এসিডদগ্ধ দুই নারী গাভি পেলেন
রামপালের দুই এসিডদগ্ধ নারীকে গতকাল প্রথম আলো ও সিএসএসের উদ্যোগে দুটি গাভি দেওয়া হয়
ছবি: প্রথম আলো
‘এসিডে ঝলসে যাওয়ার পর থেকে স্বামী-সংসার হারায়েছি। সেই থেকে বাপের সংসারে পড়ে রইছি। আজ পর্যন্ত কেউ কোনো সাহায্য করিনি। কিন্তু প্রথম আলো-সিএসএসআলারা আমারে স্বাবলম্বী কত্তি একটা দুধির গরু দেছে। এখন নতুন করে আবার বাঁচতি পারবানি।’
কথাগুলো খালেদা পারভীনের (৩০)। তাঁর বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার কালেখার বেড় গ্রামে। ২০০৫ সালে ছোট বোনের স্বামীর ছোড়া এসিডে ঝলসে যায় তাঁর শরীর। এসিডদগ্ধ নারীদের জন্য প্রথম আলো সহায়ক তহবিল এবং সিএসএসের যৌথ উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁকে একটি গাভি দেওয়া হয়েছে। সেই গাভি পেয়ে এভাবেই খালেদা তাঁর অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। এসিডে ঝলসে যাওয়ার পর প্রথম আলো ও সিএসএস তাঁর চিকিৎসাও করিয়েছে।
শুধু খালেদা নন, একই উপজেলার কুমলাই গ্রামের এসিড-সন্ত্রাসের আরেক শিকার শারমিন সুলতানাকেও (২৯) একটি গাভি দেওয়া হয়েছে। গাভি পেয়ে শারমিন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘পারিবারিক গণ্ডগোলের কারণে চার বছর বয়সে এসিড-সন্ত্রাসের শিকার হইলাম। এখনো আমার মুখ বান্দেই চলতি হয়। আমি মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী। গাভি পেয়ে আমার বেশ উপকার হলো।’ শারমিন তাঁকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করার জন্য প্রথম আলোর কাছে সহায়তা চান।
খুলনার রূপসা উপজেলার রেভা. আবদুল ওয়াদুদ মেমোরিয়াল হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে দুই নারীকে গাভি দেওয়া হয়। সিএসএসের স্বাস্থ্য প্রকল্পের পরিচালক কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরুল ইসলাম। তিনি এসিডদগ্ধ দুই নারীকে দুটি সেলাই মেশিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানে এসিডদগ্ধ নারীদের জন্য প্রথম আলো সহায়ক তহবিলের সমন্বয়কারী ফেরদৌস ফয়সল বলেন, এই তহবিল থেকে এ পর্যন্ত ২৮৪ জন এসিডদগ্ধকে অর্থ, গরু বা জমি দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনার দৈনিক পূর্বাঞ্চল-এর নির্বাহী সম্পাদক আহমেদ আলী খান, সিএসএসের পরিচালক যোগেন শরেণ প্রমুখ।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






