মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ফিচারিং
পদ্মা নদীর ব্রিজ
-
আঁকা: শিখা
-
‘কুবের, মাছ কিবা?’—দূর থেকে গলা উঁচিয়ে পীতম মাঝি জিজ্ঞেস করে কুবেরকে।
‘না গো মাঝি, আর মাছ ধরমু না! হোসেন মিয়া কইছে পদ্মায় ব্রিজ কইরা দিব। আমারে নাকি ওইখানে কনটেক্টার বানাইব!’—কুবের তারস্বরে জবাব দেয়।
‘হ, কনটেক্টার না, তর মাথা!’—বলে বৈঠা বাইতে বাইতে অদৃশ্য হয়ে যায় পীতম।
কুবের হেলতে-দুলতে বাড়ি ফেরে। ছেলে লখা এসে কুবেরের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে, ‘বাপজান, আমারে ওই পারের ডিজিটাল কেওরাকান্দি ইশকুলে ভর্তি করায়া দ্যাও। আমি এই অ্যানালগ মাওয়া ইশকুলে আর পড়মু না।’ কুবের লখার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলে, ‘বড় হ, বাপজান। হোসেন মিয়া পদ্মায় ব্রিজ কইরা দিব, তহন তরে কেওরাকান্দি ইশকুলে ভর্তি করায়া দিমু, মাওয়া থেইকা ব্রিজে হাঁইটা হাঁইটা তুই ইশকুলে যাবি।’
মালা কাঁচুমাচু করে বলল, ‘মাঝি, আমারে একটু গঞ্জে নিয়া যাইবা? একটু পাওটার চিকিৎসা করাইতাম।’ কুবের হাঁক মেরে বলল, ‘চোপ্! খালি ক্যাঁ ক্যাঁ ক্যাঁ! কইছি তো, হোসেন মিয়া ব্রিজ করতেছে। ব্রিজ হউক। তহন লুলা ঠ্যাং লয়া ব্রিজ দিয়া দৌড়ায়া দৌড়ায়া গঞ্জে যাইচ!’
কপিলা দূর থেকে বলল, ‘হায় রে পুরুষ! বউয়ের লগে এই ব্যবহার কইরা পুরুষগিরি ফলাও, চুক চুক চুক!’ ঢোক গিলে কুবের চুপ মেরে গেল। পৃথিবীর এই একটি নারীর কাছেই কুবের আপাদমস্তক অক্টোপাসের মতো বাঁধা।
বিকেলে গাঙপাড়ে হাওয়া খেতে গেলে কুবের কপিলাকে কায়দা করে ধরে বলল, ‘এইবার যাইবি কই!’ আত্মসমর্পণের ঢঙে কপিলা বলল, ‘তুমি যেইখানে নিয়া যাইবা, মাঝি...!’
কুবের বলল, ‘কয়টা দিন সবুর কর। মাটির ব্যাংক ভাইঙ্গা হোসেন মিয়া ব্রিজ বানায়া দিব পদ্মায়। তরে নিয়া জোছনা রাইতে মাঝপদ্মায় ব্রিজের ওপর হাওয়া খাইতে যামু। তুই আর আমি হাওয়া খামু!’
দিন যায়, রাত যায়, কুবেরের মাথায় একটাই চিন্তা—পদ্মায় হোসেন মিয়া ব্রিজ করে দেবে। কুবের দিন গোনে, রাত গোনে, কবে সে ব্রিজের ঠিকাদার হবে, কবে হবে, কবে হবে! ঠিকাদারির টাকা দিয়ে সে গোপীর বিয়ে দেবে, রাশুটা গোপীকে বেশ জ্বালাচ্ছে।
এদিকে ব্রিজে কাজ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে গ্রামের রূপবতীদের একে একে ময়না দ্বীপে নিয়ে যেতে থাকে হোসেন মিয়া। একদিন শহর থেকে একজনকে ধরে এনে হোসেন ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করায়। কিন্তু ব্রিজের কাজ শুরু আর হয় না। একপর্যায়ে গাঁয়ের লোকজন হোসেনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে, বিদ্রোহ করে বসে। দল বেঁধে তারা হোসেনের বাড়ির সামনে জড়ো হয়। কুবের চিৎকার করে, ‘হোসেইন্না! বাইরায়া আয়! এহনো ব্রিজ বানাস না ক্যান তুই? ব্রিজ কেডা বানায়া দিব?’
হোসেন মিয়া দাঁত মাজতে মাজতে ঘর থেকে বেরোয়। কুবেরকে ধমক দিয়ে বলে, ‘কইছি তো, ব্রিজ হোসেন মিয়া বানায়া দিব।’ কুবের অবাক হয়ে বলে, ‘তুমিই তো হোসেন মিয়া, নাকি?’ হোসেন মিয়া কপাল কুঁচকে মুখ বিকৃত করে বলল, ‘দুনিয়ায় কি হোসেন মিয়া একজন? আমার মৃত্যুর অনেক বছর পর আর এক হোসেন মিয়া আইব। হেই হোসেনই ব্রিজ বানাইব। এহন ফুট্ সবগুলা!’







