দুজনের বন্ধুত্ব এবং মরিনহো...

| তারিখ: ০৫-০৭-২০১২

  • ১ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
ক্যাসিয়াস-জাভির এই বন্ধুত্ব পছন্দ নয় মরিনহোর!

ক্যাসিয়াস-জাভির এই বন্ধুত্ব পছন্দ নয় মরিনহোর!

ফাইল ছবি

একজন যদি স্প্যানিশ অর্কেস্ট্রার কনডাক্টর হন, তবে আরেকজন থাকেন সেই অর্কেস্ট্রার আয়োজনে। ইউরো ২০০৮ থেকেই দুজনের সাফল্যের যুগলবন্দীর সূচনা, সেবার ট্রফিটাকে চুমু খেয়েছিলেন একসঙ্গে। দুই বছর পর বিশ্বকাপেও তাঁরা উদ্ভাসিত আপন আলোয়। ফলাফল? অধরা বিশ্বকাপ জয়! আর এবারের ইউরো জিতে তো ইতিহাসেরই অংশ হয়ে গেলেন তাঁরা। জাভি হার্নান্দেজ ও ইকার ক্যাসিয়াস দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের অধিনায়ক হতে পারেন, কিন্তু স্পেন দলে তাঁরা যেন একই বৃন্তে দুটি ফুল। সেই কিশোর বয়স থেকেই দুজনের মধ্যে হূদ্যতা। সময় গড়িয়েছে, ক্লাবের হয়ে দুজন দুজনের মুখোমুখি হয়েছেন অনেকবার। একজন হাসলে আরেকজন কেঁদেছেন, কিন্তু নিজেদের বন্ধুতায় কোনো আঁচড় লাগেনি।
বছর কয়েক ধরেই অবশ্য তাঁদের দুই ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার দ্বন্দ্বটা তুঙ্গে। কথার লড়াইয়ে কে কাকে হারাতে পারে, সেটা নিয়েও চলে অলিখিত লড়াই। বিবাদের পালে জোর হাওয়াটা অবশ্য রিয়াল কোচ হোসে মরিনহোই দিয়েছেন, আর তাই রিয়াল-বার্সার সম্পর্কও কিনা অনেকটা তেতো হয়ে গেছে। জাতীয় দলে বার্সার ছয়জন, রিয়ালের চারজন খেলোয়াড়। তার পরও তাঁদের এই অসামান্য যূথবদ্ধতার রহস্য কী? ‘ইগো’ নামের ভূতটা একবারও কারও ওপর চেপে বসেনি? জবাবটা দিয়েছেন জাভির বাবা। তাঁর মতে, জাভি ও ক্যাসিয়াসের দুর্দান্ত বোঝাপড়ার কারণেই স্পেন দলে কোনো ফাটল ধরতে পারেনি। স্পেন দলে একজনকেই অধিনায়ক হতে হতো। বাহুবন্ধনীটা ক্যাসিয়াসের হাতে সেই ২০০৮ থেকে। কিন্তু ওটা নিয়ে জাভি-ক্যাসিয়াসের মধ্যে কোনো মনোমালিন্য তো হয়ইনি, উল্টো দুজনের সমঝোতা বাকিদেরও করেছে দারুণ ঐক্যবদ্ধ।
কিন্তু হার্নান্দেজ সিনিয়র বোমাটা ফাটালেন এবার ইউরো জয়ের পরপরই। বলেছেন, দুই বন্ধুর এই হূদ্যতা নাকি মরিনহো মোটেই সুনজরে দেখেন না। ‘জাভির সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে ইকার মরিনহোর বিরাগভাজন হয়ে পড়ে। সমস্যাগুলো গত মৌসুমেই প্রকাশ্যে চলে আসে। সবাই জানে এটা। তবে জাভি ও ইকার কারোরই সম্পর্কটা নষ্ট করার কোনো ইচ্ছা ছিল না।’ কম রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন জাভির বাবা জোয়াকিন হার্নান্দেজ। এ নিয়ে মরিনহোর সঙ্গে ক্যাসিয়াসের হালকা বাদানুবাদও নাকি হয়েছিল। এত কিছুর পরও দুজনের সম্পর্কটা ছিল অটুট, আর ইউরোতে সেটারই সুফল পেল স্পেন। জাভি সিনিয়র অবশ্য আরেকজনকেও কৃতিত্ব দিচ্ছেন, ‘জাভি, ক্যাসিয়াস আর ভিসেন্তে দেল বস্কের জন্যই স্পেন এত দূর এসেছে। দলকে বেশ কিছু কঠিন মুহূর্তই পার করতে হয়েছে, কিছু খেলোয়াড়ের সম্পর্ক অম্ল-মধুর হয়ে পড়েছিল। কিছু খেলোয়াড়ের আচরণও ঠিক প্রত্যাশিত ছিল না। ভাগ্যক্রমে ইকার-জাভি ওটা সামাল দিতে পেরেছে।’ মরিনহো কি জাভির বাবার সমালোচনার জবাবে কোনো পাটকেল ছুড়বেন? গোল ডট কম।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Ehsan

Ehsan

২০১২.০৭.০৫ ০৯:২২
There is nothing surprising about this story.