weather

আবহাওয়া: ঢাকা
তাপমাত্রা: ১২ সে | আর্দ্রতা: ৯০% more

সেমিনারে এইচ টি ইমাম

বাঙালিদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সরিয়ে আনা কঠিন

বিশেষ প্রতিনিধি | তারিখ: ২৫-০১-২০১২

  • ৬ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘সেটেলার’ (পুনর্বাসিত বাঙালি) পাঠানো ছিল এক বিরাট ভুল। কিন্তু যাঁদের পাঠানো হয়েছে এবং অনেক দিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন, এখন তাঁদের সরিয়ে আনা কঠিন। এই বাস্তবতা সবাইকে মেনে নিতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়ন শীর্ষক এক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এইচ টি ইমাম এ কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলে দিনব্যাপী ওই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও নেপালভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেইন (ইসিমোড)’ যৌথভাবে ওই সেমিনারের আয়োজন করে।
দীর্ঘদিন পর সরকার যখন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়েছে, তখন সেটেলারদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার ওই বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ববহ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সেমিনারে অংশ নেওয়া কয়েকজন প্রথম আলোকে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে সেটেলারদের সরিয়ে আনার কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ, চুক্তিতে সেটেলারদের সরিয়ে আনার কোনো শর্ত নেই।
তবে সরকারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরকারী জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কয়েকজন নেতা বলেন, চুক্তিতে উল্লেখ না থাকলেও এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে মৌখিক সমঝোতা হয়েছিল। তা ছাড়া সেটেলারদের ব্যাপারে জেএসএসের আপত্তির কারণেই পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রণয়ন বন্ধ আছে।
সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেছেন, সরকার সার্বিক বিষয় ভেবেচিন্তে পার্বত্য চট্টগ্রামের ব্যাপারে অগ্রসর হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণে সরকার সংকল্পবদ্ধ। সংস্কৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি থাকলে তাও পূরণ করা হবে।
সেমিনারে অংশ নেওয়া কয়েকজন প্রথম আলোকে বলেন, চুক্তির অন্যতম প্রধান বিষয় হচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামকে উপজাতি-অধ্যুষিত বিশেষ অঞ্চলের স্বীকৃতি দেওয়া এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ সরকার নেয়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংসদ যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও শাহ আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউএনডিপির দেশীয় পরিচালক স্টেফান প্রিসনার, আইএলওর দেশীয় পরিচালক অন্দ্রে বগুই এবং ইসিমোডের মহাপরিচালক ডেভিড মডেনও বক্তব্য দেন।
সেমিনারের সমাপনী অধিবেশনে সবাই একটি বিষয়ে সহমত প্রকাশ করেন যে পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য চুক্তির বাস্তবায়ন অপরিহার্য। এই অধিবেশনের সভাপতি বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এস এ সামাদ বলেন, ‘চুক্তির বাস্তবায়ন হওয়া উচিত ছিল প্রথম পদক্ষেপ। কিন্তু তা না হওয়ায় দীর্ঘদিনে অনেক ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এখন আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।’
কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য তিনটি উপাদান বিবেচনায় নেওয়া হয়—পরিবেশ, অর্থনীতি ও সমাজ। কিন্তু চতুর্থ যে বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো মানবাধিকার। কাজেই টেকসই উন্নয়নকে বিবেচনা করতে হবে এগুলোর একটি সমন্বিত ও সামগ্রিক ফলাফলের ভিত্তিতে। সেই বিবেচনায় পার্বত্য চট্টগ্রামে যে উন্নয়ন হয়েছে, তাকে টেকসই বলা যায় না। উপরন্তু এর সঙ্গে বাড়তি বোঝা হিসেবে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা।
এই অধিবেশনের অন্য বক্তারা নানা বিষয় ব্যাখ্যা করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসব উন্নয়ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা যেন স্থানীয় জনগণের প্রকৃত চাহিদা পূরণে সক্ষম এবং পরিবেশ-প্রতিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
উদ্বোধনী ও সমাপনীর মধ্যখানে তিনটি আলাদা অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নকার্যক্রম, এতে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সেখানকার প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা, এসব ক্ষেত্রে সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে নানামুখী আলোচনা হয়।
এই অধিবেশনগুলোতে কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, রাজা দেবাশীষ রায় ও এস এ সামাদ সভাপতিত্ব করেন। সেমিনারে মোট নয়টি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়।

পাঠকের মন্তব্য

Mohammad Solaiman

Mohammad Solaiman

২০১২.০১.২৫ ০৪:২৪
এই বক্তারা এমনভাবে কথা বলছে যেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু। এটা বাংলাদেশ। যে যেখানে আছে তাঁকে সেখানে রেখেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। পাহাড়ি বাঙালি সবাইকেই কিছু না কিছু স্যাক্রিফাইস করতে হবে। সকল সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন রেখেই তা করতে হবে। মনে রাখতে হবে এই বৈচিত্র্য একটি সম্পদ। পাহাড়ের ভুমির প্রতিবেশগত সঠিক ব্যবহার করে পাহাড়ি বাঙালি উভয়েই নিজের জীবন মান উন্নত করতে পারে। জুম্মচাষ একটি ঐতিহ্যবাহী কৃষিপদ্ধতি হলেও এর সনাতনী ধারা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। পাহাড়ি জনগণকে অনুরোধ করবো ঐতিহ্য আর পরিবেশের মাঝে সমন্বয় ঘটিয়ে পাহাড়ের পরিবেশকে টেকসই করার দিকে মনোযোগ দিতে।
২০১২.০১.২৫ ০৫:২২
একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন যে যদি পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিরা সমগ্র বাংলাদেশে জায়গা জমি কিনে বসবাস করতে পারে তাহলে বাঙ্গালিদের সেখানে বসবাসে সমস্যা কোথায়। এটাতো একজন নাগরিকের অধিকার হরণ করবার সামিল। পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিরা যদি এরকম আবদার করে থাকে তাহলে তা অনৈতিকও বটে। কারণ দেশের নাগরিক হিসেবে দেশের যেকোন স্থানে বসবাসের সুযোগ প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। তাদের এ দাবী দেশদ্রোহিতার পর্যায়ভূক্ত। সরকারের উচিত হবেনা এই অনৈতিক আবদার মানা। তাহলে বাংলাদেশের অস্তিত্বই হুমকির মূখে পড়ে যাবে।

Md Mahbub Rabbani

Md Mahbub Rabbani

২০১২.০১.২৫ ০৫:৫৪
পার্বত্যবাসীদের অধিকারের প্রতি সম্মান রেখে বলছি, তারা ঢাকায় বা যেকোন জায়গায় বসবাসের অধিকার আছে, কিন্তু বাঙ্গালীদের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসের নেই। Stop those durty politics.

Sharif Uddin Ahmed

Sharif Uddin Ahmed

২০১২.০১.২৫ ১০:৪০
আমার কথা হচ্ছে বাঙ্গালিদেরকে পার্বত্য- চট্টগ্রাম থেকে ফিরিয়ে আনার কথা আসছে কেন, ওটা কি বাংলাদেশের অংশ নয়? আর পাহাড়িরা যদি সারাদেশে বসবাস করতে পারে বাঙালিরা কেন পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করতে পারবেনা?

Umor Farukh

Umor Farukh

২০১২.০১.২৫ ১১:১১
পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাইরের কোন জায়গা নয় যে সেখানে বাঙ্গালী থাকতে পারবে না, বরং পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীরা যেন সারাদেশে সমান সুযোগ পায় সে দাবিটা ‍আনেক বেশী যৌক্তিক। বাঙ্গালী ‍না বাংলাদেশী ‍এই বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র বল‍া সম্ভব নয়। কারণ জাতী হিসেবেই যার পরিচয় নাই সে কি করে স্বাধীন ?

T Alahee

T Alahee

২০১২.০১.২৫ ১২:৫৯
সেটেলাররা ভুলতো নয়ই বরং তারাই পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশের অখন্ডতা ও সার্ভ ৌ মতের ওয়াচডগ হিসাবে কাজ করছে। জাতীয় দায়িত পালনে যারা কাজ করছেন তাঁদেরকে কথাবার্তায় আরো দুরদৃসটি সমপনন হওয়া বানছনীয়।