শীতার্তদের পাশে প্রথম আলো
মানিকগঞ্জ ও গাইবান্ধায় ৩০০ শীতার্তকে কম্বল বিতরণ
শীতার্তদের পাশে প্রথম আলো
‘ঠান্ডায় খুবই কষ্ট করতাম। কম্বলডা পাইয়া ভালোই অইলো। ভগবান পরথম আলোরে য্যান আরও দিবার ক্ষমতা দেয়।’
কথাগুলো লক্ষ্মী সূত্রধরের। বাড়ি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার রাধানগর গ্রামে। প্রথম আলো ট্রাস্টের দেওয়া কম্বল পেয়ে এভাবেই তিনি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।
গতকাল শনিবার সাটুরিয়ার বিভিন্ন এলাকার শীতার্ত ১০০ পরিবারের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। একই দিন প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার নদীভাঙনকবলিত এলাকায়ও ২০০ জন দরিদ্রকে কম্বল দেওয়া হয়।
সাটুরিয়ার রাধানগর রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিথীকা রায় বলেন, এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এভাবে দরিদ্রদের পাশে এসে দাঁড়ালে এ সমাজ বদলে যাবে। তিনি বলেন, আজ যে প্রতিষ্ঠানটির প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে, বন্যায় বিধ্বস্ত এ প্রতিষ্ঠানটিও মেরামত করে দিয়েছিল প্রথম আলো।
কম্বল বিতরণে সহায়তা করেন মানিকগঞ্জ বন্ধুসভার সদস্য চাঁন মিয়া, আবদুস সালাম ও আলামিন হোসেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রথম আলোর সাভারের নিজস্ব প্রতিবেদক অরূপ রায় ও মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আবদুল মোমিন উপস্থিত ছিলেন।
গাইবান্ধার সাঘাটার হলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক সাইদুর রহমান, সংস্কৃতিকর্মী জাকিরুল ইসলাম, প্রথম আলোর বগুড়ার নিজস্ব প্রতিবেদক মিলন রহমান, গাইবান্ধা প্রতিনিধি শাহাবুল শাহীন, গাইবান্ধা বন্ধুসভার সদস্য তামজিদুর রহমান, রাসেল মিয়া, মিলন খন্দকার প্রমুখ।
কম্বল পেয়ে উপজেলার চিনিরপটল গ্রামের জোবেদা খাতুন (৫৫) বলেন, ‘নদি হামার ঘরে সবকিচু কাড়ি নিচে। দুইব্যালা ঠিকমতো ভাত খাবার পাই ন্যা। শীতের কাপড়া কিনমো ক্যামন করি। তোমারঘরে কমবোল পায়া উপক্যার হলো। আইতোত আরামে ঘুমব্যার পামো।’
কানাইপাড়া গ্রামের মকবুল মিয়া (৪৮) বলেন, ‘হামরা জানি, পেপারোত থাকি খালি খবোর পাওয়া যায়। কমবোলও পাওয়া যায়, আচকে জানল্যাম। তোমারঘরে মতোন সগগুল্যা পেপার কমবোল দিলে ম্যালা মানসের উপক্যার হলো হয়।’
দুটি স্থানেই কম্বল বিতরণে সহযোগিতা করে বুয়েট-৮৭ ফাউন্ডেশন। প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে এ পর্যন্ত দুই হাজার ৪২৮টি কম্বল ও এক হাজার ৬০৭টি সোয়েটার শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






