শেরেবাংলা নগর এক্সচেঞ্জে অগ্নিকাণ্ড

১০ দিনেও সচল হয়নি সব সংযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ০৫-০৭-২০১২

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ১০ দিন পরও সচল হয়নি শেরেবাংলা নগর টেলিফোন এক্সচেঞ্জের সব সংযোগ। ফলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন গ্রাহকেরা।
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুল ইসলাম বলেন, পুরো এক্সচেঞ্জ সচল করতে আরও কিছু দিন সময় লাগবে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগুনে গ্রাহক সংযোগ দিতে প্রয়োজনীয় কানেকটিং ব্লক ও জাম্পার ওয়্যার পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে পুরো এক্সচেঞ্জ বন্ধ ও পুনরায় চালু করার মধ্যে প্রায় আট-নয় হাজার সংযোগ পুরোপুরি চালু করা যায়নি।’ রাত-দিন লোক লাগিয়ে পর্যায়ক্রমে সংযোগগুলো চালু করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, সংযোগ পুনরায় ঠিক না হওয়ায় অভিযোগকারী গ্রাহকদের বেশির ভাগই লালমাটিয়া, কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডির একটি অংশ (৩২ নম্বরের পাশের রাস্তা), ফার্মগেট, বাংলামোটর ও তেজগাঁও এলাকার। এসব এলাকায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও অনেক বেশি বলে জানান অভিযোগকারীরা।
গত ২৫ জুন ভোরে শেরেবাংলা নগর এক্সচেঞ্জে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে ৮০ হাজার সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী অগ্নিকাণ্ডে ভবনের সুইচরুম (এমডিএফ) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই দিন বিকেলে প্রায় ৭৭ হাজার সংযোগ চালু করা হয়েছে বলে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ (২৫ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়। কিন্তু ওই ৭৭ হাজার টেলিফোন সংযোগ পুরোপুরি চালু হতে আরও ৪৮ ঘণ্টা লাগে। এ ছাড়া বাকি তিন হাজার সংযোগ এখনো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনা তদন্তে বিটিসিএলের মহাব্যবস্থাপক শাহিদুল আলমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। তাদের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, শর্ট সার্কিটের কারণে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকা। নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং পুনরায় চালু করার সময় ৮১১ ও ৮১২ ক্রমিকের নম্বর অনুযায়ী সংযোগগুলো চালু করা যায়নি। কারণ আগুনে এমডিএফ কক্ষ খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া এগুলো অনেক পুরোনো ক্রমিকের নম্বর হওয়ায় সুইচরুমের জটিলতা সারতে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
১০ দিনেও সংযোগ চালু না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ এনেছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
তবে বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুল ইসলাম জানান, কোনো গ্রাহক যদি সংশ্লিষ্ট অভিযোগ কেন্দ্রে অভিযোগ জানান, তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে গ্রাহকেরা ৯১১০১৪৪ ও ৯১১০২৫৫ নম্বরে ফোন করে বিভাগীয় প্রকৌশলীদের কাছেও অভিযোগ জানাতে পারবেন বলে জানান তিনি।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন