কুমিল্লায় এসিডদগ্ধদের পুনর্বাসন তহবিল শূন্য

গাজীউল হক, কুমিল্লা | তারিখ: ০৪-০৩-২০১২

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

কুমিল্লা জেলায় ৯২ জন নারী, শিশু ও পুরুষ এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারিভাবে সাহায্য নেই বললেই চলে। জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল নামে কুমিল্লায় একটি কমিটি থাকলেও সভা করা ছাড়া এর আর কোনো কাজ নেই। বর্তমানে ওই কমিটির তহবিলে কোনো টাকা নেই।
এ অবস্থায় কুমিল্লার ১৬ উপজেলার এসিডদগ্ধরা অনুদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার ওপর এসিডের সহজলভ্যতা নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও হচ্ছে কম। তবে বেসরকারি সংস্থা এইড কুমিল্লা, প্রত্যয় ও এসিড সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি এসিডদগ্ধদের সহায়তা, এসিডবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে আসছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লায় জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিলে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি হিসেবে একজন সহকারী পুলিশ সুপার আছেন। এ ছাড়া ওই কমিটিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক, জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থার তিনজন প্রতিনিধি রয়েছেন। তিন মাস পরপর সাত সদস্যের ওই কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠক নিয়মিত হয় বলে সদস্যরা জানিয়েছেন। সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে বৈঠক হয়েছে। এতে জেলার ৫০ জন এসিডদগ্ধ ব্যক্তির জন্য ছয় লাখ টাকা সরকারিভাবে অনুদান আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অর্থ বরাদ্দের জন্য চিঠি দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই চিঠির উত্তর মেলেনি।
কমিটির সদস্য ও এইড কুমিল্লার নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া বেগম জানান, ২০১০ সালের ৮ এপ্রিল তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবদুল মালেক দশজন এসিডদগ্ধ ব্যক্তির জন্য ১০ হাজার টাকা করে ওই তহবিল থেকে অনুদান দিয়েছিলেন। এরপর আর কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ওই তহবিলে কোনো অর্থ নেই। তিনি আরও জানান, নিয়মানুযায়ী কমিটির বৈঠক দুই মাস পরপর হওয়ার কথা। কিন্তু দেড় বছর ধরে তিন মাস অন্তর বৈঠক হচ্ছে।
কাউন্সিলের সদস্য ও এসিড সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি কুমিল্লার সভাপতি দিলনাশি মোহসেন ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা আক্তার বলেন, কুমিল্লায় বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সংগঠন এসিডের সহজলভ্যতা ঠেকানো নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও স্বর্ণ নির্মাতাদের নিয়ে কর্মশালা করেছে। এসিডদগ্ধদের সাহায্যও করে আসছে। কিন্তু সরকারিভাবে এ ধরনের প্রচারণা খুব বেশি হয়নি।
জেলা স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহ আলমগীর খান বলেন, ‘স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের এসিড বিক্রয় না করা ও অপব্যবহার রোধে আমরা কঠোরভাবে পর্যালোচনা করে থাকি। কিন্তু ব্যাটারি শ্রমিকদের এ ব্যাপারে সচেতন করতে হবে।’
জেলা প্রশাসক রেজাউল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কমিটির বৈঠক নিয়মিত হয়। তহবিলে টাকা না থাকায় এসিডবিরোধী কার্যক্রম কিছুটা কম হচ্ছে। তবে বেসরকারি সংস্থাগুলো তৎপর রয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা ছয় লাখ টাকার অনুদান চেয়ে চিঠি দিয়েছি। অনুদান পেলেই পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হবে।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন