কষ্টে আছে সাতক্ষীরার এসিডদগ্ধরা
সহজলভ্য হওয়ায় সাতক্ষীরায় এসিড-সন্ত্রাস কমছে না। জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল জেলা কমিটির নিয়মিত সভা হলেও তা এসিড-সন্ত্রাস প্রতিরোধে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না। এসিড-সন্ত্রাসের শিকার অধিকাংশ নারী-পুরুষ ও শিশু দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় তাঁরা মানবেতর জীবন যাপন করছে।
বেসরকারি সংস্থা স্বদেশ-এর তথ্যানুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে ২০১২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত জেলায় এসিড আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৮ জন। এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের দাবি, জেলায় এসিড আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৯। আবার জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মতে, সে সংখ্যা ১০৫ জন।
জানা যায়, এসিড নিয়ন্ত্রণ জেলা কমিটির সভা দুই মাস পর পর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এসিড আক্রান্তদের পুনর্বাসনের জন্য জেলা কমিটি তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ পায়। গত ২৪ জানুয়ারি ১৮ জন এসিড আক্রান্তকে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি এক লাখ ২০ হাজার টাকা ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো বিতরণ করা হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা এসিড নিয়ন্ত্রণ কমিটির এক সদস্য জানান, প্রতি মাসে কমিটির সভা হয়। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনাও হয়। কিন্তু আলোচনার সিদ্ধান্ত চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তিনি আরও জানান, এসিড বিক্রি ও ব্যবহারের জন্য জেলায় ১৭টি লাইসেন্স থাকলেও জুয়েলারি, অটোমোবাইল, রং মিস্ত্রি, শাখা কারিগর, বস্ত্র কারিগর মিলিয়ে হাজার খানেক প্রতিষ্ঠান এসিড ব্যবহার করে। সভায় অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন হয় না। এ ছাড়া সাতক্ষীরা সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় চোরাইপথে সহজে এসিড আনা যায়। গত জানুয়ারিতে চারজন এসিড-সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাছখোলা গ্রামের নূরবানু জানান, একটি এনজিও তাঁকে ঘর করে দিয়েছে। একইভাবে সদর উপজেলার দেবনগর গ্রামের গঙ্গা রানী জানান, পুনর্বাসনের জন্য তাঁকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। জমি কেনার জন্য তিনি টাকা ব্যাংকে রেখেছেন। এখন অন্যের জমিতে মজুরি খেটে চলছে তাঁর জীবন।
তালা উপজেলার পাকশিয়া গ্রামের পূর্ণিমা রানী মণ্ডল জানান, জেলা এসিড নিয়ন্ত্রণ কমিটির দেওয়া ১০ হাজার টাকা তিনি ব্যাংকে রেখেছেন। ওই টাকা দিয়ে কাপড় কিনে দর্জির কাজ করবেন। এখন অন্যের জমিতে মজুরি খেটে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে কোনো রকম বেঁচে আছেন।
জেলা এসিড নিয়ন্ত্রণ কমিটির সদস্যসচিব সদ্য বদলি হওয়া সহকারী পুলিশ সুপার অহিদুজ্জামান জানান, নানা রকম সমস্যা থাকার পরও কমিটির সভা নিয়মিত হতো। আইনগত সমস্যা ছাড়াও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে অনেক সময় ইচ্ছা থাকার পরও অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






