এসিডদগ্ধ রোকসানার পাশে প্রথম আলো
‘যে করেই হোক নিজির পায়ে দাঁড়াতি হবে’
প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে খুলনার কয়রায় এসিড-সন্ত্রাসের শিকার রোকসানার হাতে গতকাল বন্ধকি জমির দলিল তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল বশার
ছবি: প্রথম আলো
‘আমারে যারা এসিড মারিলো, তারা একন ছাড়া পায়ে গেছে। আমি অসহায় হয়ে পড়লি প্রথম আলো আমার সহায় হয়ে পাশে দাঁড়ায়ে একটা জমি বন্ধক নিয়ে দেছে। তকনিই আমি সিদ্ধান্ত নিছি, যে করেই হোক নিজির পায়ে দাঁড়াতি হবে।’
আবেগজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বললেন খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী গ্রামের এসিড-সন্ত্রাসের শিকার রোকসানা বেগম। প্রথম আলো ট্রাস্টের অধীনে এসিডদগ্ধ নারীদের জন্য সহায়তা তহবিলের পক্ষ থেকে তাঁকে ৫০ হাজার টাকায় ৬০ শতক আবাদি জমি বন্ধক রেখে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল চারটায় খুলনার কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে ওই জমির দলিল তুলে দেওয়া হয়। দলিল তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল বশার।
দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন: উপজেলার আমাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমির আলী গাইন, কয়রা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার জি এম মতিউর রহমান, প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্য সুজিৎ রায়, হুমায়ুন কবির, আবদুল খালেক, হারুন অর-রশীদ, রিয়াসাদ আলী, মনিরুজ্জামান মনু, গাজী আবদুস সালাম, রফিকুল ইসলাম, মজিবর রহমান, আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ইউএনও আবুল বশার বলেন, প্রথম আলোসহ দেশের গণমাধ্যমে লেখালেখি হওয়ায় এখন এসিড-সন্ত্রাস কিছুটা কমেছে। প্রথম আলো এই অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ানোয় খুব ভালো লেগেছে। তিনি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে রোকসানাকে এক হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন।
প্রথম আলো ট্রাস্টের সমন্বয়কারী ফেরদৌস ফয়সাল বলেন, এসিডদগ্ধ নারীদের জন্য প্রথম আলো সহায়ক তহবিলের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২৮২ জন নারীকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। দলিল হাতে পেয়ে রোকসানা আরও বলেন, ‘স্বামীর সাথে কষ্ট করে ধান লাগায়ে ওই জমিত্তে নিজেগের খাবার জোগাড় করব। মনে হচ্ছে, সবার সহযোগিতায় একনেত্তে আর কারও বোঝা হয়ে থাকতি হবে না। ছেলে দুডোরে লিকাপড়া শিকুতি পারবানি।’
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ২৬ মে রোকসানা বেগমের স্বামী মোস্তফা গাজীর প্রতিপক্ষরা পূর্বশত্রুতার জের ধরে তাঁদের বাড়িতে আক্রমণ করে। এ সময় মোস্তফাকে না পেয়ে তারা রোকসানা ও আট মাস বয়সী মেয়ে মুক্তার গায়ে এসিড ছুড়ে মারে। এতে ঝলসে যায় রোকসানার সারা শরীর। আর ঘটনার নয় ঘণ্টা পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মুক্তা। এই এসিড-সন্ত্রাসের ঘটনার থানায় মামলা হওয়ার পর আসামিদের গ্রেপ্তার করা হলেও পরে সবাই ছাড়া পায়। আসামিরা ছাড়া পেয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোকসানার স্বামী মোস্তফা। তিনি বলেন, ‘টাকা দিয়ে উরা সব কিনে ফ্যালেছে। আমরা ন্যায়বিচার পালাম না।’
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






