৮৩ মামলায় কারও সাজা হয়নি
দিনাজপুরে ৮৬টি এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি আদালতে বিচারাধীন। বাকি সব মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একজন আসামিও সাজা পায়নি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হামিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ সঠিকভাবে মামলা রেকর্ড না করায় দুর্বল অভিযোগপত্র (চার্জশিট) ও বিবাদীর পক্ষে সাক্ষী পাওয়া যায় না। এ কারণেই আইনের ফাঁক গলে আসামিরা বেরিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছে।
বোচাগঞ্জ উপজেলার এসিডদগ্ধ রূপজান বলেন, ‘দিনাজপুরে এসিড নিক্ষেপের এত ঘটনা ঘটিছে। কিন্তুক একটা আসামিও সাজা পায় নাই!’ বিরামপুরের কাটলা ইউনিয়নের এসিডদগ্ধ রওশন আরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এসিড নিক্ষেপের নির্মম শিকার হচ্ছে গরিব, অসহায় নারীরা। এ কারণে পুলিশ ও আইন কোনো এসিড নিক্ষেপকারীকে শাস্তিও দেয়নি।’
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত জেলায় ৮৬টি এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এসিড-সন্ত্রাসের শিকার ৫৮ জনই নারী। ২০০৩ সালে জেলায় সর্বোচ্চ ২২টি এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। কিন্তু ২০০৭ সালের পর এসিড নিক্ষেপের ঘটনা কমে আসে। ২০০৯ ও ২০১০ সালে একটি করে ঘটনা ঘটলেও এরপর আর কোনো এসিড ছোড়ার ঘটনা ঘটেনি।
জেলা প্রশাসক জামাল উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০১১ সালে জেলায় এসিড নিক্ষেপের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এসিডদগ্ধদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার জন্য ২০০৯ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দিনাজপুরে এক লাখ টাকা আসে। এসিডদগ্ধ ১৫ জনের মধ্যে সেই টাকা বিতরণ করা হয়।’
জেলা প্রশাসক জানান, জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল জেলা কমিটি গঠন হয় ২০০৪ সালে। সেই কমিটির মেয়াদ শেষে একটি খসড়া কমিটি তৈরি করে অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু অনুমোদন আসেনি। জেলা এসিড নিয়ন্ত্রণ কমিটি না থাকলেও নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি ও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসিড নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহকারী রেজাউল ইসলাম জানান, জেলায় ৪০০ জন এসিড বিক্রেতা ও ব্যবহারকারী আছেন। এঁদের মধ্যে মাত্র ৬০ জনের অনুমতি (লাইসেন্স) আছে। অনুমতি নিতে প্রতিটি স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও এসিড ব্যবহারকারীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুর স্বর্ণকার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন জানান, বর্তমানে স্বর্ণের দাম আকাশছোঁয়া। তাই হাতেগোনা দু-চারজন ব্যবসায়ী স্বর্ণালংকার তৈরি করেন। বাকিরা সবাই সোনা-রুপার অলংকার কিনে বিক্রি করেন। তাঁরা এসিড ব্যবহার করেন না।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






