ব্লেড রানারের স্বপ্নপূরণ
-
এভাবেই পিস্টোরিয়াসকে লন্ডন অলিম্পিকে দেখা যাবে ৪–৪০০ মিটার রিলেতে
ফাইল ছবি
-
ফাইল ছবি
জন্মের সময় দুই পায়ের নিচের অংশের হাড় ছিল না। ফলে মাত্র এক বছর বয়সেই কেটে ফেলা হয় দুই হাঁটুর নিচের অংশ। বড় হয়ে কৃত্রিম পায়ে দৌড়ে সেই ছেলেটি এরই মধ্যে ইতিহাসের অংশ। আরেক নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছেন তিনি। প্রথম দুই পাহীন অ্যাথলেট হিসেবে অস্কার পিস্টোরিয়াস দৌড়াবেন সক্ষমদের অলিম্পিকে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে লন্ডন অলিম্পিকে দৌড়াবেন ৪–৪০০ মিটার রিলেতে।
গত বছর দেগু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম দুই পাহীন অ্যাথলেট হিসেবে অংশ নেন ৪০০ মিটার ও ৪–৪০০ মিটার রিলেতে। ৪০০ মিটারে সেমিফাইনালে বাদ পড়েন। রিলের ফাইনালে না দৌড়ালেও তাঁর দল জিতে নেয় রুপা।
এবার অলিম্পিকে দৌড়ানোর আজন্ম স্বপ্নটা তাঁর পূরণ হতে চলেছে। নির্বাচিত হয়েছেন শেষ ভরসা ৪০০ মিটার রিলে দলে। স্বপ্নটা প্রায় মিথ্যেই হয়ে যাচ্ছিল। পাঁচ দিন আগে নিজের পছন্দের ইভেন্ট ৪০০ মিটারে অলিম্পিকের ছাড়পত্র অর্জনে ব্যর্থ হন। বেনিনে দক্ষিণ আফ্রিকার অলিম্পিক ট্রায়ালে দ্বিতীয় হলেও সময় নেন অলিম্পিকের বাছাইয়ের জন্য ‘নির্ধারিত’ সময়ের চেয়ে দশমিক ২২ সেকেন্ড বেশি। অলিম্পিক বাছাইয়ের নির্ধারিত সময় ৪৫.৩০ সেকেন্ড। পিস্টোরিয়াস সময় নেন ৪৫.৫২ সেকেন্ড।
স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় ২৫ বছর বয়সী অ্যাথলেট আনন্দে উদ্বেলিত। রিলে দলে বাছাইয়ের সংবাদ শোনার পরই তাঁর টুইট, ‘সত্যিই আজকের দিনটি আমার জীবনের এক আনন্দের দিন। অলিম্পিক গেমস এবং প্যারালিম্পিক গেমস দুটোতেই অংশ নিতে আমি লন্ডনে যাব। আমাকে যারা আজকের অ্যাথলেট হিসেবে গড়ে তুলেছে, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। ঈশ্বর, আমার পরিবার ও বন্ধুবান্ধব, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ও সমর্থক, সবারই অবদান আছে।’
কার্বনের কৃত্রিম পা লাগিয়ে দৌড়ান বলে নাম হয়ে গেছে ‘ব্লেড রানার’। আরেক নাম ‘পাহীন দ্রুততম মানব’। কৃত্রিম পায়ে দৌড়ান বলে অন্যায় সুবিধা পান—এই অভিযোগে তাঁকে সক্ষমদের টুর্নামেন্টে দৌড়ানোর অনুমতি দিতেই রাজি ছিল না আইএএএফ। ফলে পিস্টোরিয়াসকে জিততে হয়েছে আইনি লড়াইয়েও। এএফপি।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







