• হোম
  • শেষের পাতা
  •   কুড়িগ্রাম প্রথম আলো চর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ

কুড়িগ্রাম প্রথম আলো চর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রাম | তারিখ: ১০-০১-২০১২

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

কুড়িগ্রাম প্রথম আলো চর বিদ্যালয়ের ১৯৬ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে সরকারি বই বিতরণ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় মাঠে নতুন বই বিতরণ করেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে প্রথম আলো ট্রাস্ট একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
এভাবে সরকারের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে শিক্ষার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি জেনে খুশি হয়েছি প্রথম আলো ট্রাস্ট বিদ্যালয় ভবন, আসবাবপত্র তৈরি, শিক্ষকের ও আয়ার বেতন, শিক্ষার্থীদের পোশাক. খেলাধুলার সামগ্রীসহ দুপুরে খাবার দিচ্ছে। বিদ্যালয়ের চারপাশে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলেছে, রয়েছে শৌচাগার ও টিউবয়েল—যা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় না। এ জন্য আমি প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ, ট্রাস্ট ও সব সংবাদ কর্মীকে অভিনন্দন জানাই।’
বিশিষ্ট ভাওয়াইয়া কণ্ঠশিল্পী অনন্ত কুমার দেব বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ, শিক্ষার্থী অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘এই চরের আশপাশে অর্ধশতাধিক চর রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য কোথাও উচ্চবিদ্যালয় নাই (হাইস্কুল)। এই ছেলেরা পঞ্চম শ্রেণী পাস করে আর পড়তে পারে না। এদের জন্য অবশ্যই উচ্চবিদ্যালয় হওয়া উচিত।’ প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের দুধকুমার, গঙ্গাধর ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর মধ্যবিত্ত প্রথম আলো চর অবস্থিত। ২০১০ সালে চরে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়। বিদ্যালয়টি উদ্বোধন করেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এবং প্রধান অতিথি ছিলেন প্রথম আলো ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আজিজ খান। বিদ্যালয়টি পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত । বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯৬ জন। নতুন বই পেয়ে বিদ্যালয়ে খুদে শিক্ষার্থীরা বই নাকের কাছে নিয়ে ধরে। পরে বুকের কাছে ধরে মহা আনন্দে হাসতে থাকে। অনেকে দৌড়ে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবাকে দেখায়। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হাত থেকে প্রথম বই পেয়ে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আপিল খাতুন বলে, ‘খুব ভালো নাগছে। ভালো করি পড়ব।’ প্রথম শ্রেণীর লাইলী খাতুন, দ্বিতীয় শ্রেণীর মোস্তফা কামাল ও তৃতীয় শ্রেণীর আছিয়া খাতুন বই পেয়ে বলে, ‘এখন ভালো করে লেখাপড়া করব।’
পঞ্চম শ্রেণীর জাহেদুল ইসলাম বলে, ‘আগে স্কুল ছিল না চরের ছেলেরা গরু চরিয়েছে। বাড়ির কাজ করেছে। এখন সবাই স্কুলে আসে। তবে সে প্রশ্ন করে আমি পঞ্চম শ্রেণী পাস করে কোথায় যাব। আশপাশে কোনো হাইস্কুল নাই। পড়াশুনা বাদ দিতে হবে।’
বই বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সমেশ চন্দ্র মজুমদার, শহিদুল ইসলাম, বিশিষ্ট ভাওয়াইয়াশিল্পী অনন্ত কুমার দেব ও প্রথম আলো নিজস্ব প্রতিবেদক সফি খান।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন