বাংলালিংক-প্রথম আলো মাদকবিরোধী কনসার্ট
মাদককে ‘না’ আর বদলানোর শপথ
চট্টগ্রামের ফয়’স লেকের সি ওয়ার্ল্ডে আয়োজিত কনসার্টে হাত উঁচিয়ে মাদককে ‘না’ বলেন শিল্পী ও অতিথিরা
ছবি: প্রথম আলো
জলে দাপাদাপি-নাচানাচি কম হলো না। যেন সবাই শিশু-কিশোর। কতক্ষণ এই রাইড তো কতক্ষণ ওই রাইড। স্বচ্ছ জলে সাঁতার দিল কেউ কেউ। আর ঢেউয়ের তালে তালে কণ্ঠ মেলাল শিল্পীর সঙ্গে, বক্তাদের সঙ্গে। সব কণ্ঠের একই সুর: ‘বদলাতে হবে নিজেকে, গড়তে হবে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ।’
প্রথম আলোর আয়োজনে বাংলালিংক-প্রথম আলো মাদকবিরোধী কনসার্টটি এভাবেই গতকাল শনিবার সুর তুলেছিল চট্টগ্রামের ফয়’স লেকের সি ওয়ার্ল্ডে। কনকর্ডের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার ছিল চ্যানেল আই ও এবিসি রেডিও। বেলা আড়াইটায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটিতে চমকের পর চমক। কখনো গানে গানে কখনো কথামালায় আবার কখনো নেচে-গেয়ে দর্শকেরা শপথ নিয়েছে মাদকমুক্ত থাকার। অতিথি আর শিল্পীদের সঙ্গে মাদককে বলেছে ‘না’।
কণ্ঠশিল্পী আসিফ মঞ্চে উঠেই বললেন, ‘মাদক জীবনকে ধ্বংস করে। ক্যারিয়ার ধ্বংস করে। সুতরাং নিজেকে বদলানোর এই সুযোগ। অন্যকেও বদলাতে সহযোগিতা করুন।’ আর বদলের মিছিলে এই দর্শকেরাও যে শামিল তা বোঝা গেল আসিফের কণ্ঠে প্রথম আলোর প্রতিপাদ্য সংগীত ‘বদলে যাও, বদলে দাও’ গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতে দেখে। এর আগে আব্দুন নূর তুষারের উপস্থাপনায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পী ও অতিথি তাঁদের গান ও কথামালা উপস্থাপন করেন।
শুরুতেই মাহমুদুজ্জামান বাবুর ‘আমি বাংলার গান গাই’ গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান দর্শকেরা। গানের ফাঁকে ফাঁকে প্রথম আলোর উপসম্পাদক আনিসুল হক, সহযোগী সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, প্রথম আলো বন্ধুসভার কেন্দ্রীয় সম্পাদক সাইদুজ্জামান রওশন, প্রথম আলো মাদকবিরোধী আন্দোলনের উপদেষ্টা চিকিৎসক আহমেদ হেলাল, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক খুশি মোহন বিশ্বাস, কনকর্ডের ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্কের মহাব্যবস্থাপক আনিসুর রহমান চৌধুরী, বাংলালিংকের নির্বাহী কর্মকর্তা (পিআর কমিউনিকেশন) অঙ্কিত সুরেকা প্রমুখ বক্তব্য দেন।
খুশি মোহন বিশ্বাস প্রথম আলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত মাদকমুক্ত বাংলাদেশ। এ জন্য আমাদের মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে।’
ডা. আহমেদ হেলাল বলেন, ‘যাঁরা মাদক নেন তাঁরা নিজেদের অপরাধী ভাববেন না। আমরা তাঁদের সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত। তরুণদের মতো আমাদের অভিভাবকেরা মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার জন্য এগিয়ে আসবেন—এই আমাদের প্রত্যাশা।’
আনিসুল হক মাইক হাতে নিয়েই দর্শকদের তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে মাদককে ‘না’ বলতে বলেন। দর্শকেরাও বললেন, ‘মাদককে না’। বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সেই দিনের জন্য অপেক্ষায় আছি, যেদিন বাংলাদেশ একটি মাদকমুক্ত দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পাবে।’ সাইদুজ্জামান রওশন বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের তরুণেরা মাদক থেকে দূরে থাকবে। তারা নিজেদের গড়ার ক্ষেত্রে মনোযোগী হবে।’ আনিসুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘সব সময় আমরা মাদকের বিপক্ষে। তরুণেরাই এই সমাজ গড়বে। তাই মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে।’ অঙ্কিত সুরেকা বলেন, ‘আজ শপথ নেওয়ার সময় মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার।’ এতে আরও উপস্থিত ছিলেন কনকর্ড গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক অনুপ কুমার সরকার। কথার ফাঁকে ফাঁকেই হচ্ছিল গান। আর গানের শুরুতেই আব্দুন নূর তুষার বললেন, ‘বান্ধবীর হাত ধরেন। মাদক ধরবেন না।’ ব্যান্ড মৃত্তিকার পর মঞ্চে আসেন ন্যান্সি। ন্যান্সি চারটি গান পরিবেশন করেন। বিকেল চারটার কিছু আগে হূদয় খান মঞ্চে এসে সবাইকে যেন একটি ঝড়ের মুখে ঠেলে দিলেন। তাঁর ‘আড়াল’, ‘চাই না মেয়ে’, ‘বল না’ ইত্যাদি গানের সঙ্গে উন্মাতাল হয়ে ওঠে তরুণ-তরুণীরা। কনা এসেই শোনালেন ‘ঝির ঝির বৃষ্টি’, ‘পিরিতি ভালো লাগে না’সহ কয়েকটি গান। তবে সবাইকে ছাপিয়ে গেছে ব্যান্ড লালনের সুমি। ‘সময় গেলে সাধন হবে না’, ‘পাগল’ ইত্যাদি গানে দর্শকেরা কি পাগল না হয়ে পারে! আর ‘শিরোনামহীন বন্ধ জানালা’, ‘পাখি’, ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’ গানগুলো দর্শকদের কিছুটা নস্টালজিক করে দিল যেন। কিশোর তো মঞ্চে উঠেই চট্টগ্রামের ভাষায় ‘অনারা কেন আছন?’ বলে কুশল বিনিময় করলেন। দর্শকেরাও উত্তর দিলেন। তারপর কিশোর কণ্ঠে তুললেন ‘যাচ্ছ দূরে যাও তুমি’ ও ‘নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক’ গান দুটি। শেষ শিল্পী ছিলেন আসিফ। তিনি আজম খানকে সঞ্চরণ করে গেয়ে গেলেন, ‘আলাল ও দুলাল’সহ চারটি গান। তাঁর আগেই আসিফের সঙ্গে সবাই শপথ নিল মাদকমুক্ত থাকার। ‘বেশ বেশ বেশ, শাবাশ বাংলাদেশ’ গানটির মধ্য দিয়ে আসিফ অনুষ্ঠানের ইতি টানেন। শেষ পর্যন্ত দেশপ্রেম আর আত্মপ্রেমের উদাহরণই হয়ে থাকল অনুষ্ঠানটি।







Jahangir Hossain
২০১২.০৭.০৮ ০৪:১৩Debu Sarkar
২০১২.০৭.০৮ ০৮:২৩Masud Rana Akanda
২০১২.০৭.০৮ ১৩:৪৬