ভোলা এসিড নিয়ন্ত্রণ কমিটির বৈঠক হয় না, তহবিলও শূন্য

ভোলা অফিস | তারিখ: ০৭-০৩-২০১২

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

ভোলায় সহস্রাধিক ব্যবসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসিড কেনাবেচা ও ব্যবহার করছে। এর মধ্যে মাত্র ২০টির অনুমতি (লাইসেন্স) আছে। জেলায় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল কমিটি গঠনের পর কোনো বৈঠক হয়নি। এসিডদগ্ধদের পুনর্বাসন তহবিলেও নেই কোনো টাকা।
জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ সালে ২১টির অনুমতি থাকলেও এরপর সংখ্যা আর বাড়েনি। এর মধ্যে নবায়ন না করায় একটির অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।
গত বছরের ২৫ জানুয়ারি লালমোহন থানার পুলিশ পৌরসভার লঞ্চ থেকে নামানোর সময় চারটি কনটেইনারভর্তি সালফিউরিক ও নাইট্রেটজাতীয় (প্রায় ৩৫০ পাউন্ড) তরল এসিড পুলিশ জব্দ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, লালমোহনের মতো ভোলার বিভিন্ন লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট ও সি-ট্রাকঘাট দিয়ে কমবেশি এসিড ঢুকছে। এসব এসিড ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও স্বর্ণের দোকানে ব্যবহূত হচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, জেলায় আট শতাধিক ব্যাটারি ও স্বর্ণের দোকান, দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানাগার এবং শতাধিক আসবাবের দোকানে এসিড কেনাবেচা ও ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে ভোলায় ব্যাটারিচালিত তিন হাজার অটোরিকশা চলছে। একটি অটোরিকশায় পাঁচ থেকে আটটি ব্যাটারি ব্যবহূত হয়। এদিকে ভোলা সদরে ছয়টি, চরফ্যাশনে ছয়টি ও বোরহানউদ্দিনে একটি স্বর্ণের দোকানের মালিকের অনুমতি আছে। এ ছাড়া ভোলা সদরে ছয়টি ও চরফ্যাশনে একটি ব্যাটারি ও অন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এসিড ব্যবহারের অনুমতি আছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলায় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল কমিটি ২০১০ সালে গঠন করা হয়। কমিটির সদস্য কোস্ট ট্রাস্টের সমন্বয়কারী আবদুল মান্নান জানান, দুই মাস পরপর এ কমিটির সভা করার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত কোনো সভা হয়নি। এসিডে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য ২০০৯-১০ অর্থবছরে এক লাখ টাকা এলেও পরে আর কোনো বরাদ্দ আসেনি। ওই টাকার মধ্যে ৮৫ হাজার ১৫ জনের মধ্যে বিতরণ করা হয়। বাকিটা অন্যান্য খরচ হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আইন হচ্ছে এসিড ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার করলে অনুমতি নিতে হবে। আমরা এসিড ব্যবহারকারীকে অনুমতির আওতায় আনতে ভ্রাম্যমাণ আদালত করব।’ জেলা এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল কমিটির সভা কেন হচ্ছে না এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন