ইলিশের দাম চড়া
নববর্ষের দিন পান্তার সঙ্গে এক টুকরো ইলিশ না হলে যেন চলেই না। তাজা ইলিশ পেতে কক্সবাজারের টেকনাফে এখন ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের ভিড়। ইলিশ কিনতে দিন পনেরো আগেই তাঁরা টেকনাফ এসেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাইরের ব্যবসায়ীরা ঘাট থেকে মণকে মণ ইলিশ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে স্থানীয় বাজারে ইলিশের সংকট দেখা দিয়েছে। পাল্লা দিয়ে প্রতিদিন বাড়ছে ইলিশের দাম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শাহপরীর দ্বীপে ছোট আকারের এক কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ টাকায়। মাঝারি আকৃতির ইলিশের দাম ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা। আর এক কেজির বেশি ওজনের একটি ইলিশ এক হাজার ১৫০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বড় আকারের ইলিশ এখন টেকনাফের হাট-বাজারে মিলছে না। সপ্তাহ তিনেক আগেও এসব ইলিশ ৩০০, ৫৫০ ও ৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে এসব ইলিশ ঢাকা ও চট্টগ্রামে নিয়ে আরও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এক কেজি আকৃতির প্রতি মণ ইলিশ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে একই আকৃতির ইলিশ টেকনাফের বড়বাজারে ৫০ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মণ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। সপ্তাহ তিনেক আগে এর দাম ছিল ১৫ হাজার টাকা। দুটি ইলিশে এক কেজি হলে তা বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকায় (মণ)। তিন সপ্তাহ আগে এ আকৃতির প্রতি মণ ইলিশের দাম ছিল সাত হাজার টাকা।
স্থানীয় ইলিশ বিক্রেতা আলী হোসেন ও জাহেদ হোসেন বলেন, বর্ষবরণের পাশাপাশি মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। এ ছাড়া জেলেরা সাগরে গিয়ে জাল ফেলতে পারছেন না। তেমনি মাছের দেখাও মিলছে না। পয়লা বৈশাখ পর্যন্ত ইলিশের দাম বাড়তেই থাকবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। গত বছর চৈত্রসংক্রান্তিতে টেকনাফে প্রতি মণ ইলিশ ৭০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল।
টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাছান বলেন, টেকনাফে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে ঠিকই, কিন্তু স্থানীয় বাজারে টাকা দিয়েও ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা ঘাট থেকেই মণকে মণ ইলিশ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই স্থানীয় হাট-বাজারে ইলিশের সংকট দেখা দিয়েছে।
ঢাকার যাত্রাবাড়ী, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাসান ব্যাপারী ও খালেদ নেওয়াজ জানান, গত বছর টেকনাফ থেকে ইলিশ কিনে প্রচুর মুনাফা হয়েছিল। তাই এবারও এখানে এসেছেন তাঁরা। টেকনাফে ইলিশের আড়তদার মো. রফিক বলেন, গত বছর এ সময় টেকনাফ থেকে কোটি টাকার ইলিশ ঢাকা ও চট্টগ্রামে সরবরাহ করা হয়েছিল। চলতি বছর আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন প্রথম আলোকে জানান, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় জেলেরা জাটকা নিধন করছেন। তাই মাছের ঘাটগুলোয় বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।







zkarim
২০১২.০৪.০৮ ২১:০৭হা হা হা
zkarim
২০১২.০৪.০৮ ২১:১২বাংলাদেশে মন্ত্রীরা সেসব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোঠা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন তাই। সরকারের কি কোন দায়িত্ব নেই।বাজার মনিটরীং করলে দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হত।