এসিডদগ্ধ নারীদের পাশে দুই বাংলার তারকারা
শাড়িটা দেখেই আশপাশে ফিসফাস—দারুণ তো! দামটাও উঠল শুরুতেই ৫০ হাজার টাকা। এরপর চারপাশ থেকে ডাক—৫৫, ৬০, ৭০, ৭৫ থেকে পুরো দুই লাখ! হাতুড়ির এক বাড়িতে নিশ্চিত ঘোষণা করে দিলেন নিলামকারী সাইরাস। বিক্রি হয়ে গেল ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের পরনে থাকা সাদা শাড়িটি।
৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার হোটেল র্যাডিসনে হয়ে গেল কলকাতার ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পালের পোশাক নিয়ে ফ্যাশন শো ‘গ্যালারি অ্যাপেক্স লাইফ ইজ বিউটিফুল’।
একটা দিনে আকাশের যে বিভিন্ন রং হয়, পোশাকগুলোকে সেভাবেই অগ্নিমিত্রা পাল ফুটিয়ে তুলেছেন। শুরু হলো তাই ভোরের আকাশ দিয়ে। পর্যায়ক্রমে দুপুর, সন্ধ্যা...
এই আয়োজনের পেছনে ছিল বড় একটা উদ্দেশ্য। নিলামে পোশাক বিক্রি করে টাকাটা দেওয়া হয়েছে প্রথম আলো ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত এসিডদগ্ধ নারীদের জন্য প্রথম আলো সহায়ক তহবিলে।
এদিন একইভাবে নিলামে বিক্রি হয়ে যায় বাকি পোশাকগুলোও। মোট সাত লাখ ৬৫ হাজার টাকা আয় হয় তাতে। ঋতুপর্ণা আর অগ্নিমিত্রার পরনে থাকা শাড়িগুলো বিক্রি হয় সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা করে। নানা ধরনের শাড়ির পাশাপাশি আনারকলি, লেহেঙ্গা, ফিউশন ধাঁচের পোশাক ছিল এই আয়োজনে। শো শুরুর আগে বক্তব্য দেন গ্যালারি অ্যাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর ও দেশ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুজ্জামান নূর।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে চলে ভরতনাট্যম নৃত্য। ফ্যাশন শোর পরে গান করেন কলকাতার শিল্পী রূপঙ্কর। পুরো অনুষ্ঠান দেশ টিভিতে সরাসরি দেখানো হয়।
ফ্যাশন শোতে অংশ নেন বাংলাদেশের শিল্পী নোবেল, তিশা, বিন্দু, মম, নওশীন ও মীম। আরও ছিলেন কলকাতার শিল্পী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, লকেট চ্যাটার্জি ও পাওলি দাম। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের সামনের সারির ২০ জন র্যাম্প মডেল। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন সামিয়া আফরীন। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘ভালো লাগছে এই ভেবে যে এসিডদগ্ধ নারীদের জন্য কিছু করতে পারলাম।’
এই শোর আয়োজক হিসেবে ছিল দেশ টিভি। পুরো অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন দেশ টিভির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ হাসান।
আয়োজনের পৃষ্ঠপোষক গ্যালারি অ্যাপেক্স। সহযোগী হিসেবে ছিল মেনজ ক্লাব, নিউ জড়োয়া হাউস, পারসোনা বিউটি কেয়ার লিমিটেড।
পোশাক কিনলেন যাঁরা
কেলন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান শারমিন জামান, পারটেক্স স্টার গ্রুপের পরিচালক আজিজ-আল-মাহমুদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা নাদিম এ. চৌধুরী, ভিট রেকিট বেনকিজারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব বাসেত এবং ভিসতারা আর্কিটেক্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খান মোহাম্মদ মুস্তফা খালিদ।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






