লিগ নিয়ে নৈরাশ্যই বেশি
-
শিরোপা পুনরুদ্ধারের বিলীন হতে যাওয়া স্বপ্ন বেঁচে গেছে তাঁর শেষ মুহূর্তের গোলে। এক দিন পরেও যখন আবাহনী ক্লাবে শিরোপা উত্সবের রেশ, মধ্যমণি যথারীতি মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে ‘ফাইনাল’ জয়ের নায়ক জাহিদ হোসেন
শামসুল হক
-
খেলোয়াড়দের মধ্যে মারামারি নেই। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড হয়নি। যেটা ছিল একসময়ের নিয়মিত চিত্র। অনেক লম্বা সময় লাগলেও অবশেষে লিগটা শেষবিন্দু ছুঁয়েছে। পরশু শেষ হওয়া বাংলাদেশ লিগের সারসংক্ষেপে এই উপাদানগুলো জায়গা পাবে আলাদা করেই।
ঢাকার বাইরে ফেনী ও টাঙ্গাইলের মাঠ পেশাদার ফুটবল লিগের উপযোগী ছিল না। তবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠ তুলনামূলক মসৃণ এবং সবুজাভই ছিল লিগজুড়ে। এটা একটা বড় উন্নতি।
খেলার মানও আগের চেয়ে খানিক ভালো হয়েছে। কয়েকটি ম্যাচ তো দারুণ আকর্ষণীয় এবং গতিময়। এটা সব কোচই স্বীকার করছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে কয়েক গুণ। লিগ শুরুর আগে থেকেই অনুমান করা হচ্ছিল, এবার ছয় দলের লড়াইয়ের মঞ্চ হবে লিগ। কার্যত সেটি না হলেও শেষ পর্যন্ত আকর্ষণ ছিল।
আবাহনী চ্যাম্পিয়ন, মুক্তিযোদ্ধা রানার্সআপ। দলীয় শক্তির তুলনায় বেশ ভালো করে মোহামেডান তৃতীয়। তবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল, শেখ রাসেল এবং বিজেএমসির ফল তাদের জন্য প্রত্যাশিত নয়। দলগুলো রণে ভঙ্গই দিয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধার কোচ শফিকুল ইসলাম লিগটাকে ‘দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’ বলে পরে যোগ করলেন, ‘এটি খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে।’
প্রচণ্ড গরমে খেলা হচ্ছিল, পরের দিকে চৈতন্য ফিরে পেয়েছে বাফুফে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলা শুরু করা হয়েছে বিকেল সাড়ে পাঁচটায়। ম্যাচের অর্ধেক সময় খেলা ফ্লাডলাইট পেয়েছেন খেলোয়াড়েরা।
এসবই এই লিগের ইতিবাচক দিক। তবে নেতিবাচক দিক অনেক। যথারীতি এটিও ‘বিদেশিদের লিগ’ হয়ে থাকল। লিগের শীর্ষ ১০ গোলদাতার মধ্যে নেই স্থানীয় কেউ। সর্বোচ্চ ১৭ গোলদাতা বিজেএমসির ইসমাইল বাঙ্গুরা, স্থানীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ গোল মাত্র ৬টি (মিঠুন-রনি)! গোলরক্ষক আমিনুল প্রকাশ করছেন চূড়ান্ত হতাশা, ‘বিদেশি না কমালে এসব লিগ করে দেশের ফুটবলের কোনো উন্নয়ন হবে না। এটা আবার আমরা হাড়ে হাড়ে বুঝলাম এই লিগে।’
বারবার লিগ বন্ধ হয়েছে, সময় লাগল প্রায় ছয় মাস! যেটি এই লিগের সবচেয়ে বিরক্তিকর দিক। আলোচনা ছড়াই সকাল-বিকেল নানা অজুহাতে খেলা বন্ধ করেছেন কর্তারা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, মুক্তিযোদ্ধা শেষ ম্যাচটা খেলেছে ১৬ দিন পর! ম্যাচটা পিছিয়েছে চারবার! এটা তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে।
বারবার সূচি বদলের প্রভাব পড়েছে গ্যালারিতে। দর্শক জানতই না কবে কার খেলা। তাই বেশির ভাগ দিনই শূন্য থেকেছে গ্যালারি। আবাহনীর খেলায় তিন হাজার দর্শক হয়েছে গড়পড়তা। অন্য দলের আরও কম। তবে মোহামেডান ভালো করতে শুরু করায় সাদা-কালো গ্যালারিতে কোনো কোনো দিন ৭-৮ হাজার দর্শকও এসেছে।
দুর্ভাগ্যের বিষয়, মাঠে দর্শক-বিমুখতা নিয়ে কোনো উগ্যোগ নেওয়া হয়নি। ক্লাব তো নেয়ইনি, তারা খেলেই দায় সেরেছে। আর বাফুফে ছিল ঘুমিয়ে। তারা সামান্যতম একটা উদ্যোগও নেয়নি। এমনকি পরশু আবাহনী-মুক্তিযোদ্ধা শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটা নিয়ে চরম উদাসীন থেকেছে বাফুফে। কোনো রকম প্রচারণা চালানো হয়নি। লিগ নিয়ে তাদের কোনো পরিকল্পনার ছিটেফোঁটাও ছিল না।
সেটি আশা করা দুরাশা। বাফুফের কর্তারা নিজেরাই মাঠে আসেননি। দু-একজন এসেছেন বটে, তবে এঁদের কারও কারও মূল লক্ষ্য ছিল বিল-ভাউচার বানানো। বড় কর্তাদের দু-একজন হঠাৎ একদিন হয়তো এসেছেন টিভি ক্যামেরার সামনে সাক্ষাৎকার দিতে। খেলা দেখতে নয়! ফিফা-এএফসি নিয়ে ব্যস্ততার ফাঁকে ঘরের খেলা দেখার সময় কই!
পাতানো খেলার অভিযোগ আছে দুটি ম্যাচ নিয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি ধামাচাপা দেওয়ারই অপচেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। আসলে সরষের মধ্যেই তো ভূত। গত বছর শেখ জামাল-রহমতগঞ্জকে পাতানো খেলার জন্য জরিমানা করলেও এবার বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা চলছে। আর সেটি হলে এই লিগের গায়েও লাগবে কালিমা!
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







