিজে থেকে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারে না। এই সাক্ষাৎকারে অ্যালেন গোল্ডস্টেইন বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্তের পক্ষে যেসব যুক্তি তুলে ধরেছেন, সরকার নিশ্চয়ই তার জবাব দেবে। এ বিষয়ে আমরা আগাম কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন প্রকাশের ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য অযৌক্তিক নয়।
বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি বলেছেন বলেই নয়, আমরা নিজস্ব বিবেচনা দিয়েই বুঝতে পারছি যে নিজেদের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের উচিত জনসমক্ষে পদ্ম সেতুসংক্রান্ত বিশ্বব্যাংকের অভিযোগটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা। যে প্রকল্পটির সঙ্গে দেশের ১৬ কোটি মানুষের আবেগ ও মর্যাদা জড়িত, সেই প্রকল্পটি কার বা কাদের দোষে বাতিল হলো, তা জানার অধিকার নিশ্চয়ই দেশবাসীর আছে।
সরকারের দাবি অনুযায়ী বিশ্বব্যাংকের অভিযোগটি মনগড়া, না এর সারবত্তা আছে—প্রতিবেদনটি প্রকাশ করলেই তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রীরা যেহেতু শুরু থেকেই বলে আসছেন যে পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি, তাহলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করতে বাধা কোথায়?
জাপানসহ অন্য যেসব উন্নয়ন-সহযোগী পদ্মা সেতুর ব্যাপারে সরকারের কার্যক্রম নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে, তাদের আস্থা অর্জনের জন্যও বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা প্রয়োজন। সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করার কথা বলেছে। সেতুর কাজ থেমে না থাকুক, সেটা আমরাও চাই। দেশবাসীও চায় পদ্মা সেতু হোক। কিন্তু তার আগে উত্থাপিত অভিযোগের সুরাহা হওয়াও কম জরুরি নয়।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

mukta rahman

mukta rahman

২০১২.০৭.১৬ ০৫:৩৩
প্রধানমন্ত্রীর আবেগ পূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে, অভিযুক্তের তালিকায় তার নাম আছে নাকি ? বিশেষ করে জনগনের অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণ কে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হিসাবে মন্তব্য করলেন বলেই আমার ঐরকম সন্দেহ হচ্ছে। সত্যি দুর্নীতির অভিযুক্তের তালিকায় আমি তার পেলে অবাক হব না।

Mahtaf Hossain

Mahtaf Hossain

২০১২.০৭.১৬ ০৭:৪৫
বিশ্বব্যাংক যখন তত্‌কালীন যোগাযোগ মন্ত্রী, তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান `সাকো' ও দুজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করলো, তখন মানে মানে তত্‌কালীন যোগাযোগ মন্ত্রী পদত্যাগ করলে বর্তমানকার এ চতুর্মূখী ঘোল-চক্করে সরকারকে পড়তে হত না। এখন সরকার না পারছে সেতুর কার্যক্রম বিশ্বাসযোগ্যভাবে আরম্ভ করতে, আর না পারছে তা থেকে সরে আসতে।
যে যাই বলুক, সরকারের সামনে এখন কিন্তু একটাই পথ খোলা, আর তা হ'ল স্বপ্নের পদ্মাসেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন। আর তা করার জন্য কোন ব্যক্তি, দল বা সংস্থা-বিশেষের চরিত্র হনন কার্যক্রম বন্ধ করে নিজ উদ্যোগে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে অভ্যন্তরীণ উত্‌স (দেশীয় ও প্রবাসী) থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে হবে এবং বিশ্বব্যাংকের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে একটা ইতিবাচক সুরাহা করে আন্তর্জাতিক ঋণ/অনুদান প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

হাসিম উদ্দিন আহমেদ  (সাখুয়া , ঈশ্বরগঞ্জ-ময়মনসিংহ)

হাসিম উদ্দিন আহমেদ (সাখুয়া , ঈশ্বরগঞ্জ-ময়মনসিংহ)

২০১২.০৭.১৬ ০৮:২১
পদ্মা সেতুর দুর্নীতি হয়েছে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে । এখানে সাবেক যগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন বলির পাঠা বনেছেন ।

Rupok Reza

Rupok Reza

২০১২.০৭.১৬ ০৯:০৯
Podma Bridge is the root of all problem.

Md. Farid Hossain

Md. Farid Hossain

২০১২.০৭.১৬ ০৯:৩৯
জাপানের রাষ্ট্রদূত, পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ওপর জাপান প্রভাব খাটাবে কি না সেই প্রশ্নের জবাবে বলেছেন
শেষ পর্যন্ত আমাদের করদাতাদের কাছে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। হায় আমরা সুধু কর দিয়েই গেলাম। আমাদের প্রশ্নের জবাব কউ দেয়না। নিজেদের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের উচিত জনসমক্ষে পদ্ম সেতুসংক্রান্ত বিশ্বব্যাংকের অভিযোগটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা।
২০১২.০৭.১৬ ১০:৫২
এটা খুব সরল একটা অংক । অথচ আমরা পন্ডিতি করে একে এত জটিল করে ফেলেছি যে , বিষয়টা শেষ পর্যন্ত মৃত্যু কুপে যেতে বাধ্য হল । আজকের দুনিয়ায় স্বচ্ছ কে ? এই বিশ্বব্যাংক কি স্বচ্ছ ? সবচেয়ে অস্বচ্ছভাবে পুরো পৃথিবীর মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে সারা দুনিয়ার মোড়লগিরি করছে যে আমেরিকা, তার রিরুদ্ধে কেউ রা' করে না , কেন ? কারণ যার যার স্বর্থে সে নৈতিকতাকে সাময়িক বিসর্জন দিচ্ছে । দিতে বাধ্য হচ্ছে । এটাই বাস্তবতা ।

Ruksana Shirin

Ruksana Shirin

২০১২.০৭.১৬ ১৩:০৫
We all can understand why Govt is not publishing the WB report.

Mohammed Salman

Mohammed Salman

২০১২.০৭.১৬ ২৩:০১
হয়তো সরকার প্রধান অভিযুক্তের তালিকায় আছে বা সরাসরি জড়িত। দেশীয় ও প্রবাসীদের অর্থ সংগ্রহ করে লুটপাটের সুযোগ দেয়া বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।