দশ ট্রাক অস্ত্র আটক মামলা
অস্ত্রের উৎস-গন্তব্য সম্পর্কে মইনের কাছে জানতে চেয়েছিল তদন্ত কমিটি
আটক হওয়া ১০ ট্রাক অস্ত্রের উৎস, ধরন ও গন্তব্য সম্পর্কে মইন উ আহমেদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন সরকারি তদন্ত কমিটির সদস্য ও সিআইডির তৎকালীন উপমহাপরিদর্শক ফররুখ আহমেদ চৌধুরী। অবশ্য সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের তৎকালীন কমান্ডার (জিওসি) মইন উ আহমেদ এ বিষয়ে কোনো জবাব দেননি।
গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইবুন্যাল-১-এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমানের আদালতে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাক্ষী হিসেবে জেরার মুখে এ কথা বলেন ফররুখ আহমেদ। তিনি বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন, এর আগে ১৯৯৬ সালে কক্সবাজারে অস্ত্রভর্তি ট্রলার আটক হলেও সেনাবাহিনীর তৎকালীন জিওসির কারণে ওই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তাই তাঁর মনে হয়েছিল, এ ধরনের অস্ত্রের চালান সম্পর্কে জিওসিদের ধারণা রয়েছে। এই কারণে ২০০৪ সালের এপ্রিলে ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসে তৎকালীন জিওসি মইন উ আহমেদের কাছে অস্ত্রের উৎস, ধরন ও গন্তব্য বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কিছু বলেননি।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানার (সিইউএফএল) জেটি ঘাটে ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনায় পাঁচ সদস্যের সরকারি তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব ওমর ফারুক। ওই কমিটির সদস্য ছিলেন ফররুখ আহমেদ।
গতকাল জেরায় এক প্রশ্নের জবাবে ফররুখ আহমেদ বলেন, ‘তদন্ত কমিটির চারজন সদস্যকে ডেকে পাঠানোর আগেই স্বরাষ্ট্রসচিব প্রতিবেদন তৈরি করে রাখেন।’ প্রতিবেদনের ব্যাপারে কমিটির সদস্যদের আপত্তি (নোট অব ডিসেন্ট) দেওয়ার সুযোগ ছিল কি না, আসামিপক্ষের আইনজীবীর এ প্রশ্নের ‘হ্যাঁ’সূচক জবাব দেন ফররুখ। তিনি বলেন, ‘তবে আগেই প্রতিবেদন তৈরি হওয়ায় আর মতামত দিইনি।’
ফররুখ আহমেদকে গতকাল ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, এনএসআইয়ের সাবেক উপপরিচালক মেজর (অব.) লিয়াকত হোসেন, এনএসআইয়ের মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন ও চোরাকারবারি হিসেবে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমানের আইনজীবীরা জেরা করেন। আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে অসমাপ্ত জেরা করা হবে।







Muzibur rahman
২০১২.০৭.০৫ ০৯:২৭