শিরোনাম:

এসিডদগ্ধ রানু পেলেন ১৫ শতাংশ জমি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি | তারিখ: ২৭-০৩-২০১২

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

‘এসিডে দগ্ধ হবার পরে আমার জীবনটা অন্যরকম হয়ে গেছে। প্রথম আলো যে বন্ধকি জমি দিয়েছে, তাতে বছরে দুইবার ধান হয়। এই জমির ধান বিক্রির টাকা দিয়ে আমার বাবার সংসারে সহযোগিতা করছি। পাশাপাশি লেখাপড়া আবারও শুরু করেছি।’
এসিডদগ্ধ নারীদের জন্য প্রথম আলো-সহায়ক তহবিল থেকে ১৫ শতক বন্ধকি জমির দলিল গত রোববার হাতে পেয়ে এসব কথা বলেন এসিডদগ্ধ নার্গিস আক্তার রানু। তাঁর বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতার হাটাবোর টেকপাড়া গ্রামে।
রোববার বেলা একটায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এই দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম এসিডদগ্ধ নার্গিস আক্তার রানুর হাতে বন্ধকি জমির দলিল তুলে দেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সহসভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, প্রথম আলো-সহায়ক তহবিলের সমন্বয়কারী ফেরদৌস ফয়সাল, জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবির) পরিদর্শক মঈনুর রহমান, প্রথম আলোর নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি আসিফ হোসেন, আলোকচিত্রী পাপ্পু ভট্টাচার্য্য, রানুর ভাই সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
জেলা পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম এসিডদগ্ধ নার্গিস আক্তার রানুর হাতে বন্ধকি জমির দলিল হস্তান্তর করে বলেন, ‘প্রথম আলো সংবাদপত্র প্রকাশনার পাশাপাশি এসিড-সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে দীর্ঘ দিন যাবৎ কাজ করে আসছে, যা সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। এসিডদগ্ধ নারীদের চিকিৎসা-সহায়তা ও পুনর্বাসনে প্রথম আলোর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নারায়ণগঞ্জের বর্তমান পুলিশ প্রশাসন এসিড-সন্ত্রাস এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দায়ের করা মামলাগুলো বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তকাজ সম্পন্নের চেষ্টা করে, যাতে আসামিদের দ্রুত বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়।’
প্রেম নিবেদন করে ব্যর্থ হয়ে ২০০১ সালের ১১ জুন প্রকাশ্যে রূপগঞ্জের কাঞ্চনের ভারত চন্দ্র গার্লস স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী নার্গিস আক্তার রানুকে স্কুল থেকে ফেরার পথে রাস্তায় এসিড ছুড়ে মারে বখাটে রাসেল। কাঞ্চনের কালাদী গ্রামের রফিকের ছেলে রাসেলকে ঘটনার পরপর গ্রেপ্তার করা হয়। এসিডে নার্গিস আক্তার রানুর গলা ও পিঠ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। রানুর নানা মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে রাসেলকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার বাদী রানুর নানা কয়েক বছর আগে মারা যান। পাঁচ বছর কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে এসে একমাত্র আসামি রাসেল লাপাত্তা। মামলাটি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের আদালতে বিচারাধীন। এসিডদগ্ধ রানু এসএসসি পাস করলেও অর্থের অভাবে লেখাপড়া আর এগোয়নি। এখন তিনি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আবারও পড়াশোনা শুরু করেছেন।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন