শিরোনাম:

বাংলাদেশের সমুদ্রজয়

হিসাব মেলাতে দরকার চুলচেরা বিশ্লেষণ

রাহীদ এজাজ | তারিখ: ১৬-০৩-২০১২

  • ১৬ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের (ইটলস) রায়ের ফলে চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশ কতটা লাভবান হয়েছে, তা জানতে রায়টির চুলচেরা আইনি বিশ্লেষণ প্রয়োজন। সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা প্রথম আলোর কাছে এ মন্তব্য করেছেন।
এই রায়ে উপকূল থেকে বঙ্গোপসাগরের ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ওই এলাকা ছাড়িয়ে মহীসোপানের বাইরের সামুদ্রিক সম্পদে অধিকার পেয়েছে বাংলাদেশ।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ও ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উমিন লুউইন বলেছেন, ইটলস যে রায় দিয়েছেন, তাতে দুই দেশের বিজয় অর্জিত হয়েছে। এ রায় দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
গত বুধবার জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ইটলসে ২১-১ ভোটে বাংলাদেশের পক্ষে রায় ঘোষিত হয়। ট্রাইব্যুনালের সভাপতি জোসে লুই জেসাস ঘোষিত রায়ের মাধ্যমে তেল-গ্যাসসমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সীমানা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হলো। দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে চলে আসা দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় কোনো ফলপ্রসূ সমাধান না পাওয়ায় বাংলাদেশ ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর মিয়ানমারের বিপক্ষে আলোচ্য আইনি কার্যক্রমের সূচনা করে। ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর মামলা দাখিল করে বাংলাদেশ। ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ নেই।
ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উমিন লুউইন গতকাল বলেছেন, ‘রায়টি আমরা মেনে নিয়েছি। তবে শুধু বাংলাদেশই নয়, দুই দেশের জন্য জয়ের পথ সুগম হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের এ রায় দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।’ রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে সেন্টার ফল পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মানি থেকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, মিয়ানমারের জন্যও একটি বিজয়। কেননা, এই রায়ের মাধ্যমে দুই দেশ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে শান্তিপূর্ণ উপায়ে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের নিষ্পত্তি করেছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমান বলেন, রায়টি পুরোপুরি না দেখে এ সম্পর্কে এখন কিছু বলাটা আগাম মন্তব্য করা হবে। রায় বিশ্লেষণ ছাড়া মন্তব্যটা হবে রাজনৈতিক।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির রায়-পরবর্তী বক্তব্যের সমালোচনা করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করছেন, বাংলাদেশ ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে রায় পেয়েছে। আসলে কৌশলগতভাবে রায়ের মাধ্যমে আমরা উপকৃত হয়েছি। এখন প্রশ্ন হলো, আমাদের ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তি কী ছিল? কৌশলগত ভিত্তিটা কী? কাজেই এসব বিশ্লেষণ না করে মন্তব্য করাটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সমুদ্রসীমার দাবির বিষয়টি জাতীয় প্রসঙ্গ। এটি তো আওয়ামী লীগ বা বিএনপির বিষয় নয়।’
সাবেক এই সচিবের অভিযোগ, সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে সালিস আদালতে যাওয়ার আগে স্বচ্ছতার প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। তিনি বলেন, ‘এ রায়ের মাধ্যমে আমরা কতটা পেয়েছি, কতটা হেরেছি, তার বিশ্লেষণ করতে হবে। সেই সঙ্গে খতিয়ে দেখতে হবে আমাদের পক্ষে আর বিপক্ষে যে বিচারক মত দিয়েছেন, তাঁদের এবং মিয়ানমারের প্রতিক্রিয়া।’
জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাংক ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড কমপ্যারাটিভ লর গবেষক এম হাবিবুর রহমানের মতে, রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সাবেক ডিন এম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এই রায়ের কারণে এটা বলা যায় না যে আমাদের বিপরীতে ভারতের দাবিও আপনাআপনি খারিজ হয়ে যাবে। জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক ১৯৮২ সালের কনভেনশন প্রতিবেশী সব দেশকে ১২ নটিক্যাল মাইল করে সমুদ্রসীমার অধিকার দিয়েছে। আইন আছে বলেই আজ ট্রাইব্যুনালে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। আইনি দৃষ্টিতেই আমাদের সমস্যাটাকে দেখতে হবে এবং ভাবতে হবে বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের।’
ইটলসের রায়ের ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি যেমন এ রায়ে সন্তুষ্ট, তেমনি ২০০ নটিক্যাল মাইলে মিয়ানমারের অধিকার সম্পর্কে তাঁর হতাশাও আছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে রায়টি যে আমাদের পক্ষে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। মামলার পর থেকে স্বল্পতম সময়ে এর চেয়ে ভালো আর কোনো রায় হতে পারে না। তবে ২০০ নটিক্যাল মাইলের বাইরে যে মিয়ানমারের কোনো অধিকার নেই, সে ব্যাপারে আমরা ট্রাইব্যুনালকে আমাদের যুক্তি বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Md Ibrahim Faisal

Md Ibrahim Faisal

২০১২.০৩.১৬ ০২:২৭
প্রতিবেদকের প্রতি: স্প্যানিশ ভাষায় Jesus উচ্চারন হবে হেসুস।

kazi saimul haque

kazi saimul haque

২০১২.০৩.১৬ ০২:৩৩
ভাল কাজ

Moshiur Rahaman

Moshiur Rahaman

২০১২.০৩.১৬ ০২:৩৫
পানির মধ্যে এতো মাতামাতি কেন?

Chowdhury

Chowdhury

২০১২.০৩.১৬ ০৫:৪৪
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমান বলেন, রায়টি পুরোপুরি না দেখে এ সম্পর্কে এখন কিছু বলাটা আগাম মন্তব্য করা হবে। কথা হল আপনি রায়টি এখনও পুরোপুরি দেখেন নাই কেন ?ইটলসের ওয়েব সাইটে পূরা রায়টা আছে বিশ্লেষণ করুন জানুন। এটা বাংলাদেশের আদালত না যে রায়ের জন্য ৬ মাস wait করতে হবে। ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তি কী মানে বুজলাম না। আপনারা এই রায়ের বিরুদ্দেও আপিল করবেন নাকি ?

Anis Vodro

Anis Vodro

২০১২.০৩.১৬ ০৬:৪৩
বাংলাদেশ পক্ষ নিজের অধিকারের মাত্রা সম্পর্কে সজাগ এবং অবহিত নয়। ইটলসের রায়ে বাংলাদেশ দাবির চাইতেও বেশি পেয়েছে। এটাই বাংলাদেশের অজ্ঞতার বড় প্রমান। ভারতের সাথে ফয়সালা করতে বাংলাদেশকে আটঘাট বেঁধে নামতে হবে। ঝানু এবং অভিজ্ঞ আম্লাদের অংশগ্রহন ছাড়া আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে দেশের স্বার্থ বুঝে নেয়া দুষ্কর ।

ashraful

ashraful

২০১২.০৩.১৬ ০৭:১৬
Pessimism and negation shows lack of soft skills, education, which required in this ever changing world.

Dr Md. Golam Rabbani

Dr Md. Golam Rabbani

২০১২.০৩.১৬ ০৮:০২
অনেক খারাপের মঢ্যে এক টা ভাল নিউজ । CONGRATULATIONS DR DIPU MONI !!!

Mohammad Shaheen Hossain

Mohammad Shaheen Hossain

২০১২.০৩.১৬ ১০:৫৪
ভাল

সফিউল  আলম

সফিউল আলম

২০১২.০৩.১৬ ১১:৫০
বিএসএফের সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যার বিষয়েও আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে যাওয়া একান্ত প্রয়োজন।

Zaman

Zaman

২০১২.০৩.১৬ ১২:০৭
মাননীয় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমান আপনারা চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে থাকুন না হলে কিভাবে সরকারের সমালোচনা করবেন।এই রায়ের সফলতা আপনারা যে মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না তা আপনাদের কথা বার্তা থেকেই বোঝা যাই।আপনারা নিজেরাও পারবেন না আবার অন্য কেউ করলে তাও মেনে নিতে কষ্ট হবে এটা কোন ধরনের মানসিকতা।

Md. Jamilulhoque

Md. Jamilulhoque

২০১২.০৩.১৬ ১২:০৯
We are really very poor in congratulating any gain and this is clearly echoed in comments of Mr. Riaz Rahman. He is showing all hollow reasons not to celebrate the triumph we gained in the verdict only because of mean political rivalry. My question to him is why he was hatching on this issue while he was minister??
২০১২.০৩.১৬ ১২:৪৯
Moshiur Rahaman
২০১২.০৩.১৬ ০২:৩৫
পানির মধ্যে এতো মাতামাতি কেন? @ -কারন পানিতে সম্পদ আছে ; তেল আছে , গ্যাস আছে , মাছ ও জলজ প্রাণী আছে । সর্বত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জড়িত । ধরেন এর মাঝে যদি কোণ চর জেগে উঠে তাহলে ভারত আর তাল্পট্টি দখলের মত নিয়ে যেতে পারবেন না। আপনি যদি জানার জন্য মন্তব্য করে থাকেন তাহলে সাধুবাদ জানাই ; নাকি ভারত চর দখল করতে পারবে না মিয়ান্মার তেল পাবে না জেনে মন খারাপ হয়ে গেল >

shadeen

shadeen

২০১২.০৩.১৬ ১৫:০০
আমাদের বিশেষভাবে অগগ দের সমাহার অনেক, কোন ভালো কাজের মধ্যেও তারা নেগেটিভ জিনিস গুলো খুজে পান সবসময় !! কিন্তু কোন ভালো কাজের নজির দেখাতে পারেন না কখনও!!! আর প্রথম আলোর কাষ থেকে এরুপ নেগেটিভ রিপট আশা করা জায়না !!! রিয়াজ রহমানের মত খাটি বিএনপিবাজকে দেখানো হয়েছে বিশ্লেষক হিসেবে । কি হাস্যকর, জে কিনা এই সরকারের ভালো কনো কিছু চোখ দিয়ে দেখতে পায়না। মটের উপর এই রিপোটটি politically motivated ছারা কিছু না। প্রথম আলোর উচিত এই ধরনের নেগেটিভ রিপোট না করে পজতিভ কিষু করা।

Raqibul Hasan

Raqibul Hasan

২০১২.০৩.১৬ ১৮:৫৪
Why Riaz Rahman ?He was an obidient officer of Pak foreign affairs even during the liberation war.

আলী রেজা

আলী রেজা

২০১২.০৩.১৬ ১৯:৪৮
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক এই অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। তবে, রায়ের ১৭০ ও ১৭১ ধারায় বাংলাদেশের একান্ত মালিকানাধীন দ্বীপ সেন্টমার্টিনের আশেপাশেও মায়ানমারের নৌযান চলাচল এবং ৪২, ৪৩ ইত্যাদি ধারায় মহীসোপানের অমীমাংসিত বিষয়াবলী এখনো যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়। আমি আশা করি, এই ব্যাপারে শীঘ্রই কূটনৈতিক তৎপরতা বা আর্ন্তজাতিক আদালতে উত্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে চিন্তা করা দরকার।

tushar

tushar

২০১২.০৩.১৬ ২১:১৫
আমি গতকালের এমন একটা আশংকার কথা বলেছিলাম।