• হোম
  • প্রথম পাতা
  •   আইডিয়াল, ভিকারুননিসা ও মনিপুর অতিরিক্ত নয় কোটি টাকা নিয়েছে

এক মাসের মধ্যে ফেরত না দিলে ব্যবস্থা

আইডিয়াল, ভিকারুননিসা ও মনিপুর অতিরিক্ত নয় কোটি টাকা নিয়েছে

মোশতাক আহমেদ | তারিখ: ০৫-০৭-২০১২

  • ১৬ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

রাজধানীর তিনটি নামকরা স্কুল ভর্তির সময় অভিভাবকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত নয় কোটি ৩১ লাখ ২৮ হাজার ১০০ টাকা আদায় করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত একটি কমিটির সরেজমিন প্রতিবেদনে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী এক মাসের মধ্যে ওই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) দেওয়া এক চিঠিতে এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয় বলেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে অনুসরণীয় নীতিমালা-২০১১-এর ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। উল্লেখ্য, ১০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘ভর্তির ফরম এবং ভর্তির ফি বাবদ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অর্থের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না, করলে সরকার এমপিও বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
অতিরিক্ত টাকা নেওয়া তিনটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মিরপুরের মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ।
মনিপুর স্কুলে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয় পাঁচ কোটি ২৩ লাখ ৭৬ হাজার ১০০ টাকা। এই বিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসসহ কয়েকটি শাখায় তিন হাজার ৫৪ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে তিন কোটি ৩৯ লাখ ৩৪ হাজার ৯০০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়। বিদ্যালয়টি মূল ক্যাম্পাসসহ এর কয়েকটি শাখায় তিন হাজার ৫৮২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করে। এই বিদ্যালয়ের মুগদা শাখা অনুদান নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করে।
ভিকারুননিসা স্কুলে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় ৬৮ লাখ ১৭ হাজার ১০০ টাকা।
গতকাল মাউশিকে এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত টাকা ফেরত বা সমন্বয়ের জন্য এক মাসের সময় দিয়ে নোটিশ প্রদান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক নোমান উর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিত বিষয় প্রতিপালনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে শিক্ষাসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘অবশ্যই আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ের ভর্তিতে নেওয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত বা সমন্বয় করার কথা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে এই আহ্বান জানালেও সিদ্ধান্তের পাঁচ মাসের বেশি সময় পরও তাতে কেউ সাড়া দেয়নি। এ জন্য মন্ত্রণালয়ও এ পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
জানতে চাইলে আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, নোটিশ পেলে পরিচালনা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, পরিচালনা কমিটিই করণীয় ঠিক করবে। উল্লেখ্য, এই কমিটির প্রধান হলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেনও বলেন, পরিচালনা কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। উল্লেখ্য, পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সরকারদলীয় স্থানীয় সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদার।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুয়ারা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, মামলা থাকায় প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে পরিচালনা কমিটি নেই। এ জন্য নোটিশ পাওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের কাছে সময় চাওয়া হবে। উল্লেখ্য, এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সময় পরিচালনা কমিটির প্রধান ছিলেন ঢাকার জেলা প্রশাসক মহিবুল হক।
অন্যান্য বিদ্যালয়ের অবস্থা: সরেজমিন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএএফ শাহীন কলেজে মোট ৭৮ হাজার ৬০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হলেও তা মাসিক বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজও সমন্বয় করেছে।
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলে ২৭ হাজার ৯২ হাজার টাকা বেশি নেওয়া হলেও তা সমন্বয় করা হয়নি। এই স্কুল সেনাসদরের অনুমতিক্রমে পরবর্তী বছরের সেশন চার্জের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছে।
হলিক্রস বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মোট ১২ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতা ও অন্য আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের জন্য পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিক্ষার্থীদের এই ফি ধার্য করা হয়। এ ক্ষেত্রে ছাত্রীদের কোনো টাকা বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, বনানী বিদ্যানিকেতন, সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল, সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গার্লস স্কুলে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়নি।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Mahtaf Hossain

Mahtaf Hossain

২০১২.০৭.০৫ ০৫:৫৮
অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ শুধু সমন্বয় করলেই হবে না, এ কার্যক্রম অবশ্যই একটা গর্হিত কার্যক্রম এবং এ কার্যক্রমের সাথে জড়িত ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী কার্যবিধির আওতায় ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এরূপ গর্হিত কার্যক্রমে উত্‌সাহিত না হয়।

Anowar Hossain @Kuwait

Anowar Hossain @Kuwait

২০১২.০৭.০৫ ০৭:৫৬
উন্নতমানের শিক্ষা প্রদানকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিষ্ঠানে হুমরি খেয়ে পড়ছে সেজন্যই প্রতিষ্ঠান গুলো অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ পাচ্ছে। প্রতি বছর যে হারে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে সেই হারে উন্নত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলে এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে ...

Mohammed

Mohammed

২০১২.০৭.০৫ ০৯:০৮
এ তথাকথিত সুশীলদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা কি শিখবে!

