ঢাকায় আইজিসির প্রবৃদ্ধি সম্মেলন শুরু
জমির চড়া দাম শিল্পায়নে বাধা হয়ে উঠেছে
আইজিসির সেমিনারের উদ্বোধন পর্বে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ অন্যরা
জমি দিতে না পারায় শিল্পায়ন ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যাচ্ছে না বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী বিনিয়োগের জন্য দরজায় কড়া নাড়ছে। কিন্তু আমরা তাদের জমি দিতে পারছি না।’
তবে শিল্পায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণের সময় বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দাম নির্ধারণ করার পরামর্শ দেন বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলীপ মুখোপ্যাধ্যায়।
রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল রোববার ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার (আইজিসি) এবং ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের (ইআরজি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আইজিসি দক্ষিণ এশীয় প্রবৃদ্ধি সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন। ইআরজির চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সঞ্চালনায় ‘দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক কর্ম অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনেমিকসের অধ্যাপক রবিন বুর্গেস, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির টনি ভ্যানাবলস, ইয়েল ইউনিভার্সিটির মার্ক রোজেনওয়েগ, লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেসের ইজাজ নবী এবং বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলীপ মুখোপাধ্যায়।
সম্মেলনে গতকাল চারটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে আরও তিনটি অধিবেশন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বেসরকারি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেন অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই), দক্ষ মানবশক্তি তৈরি এবং পরিবেশ উন্নয়নকে চিহ্নিত করেন।
দারিদ্র্য দূরীকরণে বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) অবদানের কথা স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের অসামান্য অবদান রয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, ‘শিল্পায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা হলো পর্যাপ্ত জমি না থাকা, তাও আবার দরকার উঁচু জমি। সেই সঙ্গে দরকার রাস্তাঘাট, টেলিফোন সংযোগ, পরিবহন খাতের উন্নতি ইত্যাদি। তবে আশার কথা, এরই মধ্যে আমরা সাতটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করেছি।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা সত্য, বিপুল জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ। পুষ্টিহীনতা এখনো এ দেশের বড় সমস্যা। এই সমস্যা দূর করা জরুরি। তিনি বলেন, সর্বশেষ খানা জরিপ অনুযায়ী দেশের খাদ্যনিরাপত্তা তথা সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের আওতা বেড়েছে। তবে, এই সময়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে অর্থমন্ত্রী মনে করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বিশেষ নজর দেওয়ায় বাংলাদেশে অভাবনীয় পরিবর্তন সূচিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের এখনো যে পরিমাণ শ্রমশক্তি ও কাজের সুযোগ রয়েছে, তা অনেকটাই প্রযুক্তি-সহায়তাবঞ্চিত। প্রযুক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে তা প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহযোগিতা করবে।’
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, ‘এত দিন একটি বিষয় নজরে আসেনি, তা হলো শিশুস্বাস্থ্য। আমাদের দেশে এটি অনেক নিম্নপর্যায়ে। অথচ শিশু পুষ্টির উন্নয়ন না হলে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নও আশা করা যায় না।’
গতকাল ‘কৃষি, উৎপাদন খাত ও জমি ইস্যু’ শীর্ষক কর্ম অধিবেশনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরে টাটার জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত কেস উপস্থাপন করেন দিলীপ মুখোপাধ্যায়।
এই অধিবেশনে বাংলাদেশের পোশাক খাত নিয়ে ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকা ম্যাকশিয়াভেল্লু, কৃষি খাতের যান্ত্রিকীকরণবিষয়ক ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ড্রু ডি ফস্টার প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এই অধিবেশনে আলোচকেরা বাড়তি দাম দিয়ে জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, জমির অধিক মূল্য দেওয়া হলে শিল্পে বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে কতটা লাভজনক হবে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ।
দিলীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, জমির মালিকেরা মনে করেন, জমির প্রকৃত দাম অনেক বেশি। তবে সেই অনুযায়ী দাম দিলে জমির মালিকেরা সন্তুষ্ট থাকেন। তিনি নিলামের মাধ্যমে দাম নির্ধারণের পরামর্শ দেন। তিনি জানান, সিঙ্গুরে জমির দাম পছন্দ হয়নি বলেই সেখানকার মানুষ তা মানেনি। আন্দোলন করেছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক বিনায়ক সেন বলেন, ‘শিল্প-কারখানা করতে অধিগ্রহণযোগ্য জমির দাম বেশি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জমির দাম এখনই অনেক বেশি। এত বেশি দামে জমি ক্রয় করলে তা আর্থিকভাবে কতটা সহনীয় হবে?
বাংলাদেশের পোশাক খাত নিয়ে প্রবন্ধে বলা হয়, প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রমিকদের দক্ষ করা দরকার। তাঁদের পদোন্নতি দিয়ে সুপারভাইজার করলে উৎপাদনশীলতা আরও বাড়বে।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়, তৈরি পোশাক কারখানায় নারী সুপারভাইজার বেশি থাকলে উৎপাদনশীলতাও বাড়বে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে প্রচুর কাজের চাপ রয়েছে। অন্যদিকে উৎপাদন বৃদ্ধির চাপও রয়েছে।
নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সমিতির (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, ‘এই খাতে এমনিতেই দক্ষ শ্রমিকের অভাব রয়েছে। শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সুপারভাইজার বানানো হলে শ্রমিক পাব কোথায়?’ তিনি মৌলিক প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ শ্রমিক তৈরির ওপর জোর দেন।
এন্ড্রু ডি ফস্টার তাঁর মূল প্রবন্ধে বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষি খাতে যান্ত্রিকীকরণ ও ঋণ দরকার। কৃষককে ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। আর দরিদ্র কৃষকদের এককভাবে নয়, সমষ্টিগতভাবে যান্ত্রিকীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
ফস্টার আরও মত দেন, মজুরিভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ না করে কৃষকেরা নিজেই কাজ করলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে।








Abdus Salam
২০১২.০৭.১৬ ০৬:০১Amit Kumar
২০১২.০৭.১৬ ০৯:২০Selim Saroar
২০১২.০৭.১৬ ১২:০৭Selim Saroar
২০১২.০৭.১৬ ১২:১০Abu Hena
২০১২.০৭.১৬ ১২:৪১