শিরোনাম:

বিপর্যয়ের পথে পৃথিবী!

| তারিখ: ০৮-০৬-২০১২

  • ৭ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

নতুন একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পৃথিবী বিপর্যয়মূলক ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এতে ধ্বংস হয়ে যাবে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য দরকারি প্রাণিকুল। পানি, বন ও ভূমির অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে এই ভয়াবহতার সৃষ্টি হয়েছে।
বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের একটি দল এই গবেষণা করেছে। সাময়িকী নেচার-এ গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, পৃথিবী এমন একটা পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে ধ্বংস আর অবিশ্বাস্য সব পরিবর্তন সংঘটিত হবে। আর এই ধ্বংসলীলা এমন মাত্রায় সংঘটিত হবে, যা ১২ হাজার বছর আগে হিমবাহ গলতে শুরু করার পর আর ঘটেনি।
বিজ্ঞানীরা বলেন, ব্যাপক এই ধ্বংসলীলায় বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী হারিয়ে যাবে। ব্যাহত হবে ফসল উৎপাদন। এতে সম্পদ নিয়ে পৃথিবীজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেবে।
গবেষকদলের সদস্য ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যান্থনি বারনস্কি বলেন, ‘এই শতাব্দীর শেষ দিকে এই বিপর্যয়ের জোর সম্ভাবনা আছে। পৃথিবী খুবই ভিন্নমাত্রা পরিগ্রহ করছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ১৮ জন বিজ্ঞানী এই গবেষণা করেন। গবেষণায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশ নিয়ে করা গবেষণা পর্যালোচনা করেন। পরে তাঁরা ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্তে উপনীত হন।
বারনস্কি বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পরিবেশের ওপর যে চাপ পড়ছে, ভবিষ্যতে তা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ থাকবে না।’
তিন হাজার বছরেরও কম সময় আগে পৃথিবীর ৩০ শতাংশ বরফে ঢাকা ছিল। কিন্তু এখন প্রায় বরফহীন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। এই গ্রহের বেশির ভাগ বিলুপ্তির ঘটনা এবং পরিবেশ-প্রতিবেশগত পরিবর্তন গত ১৬০০ বছরে ঘটেছে।
বারনস্কি বলেন, পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য আগে যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থায় এখনো ফিরে আসেনি। মানবজাতির কারণে দ্রুত এর পরিবর্তন ঘটছে। হিমবাহ গলছে, পরিবর্তন ঘটছে বড় ধরনের।
শিল্পবিপ্লব শুরু হওয়ার পর ৩৫ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড বাড়ার কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতার মাত্রা অতীতের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। তিনি বলেন, ভূপৃষ্ঠের ৪৩ শতাংশ মানবজাতি কৃষিজমি ও নগরায়ণে রূপান্তর করেছে, যা সর্বশেষ বরফযুগে ছিল ৩০ শতাংশ। অধিকন্তু জনসংখ্যা বাড়ার কারণে পৃথিবীর সম্পদের ওপর নজিরবিহীনভাবে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
গবেষকেরা বলেন, পৃথিবীর সম্পদ এক দেশ থেকে আরেক দেশে স্থানান্তরিত হলে রাজনৈতিক অস্থিরতাও স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকবে।
ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ পৃথিবীর জনসংখ্যা দাঁড়াবে ৯০০ কোটিতে। তাই মানবজাতিকে টিকে থাকতে হলে তাদের আরও দক্ষ হতে হবে।
বারনস্কি বলেন, অধিকতর দক্ষতার সঙ্গে জ্বালানির ব্যবহার, জ্বালানি উৎপাদন ও নবায়নকৃত সম্পদের ওপর জোর দিতে হবে। তা ছাড়া আজকের সম্পদ ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যুগসন্ধিক্ষণে। যদি আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো পদক্ষেপ না নিই, তাহলে সত্যিই সেই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির শিকার হব।’ পিটিআই।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Mahtaf Hossain

Mahtaf Hossain

২০১২.০৬.০৮ ০৮:৫৬
‘আমরা যুগসন্ধিক্ষণে। যদি আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো পদক্ষেপ না নিই, তাহলে সত্যিই সেই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির শিকার হব।’