abdul gaffar
২০১২.০৭.১৬ ০৪:০৬aman ullah
২০১২.০৭.১৬ ০৪:৪৫shahan
২০১২.০৭.১৬ ০৬:০৪Sorin
২০১২.০৭.১৬ ০৬:২৭Alamgir
২০১২.০৭.১৬ ০৬:৩৩Salekin
২০১২.০৭.১৬ ০৭:৪৭চমতকার ! আমরা এিসব হসেন মিয়া আর আবুলদের পাললায় পড়ে থাকি আর স্বপন' দেখতে থাকি !
Muzibur rahman
২০১২.০৭.১৬ ০৭:৫১Shihab
২০১২.০৭.১৬ ০৮:৩৯Zia
২০১২.০৭.১৬ ০৮:৪৮its high time to convert it to social movement.
Muhammad Muhith Hussain
২০১২.০৭.১৬ ০৯:২৩akash
২০১২.০৭.১৬ ০৯:২৪Akas
২০১২.০৭.১৬ ০৯:২৫sayed Ahmed
২০১২.০৭.১৬ ০৯:৩৭Latif chowdhury
২০১২.০৭.১৬ ০৯:৫১Muhammad amin uddin
২০১২.০৭.১৬ ০৯:৫৮Md.Akter Ali
২০১২.০৭.১৬ ০৯:৫৮azizul haque
২০১২.০৭.১৬ ১০:০৩আহ্হারে হোসেন ভাই ! এই হাসা কথাটা বইলা কি ভুল কাজটাইনা কইরলা, কারণ এই ব্রিজের কথা কইয়া তুমি কত্ত নতুন নতুন সঙ্গি বানাইতে পাইরতা, সামনে ইলেকসানে এমপি হতে পাইরতা আরও কতকিছু। কিন্তু কি সব্বনাসটাইনা কইরলা সত্তি কতটা বইলা।
Omar Faruk
২০১২.০৭.১৬ ১০:০৯S.M. Ali Ahmed
২০১২.০৭.১৬ ১০:১১মোঃ আব্দুল খালেক
২০১২.০৭.১৬ ১০:৩২Syed Harun ur Rashid Towhid
২০১২.০৭.১৬ ১০:৪২Debabrata Roy
২০১২.০৭.১৬ ১১:০১Md. Imam Hossain
২০১২.০৭.১৬ ১১:০২Ahmed Motayed
২০১২.০৭.১৬ ১১:১০Monir Hossain Koel
২০১২.০৭.১৬ ১১:১৪Moin
২০১২.০৭.১৬ ১১:২৭Abu Saleh
২০১২.০৭.১৬ ১১:২৯২০১২.০৭.১৬ ১০:৩২
ভাই জান মঙ্গলে বাংলাদেশ থেকে নভোযান পাঠানোর মত আর কি................... হা....হা.....হা.......হা..........

২০১২.০৭.১৬ ১২:০৯Fuadmansoor
২০১২.০৭.১৬ ১২:১৩Aga Khan Sohel
২০১২.০৭.১৬ ১২:১৬Reazul Ahsan
২০১২.০৭.১৬ ১২:১৯N. Hasan Razu
২০১২.০৭.১৬ ১২:৩৭Masud Rana Akanda
২০১২.০৭.১৬ ১৩:৪০Tanvir
২০১২.০৭.১৬ ১৪:১৪সফিকুল ইসলাম সুমন
২০১২.০৭.১৬ ১৫:১৪Bahar Uddin
২০১২.০৭.১৬ ১৫:১৭২০১২.০৭.১৬ ১০:৩২
ভাইজান, সবাই উদার মন নিয়ে একত্রে চেষ্টা করলে অবশ্যই পদ্মায় সেতু বানানো সম্ভব । কিন্তু দেশের জনগন সেই চেষ্টাটা করবে কিসের ভিত্তিতে, কাদেরকে ভরসা করে ? যাদের কারনে পদ্মা সেতুর অর্থ বাতিল হলো সরকার বা দূর্নীতি দমন কমিশন এখনো নিশ্চুপ তাদের ব্যাপারে আবার দেশের গরীব জনগন না খেয়ে তাদের হাতে টাকা তুলে দিবে কোন ভরসায় ? সেই টাকা দিয়ে যে তারা পদ্মা সেতু বানাবে তার গ্যারান্টি কে দেবে ?

২০১২.০৭.১৬ ১৫:২৬আর কুবের > আম জনতা।
Bazlur Rashid Sohag
২০১২.০৭.১৬ ১৫:৩২sharif rahman
২০১২.০৭.১৬ ১৬:২২
২০১২.০৭.১৬ ১৭:১৭Md.Jahangir Alam
২০১২.০৭.১৬ ২০:০৭moniruzzaman
২০১২.০৭.১৬ ২১:৪৬