রপ্তানি বাড়াতে অবকাঠামো ও শ্রমমান বিধি পালন জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ০৫-০৭-২০১২

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়াতে বাণিজ্য কৌশল ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অধিক দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির পাশাপাশি শ্রমমান বিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করা জরুরি।
গতকাল বুধবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশে রপ্তানি সুদৃঢ় ও ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের অন্যতম সামর্থ্য তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতটি অদূর ভবিষ্যতে ও মধ্য মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে থাকবে। তাই রপ্তানি বাড়াতে শুধু এই খাতের বিদ্যমান সামর্থ্য সংহত করেই নয়, বরং অধিক দামের তৈরি পোশাক রপ্তানির দিকে নজর দিতে হবে। এর পাশাপাশি অন্যান্য রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনা দরকার।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের চেয়ারম্যান ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। আর প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় কাঠুরিয়া ও অর্থনীতিবিদ আবুল বাশার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দক্ষতার ঘাটতি তৈরি পোশাক খাতেও ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ জোরদার করতে হবে। যেহেতু বাংলাদেশ অধিক হারে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে অগ্রসর হচ্ছে, তাই শ্রমমান ও কাজের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের বিধি প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
চেয়ারম্যান ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘এ দেশের নিম্নতম মজুরিই প্রতিযোগীসক্ষমতার প্রধান বিষয়। এর মানে হলো, দারিদ্র্যই প্রতিযোগিতার ভিত্তি। এটা ভালো কথা নয়। উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে যদি প্রতিযোগিতায় থাকতে পারি, তবেই মজুরি বাড়াতে পারব।’
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, উৎপাদন ও বিনিয়োগের জন্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ-সংকট, অবকাঠামো দুর্বলতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতাই প্রতিবন্ধকতা। এই প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে। দুর্নীতিও কমাতে হবে। যদি প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানো যায়, তবে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, আগামী কয়েক বছরে কত প্রবৃদ্ধি হবে তা নির্ভর করবে তৈরি পোশাক খাতের ওপর। আর সামনের দিনগুলোর অনিশ্চয়তার কথা নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় আনা উচিত।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জরুরি ভিত্তিতে শ্রমমান নিশ্চিত করা দরকার। এ দেশে মালিক ও শ্রমিকদের সম্পর্ককে সবসময় যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তিনি জানান, এক দশকে প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়েছে ৭৪ শতাংশ, আর মজুরি বেড়েছে ৪ শতাংশ। তাঁর মতে, অতীতের কর্মকাণ্ড দিয়ে তৈরি পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মূল্যায়ন হওয়া উচিত নয়। দৃশ্যপট যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘চীন বিশেষ সুবিধা ছাড়াই বিশ্ববাজারের ৪২ শতাংশ দখল করে আছে। তবে আমরা কেন পারব না? আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’
সঞ্জয় কাঠুরিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তৈরি পোশাক খাতের জন্য বাংলাদেশের যে বিদ্যমান ব্যয়, তা অধিক দামের পোশাক তৈরি বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার জন্য পর্যাপ্ত না-ও হতে পারে।
আবুল বাশার বলেন, সুস্থ ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সরকারকে আরও নিবিড়ভাবে ব্যক্তি খাতের সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং বস্ত্র কারখানাগুলোকে আবাসিক এলাকা থেকে শিল্প এলাকার নিরাপদ ভবনে স্থানান্তরে সহায়তা দিতে হবে।
তৈরি পোশাক উদ্যোক্তারা এমনিতেই বেশি সুবিধা পাচ্ছেন—উল্লেখ করে উইমেন চেম্বারের সভাপতি সেলিমা আহমেদ বলেন, সব উদ্যোক্তার জন্য সুবিধা দিতে হবে।
এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনোজ কুমার রায়, আমেরিকান চেম্বার ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) নির্বাহী পরিচালক এ গফুর মতামত দেন।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন