• হোম
  • শেষের পাতা
  •   শান্তি কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পরামর্শ দিতেন ও অংশ নিতেন

জেরায় মুনতাসীর মামুন

শান্তি কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পরামর্শ দিতেন ও অংশ নিতেন

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ০৫-০৭-২০১২

  • ৬ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন জেরায় বলেছেন, শান্তি কমিটির সদস্যরা সামরিক বাহিনীর একটি দল বা সদস্যকে পরামর্শ দিতেন, প্রণোদনা জোগাতে ও প্ররোচিত করতে পারতেন।
বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে দুই সদস্যের (এক সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মুনতাসীর মামুনকে গতকাল বুধবার জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। এ নিয়ে তিন দিনে তাঁকে প্রায় ১০ ঘণ্টা জেরা করা হলো। তিনি গত ১ জুলাই জবানবন্দি দেন।
আসামির কাঠগড়ায় গোলাম আযমের উপস্থিতিতে জেরা শুরু হয়। তবে মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কারাকক্ষে ফেরত পাঠানো হয়। গোলাম আযমের পক্ষ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শান্তি কমিটির কাছে কোনো নির্দেশনা পাঠানো হয়েছিল কি না—আইনজীবীর এ প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী বলেন, কাগজপত্র না দেখে এটা তাঁর পক্ষে বলা সম্ভব নয়। পরবর্তী সময় প্রায় একই ধরনের কয়েকটি প্রশ্নে সাক্ষী প্রায় একই রকম জবাব দেন।
একপর্যায়ে কয়েকটি প্রশ্নের জবাবে মুনতাসীর মামুন বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি তাঁর চাচা বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ধানমন্ডির তৎকালীন ১৮ নম্বর রোডে থাকতেন। এ সময় মিজানুল মত (সাজেশন) দেন, ধানমন্ডিতে থাকাকালে সাক্ষী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ডান্ডি কার্ড (পরিচয়পত্র) সংগ্রহ করেছিলেন। এ মতের বিরোধিতা করে মুনতাসীর মামুন বলেন, কোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি ডান্ডি কার্ড সংগ্রহ করেননি।
মধ্যাহ্ন বিরতির পর জেরায় প্রায় সব প্রশ্নই ছিল শান্তি কমিটি নিয়ে। শান্তি কমিটি বিধিবদ্ধ সংস্থা ছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, শান্তি কমিটি তৎকালীন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই করা হয়েছিল। যেহেতু কর্তৃপক্ষের (সামরিক কর্তৃপক্ষ) সঙ্গে তাদের সব সময় যোগাযোগ ছিল, সে জন্য এটি বিধিবদ্ধ ছিল কি ছিল না, তা অপ্রাসঙ্গিক। কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির সদস্যরা ভাতা পেতেন কি না—এর জবাবে তিনি বলেন, শান্তি কমিটির সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন, তাঁরা সরকারের কাছে আবেদন করলে সহযোগিতা পেতেন। শান্তি কমিটির সংবাদ, বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশনা বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিতে সরকারি কোনো ব্যবস্থাপনা ছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শান্তি কমিটিতে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা এটা বলতে পারবেন। সাক্ষী আরও বলেন, ‘শান্তি কমিটি সম্পর্কিত আমার সব বক্তব্য তথ্যভিত্তিক। এর বাইরে কোনো বক্তব্য নেই।’
মিজানুল ইসলাম বলেন, শান্তি কমিটি সামরিক বাহিনীর কোনো সদস্যকে নির্দেশ দিয়ে কোনো অভিযানে পাঠাতে পারত না। এ সময় মুনতাসীর মামুন বলেন, শান্তি কমিটির সদস্যরা কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার জন্য পরামর্শ দিতে পারতেন এবং তাতে অংশ নিতেন। মিজানুল জানতে চান, শান্তি কমিটি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কোনো অভিযানে যাওয়ার পর তারা সম্মিলিতভাবে বা তাদের কেউ এককভাবে কোনো বিশৃঙ্খল কাজে জড়িত হলে তাদের শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা শান্তি কমিটির সদস্যদের ছিল কি না? জবাবে সাক্ষী বলেন, কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কখনো থাকে না।
কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির কোনো সদস্য কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, এমন তথ্য সাক্ষীর কাছে আছে কি না—আইনজীবীর এ প্রশ্নে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী বলেন, এ মুহূর্তে এমন তথ্য তাঁর কাছে নেই। শান্তি কমিটির সদস্যরা নিজের ইচ্ছায় অনেক কাজ করতেন। শান্তি কমিটির অধিকাংশ সদস্য বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, যদি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা বেসামরিক ব্যক্তির মধ্যে পড়ে।
বিকেলে জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় এই মামলার কার্যক্রম আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, আশা করব, আসামিপক্ষ আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) যত দ্রুত সম্ভব জেরা শেষ করবে। মিজানুল বলেন, তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
নয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি: কার্যক্রমের শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ-আল-মালুম নয়া দিগন্ত পত্রিকায় গতকাল প্রকাশিত ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নিয়ে কোনো গবেষণা করিনি; সাক্ষ্য দেয়ার পরপরই অস্বীকার’ শীর্ষক প্রতিবেদন নিয়ে ট্রাইব্যুনালে আপত্তি জানান। ট্রাইব্যুনাল এ সময় নয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রতিবেদককে বলেন, আদালত ও সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা আছে কি না? সাক্ষ্য দেওয়ার পর পর সাক্ষী তা অস্বীকার করেছেন, এটা কি তিনি নিশ্চিত? সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করার পর তা সাক্ষীকে আবার পড়ে শোনানো হয়, যদি তিনি তাতে রাজি না থাকেন, তবে আবার সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা হয়। মঙ্গলবার সাক্ষী, রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ—তিন পক্ষই একমত হওয়ার পর সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা হয়। ট্রাইব্যুনাল প্রতিবেদককে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, না বুঝলে বোঝার চেষ্টা করেন। জানার চেষ্টা থাকলে প্রতিবেদন সঠিক হবে। ট্রাইব্যুনাল নয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রতিবেদকসহ উপস্থিত সাংবাদিকদের সতর্কতার সঙ্গে প্রতিবেদন করার নির্দেশ দেন।
এর আগেও ট্রাইব্যুনাল কয়েকবার সাংবাদিকদের সতর্কতার সঙ্গে প্রতিবেদন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

২০১২.০৭.০৫ ০৯:৪৭
প্রমাণ সহ বলেন
২০১২.০৭.০৫ ০৯:৫৮
How a historian of opponent political ideology can a witness against a person who has political clash with the witness?

tea leaf

tea leaf

২০১২.০৭.০৫ ১২:১২
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো বাংলাদেশের জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। মামলাগুলোর জাবতীয় জিনিস ভবিষৎ প্রজম্নের জন্য একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। মামলাগুলোই বাংলাদেশের যুদ্ধ অপরাধী সমস্যা সমাধান করবে। এ মামলার মাধ্যমে জাতি জানতে পারবে জামায়াতি ইসলামী কতটুকু অপরাধী না তাদের বিরুদ্ধে শুধুই অপবাদ দেওয়া হয়। তাই এ মামলার সংবাদগুলো বিস্তারিত ভাবে প্রকাশ করলে পাঠকা উপকৃত হবে। যেহেতু প্রথম আলো পত্রিকাটিকে অনেক পাঠক তার আদর্শ হিসাবে মনে করে।

Mohammed Rezaul Karim

Mohammed Rezaul Karim

২০১২.০৭.০৫ ১৪:৪১
কারো যথেষ্ট প্রমান না থাকলে শুধু একাডেমিক বক্তব্য দেয়ার জন্য ট্রাইবুনালে না গেলে ভাল হয়।

amrul kayes

amrul kayes

২০১২.০৭.০৫ ১৮:৪৪
I do agree with the comments of "tea leaf & Mr. Mohammed Rezaul Karim"

Mohammed Khan

Mohammed Khan

২০১২.০৭.০৬ ১৯:৩৬
এখনও লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবিত আছেন যারা শান্তি কমিটি নামক আশান্তির হোতাদের আগ্রাসনের শিকার হয়েছিলেন। জামাতে ইসলামি দলের মুখপাত্র সংগ্রাম প্রত্রিকার আর্কাইভ খুললেই সব প্রমান এমনিতেই হাজির হবে।