সপ্তর্ষি

সপ্তর্ষি

২০১২.০৬.০৮ ১০:০১
মানুষ-ই পৃথিবীর একমাত্র শত্রু। অন্যান্য উদ্ভিদ প্রজাতি এবং প্রাণীকুল যেখানে পৃথিবী-র মঙ্গলের জন্য ভারসাম্য রক্ষা করে চলছে, সেখানে আমরা মানুষ পৃথিবী-কে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছি। মহাকালের কোন এক সময় হয়তো কোন মানুষ-ই বলতে পারবে না যে "মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব", অন্য কোন প্রাণীর নাম বলতে হবে।

Mohd Elias Khan

Mohd Elias Khan

২০১২.০৬.০৮ ১০:৩৬
এই পৃথিবী মানুষের জন্য সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষ এর কারনে ধংষও হবে।

Faroque Ahmed

Faroque Ahmed

২০১২.০৬.০৮ ১২:৩৩
In this situation to control the CFC gas in the world??

২০১২.০৬.০৮ ১৫:১৩
বর্তমান পৃথিবীর সকল মানুষের সাথে আরো এতগুলো মানুষ যোগদিয়ে, তারা সবাই মিলে যদি আজ থেকে, সকল কাজ বাদ দিয়ে শুধু হাতুড়ি শাবল নিয়ে পৃথিবীকে ধ্বংস করার কাজে লেগে যায় তবুও মানুষগুলো হয়তো ধ্বংস হতে পারে কিন্তু পৃথিবী নামক গ্রহটির কিছুই হবে না। যারা কথায় কথায় পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার থিওরী ঝাড়ে তারা আসলে এই মহাবিশ্বের অস্তিত্ব সম্পর্কে খুব কম ধারনাই রাখে।

Kalhan Sanyal

Kalhan Sanyal

২০১২.০৬.০৮ ১৯:১৩
মানুষের ভেতর দেবত্ব আবার মানুষের ভেতর ছয় রিপুর অবস্থান,
বাসনার ভেতর ধংশের বীজ, মানুষ আকাশকে ধরতে চায় ,
নিজেকে মহা-বিস্তার করতে চায়, আবার হিংসায় ভাইকে ধংস করতে চায়, এমন মনে আসে ,অবসাদে মা ধরিত্রী নিজেকে বিদীর্ণ করার আগে,
আনবিক হিংসা মা কে ধংস করে ফেলবে, তার জন্যে আমরা সবাই দায়ী
থাকছি I

Abir

Abir

২০১২.০৬.০৮ ২৩:০০
আমি কয়েক মাস আগেই আমার নিজের গবেষণায় ঠিক একই ধরনের তথ্য গুলো আমার ওয়েব সাইট এ উল্লেখ করেছিলাম .... কিন্তু বাঙালি বলে-ই সেটা কোনো গ্রহণ যোগ্যতা পায় নাই ... তাছাড়া কয়েকজন মন্তব্যকারী আমাকে পাগল বলেও উল্লেখ করেন ...আমাদের দেশে গবেষনার পরিবেশ-ই নাই। ভালো কথা আমার হিসাবে ২০৪১ নাগাদ পৃথিবীর জনসংখ্যা ৯০০ কোটি অতিক্রম করবে। আর আমার হিসাব যদি ঠিক হয় তাহলে পৃথিবী কোনো ভাবেই ৯০০ কোটি লোকের সংস্থান করতে পারবে না। সত্যিকার অর্থে পৃথিবীর মোট মানুষ ধারণ ক্ষমতা ৩৫০ কোটির নিচে। নিজদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে যে করে-ই হোক আমাদের জনসংখ্যা খুব-ই অল্প সময়ের ভিতরেই ৩৫০ কোটির নিচে নামিয়ে আনতে হবে। আর আমার গবেষণা মতে যেকোনো ভাবেই সেটা সম্ভব না .... সুতরাং প্রকৃতি তার নিজের শক্তি দিয়েই সেটা সমন্নয় করে নিবে..... আর সেক্ষত্রে আগামী ৫০ বছর মানুষ অবিশ্বাস্য রকম মৃত্যুর মিছিল দেখবে।