Foiz Ahmed

Foiz Ahmed

২০১২.০৭.০৫ ০৯:২৮
শিক্ষা সে তো আজ পণ্য নিয়ে হই ধন্য ।

Mohiuddin Maswood

Mohiuddin Maswood

২০১২.০৭.০৫ ১০:২৬
এর পরও আমরা মানবো এই প্রতিষ্ঠান গুলিতে শিক্ষক আছে এবং তারা শিক্ষা দান করেন। অবশ্য দেশের বেশীর ভাগ প্রতিষ্ঠানের চেহারা এ রকমই। কারণ একটাই শিক্ষা এখন পণ্য, সে পণ্য যারা যে ভাবে ক্রয়য়ের ক্ষমতা রাখেন তারা সে ভাবেই কেনেন। সুতরাং দায়টি অভিভাবক মহলেই প্রথম আসে। যে বিপুল ব্যয় করবার জন্য তারা প্রস্তুত তাদের বেশীর ভাগের আয়ের উৎসটিও ওরকম।অই প্রতিষ্ঠানগুলি শুধু সুযোগের ব্যবহার করছেন মাত্র।এই অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিভাবকরা কোনদিন মাঠে নামে না। কারণ নৈতিক শিক্ষার মূল্য তাদের কাছে সামান্যই, তারা একটাই চায় সার্টিফিকেটে শ্রেষ্ঠতম স্থানটি, ওটিরই বাজার মূল্য আছে। এই বাজার মূল্যের পণ্য ব্যবস্থায় শিক্ষকও থাকে না ছাত্রও থাকে না, থাকে শুধু ক্রেতা আর বিক্রেতা।

rezaul mustafa

rezaul mustafa

২০১২.০৭.০৫ ১১:০১
জাতীর পরিচালনাকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অবিভাবক, ............. যেখানে সবাই দুর্নীতিগ্রস্থ, সেইদেশে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে দুর্নীতি ছাড়া আর কি আশা করা যায়। এ ভয়াবহ ব্যাধী থেকে জাতীকে মুক্ত করেত চাইলে সর্বপ্রথম দেশপ্রেমিক দুর্নীতিমুক্ত পরিচালকের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে।
২০১২.০৭.০৫ ১১:১৬
we are nationally greedy.

Hayat Mahmud

Hayat Mahmud

২০১২.০৭.০৫ ১১:১৭
Our education minister speaks well, thinking well but doing nothing. . .

Asraf Jahan

Asraf Jahan

২০১২.০৭.০৫ ১১:২৬
'আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলে ২৭ হাজার ৯২ হাজার টাকা বেশি নেওয়া হলেও তা সমন্বয় করা হয়নি। '.....২৭ হাজার ৯২ হাজার টাকা বেশি!!!

assad

assad

২০১২.০৭.০৫ ১২:০০
এরা কি শিখাবে !?

Masud Rana Akanda

Masud Rana Akanda

২০১২.০৭.০৫ ১২:০৩
টাকা গুলো পদ্মা সেতু তহবিলে জমা করুন ! এখন দেখছি নাহিদ সাহেবের কথা কেউ শুনেনা । কামাল মজুমদার যে নারী সাংবাদিক কে পিটিয়েছিল তার বিচার করা দরকার । ঘটনা সত্য প্রমাণিত হল। সরকার এমপিও বাতিল সহ কিছুই করবেনা কারন সরকার দলীয় লোকজন জড়িত ।

Lama Chowdhury of Golmunda Chowdhury Estate

Lama Chowdhury of Golmunda Chowdhury Estate

২০১২.০৭.০৫ ১২:০৮
কেউ কিছু করতে পারবে না । এমনকি এডুকেসন মিনিসটারেরও চাকরি চলে যেতে পারে বারাবারি করলে ।

Md. Ruhul Alam Sharif

Md. Ruhul Alam Sharif

২০১২.০৭.০৫ ১২:১০
টাকা ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে অনেকদিন কেটে গেল, আবারও আশায় বুক বাঁধলাম।

Md. Jamal Uddin

Md. Jamal Uddin

২০১২.০৭.০৫ ১২:৩৭
শুধুমাত্র এই নামকরা স্কুলে নয়, দেশের প্রতিটি স্কুলে ভর্তির নামে বিবিধ চার্জ হিসাবে অতিরিক্ত মাশুল গুণতে হয় প্রতিটি অভিভাবকদরে প্রত্যেক বছর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরণের দুর্নীতি নিয়ে ছাত্ররা বড় হলে কোথ্থেকে নীতি শিক্ষা করবে ?

Md. Helal Uddin

Md. Helal Uddin

২০১২.০৭.০৫ ১৩:৩৯
now they are taking near about 9000tk for year change fees. you have to buy all the study materials from them with high cost. education now becomes simply business. we will not able to stop coaching business also. thousands of students are getting A+ but there hundreds are brilliants not all. day by day we are going backward only for corruption.

মোল্লা বাবুল (Mollah Babul)

মোল্লা বাবুল (Mollah Babul)

২০১২.০৭.০৫ ১৪:১১
প্রতি বছর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সময় ডোনেশন, শিক্ষকদের নিজস্ব কোচিং সেন্টারে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া, ভর্তির পর শিক্ষকদের কাছে ব্যাচে পড়ানোর উদ্দেশ্যে এলাকার ভালো ফলাফল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হচ্ছে।ব