ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী সংবর্ধনা

সুনাগরিক হয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয়

বিশেষ প্রতিনিধি | তারিখ: ১৩-১২-২০১১

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
‘ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী সংবর্ধনা-২০১১’ অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে অদম্য

‘ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী সংবর্ধনা-২০১১’ অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে অদম্য মেধাবীরা

ছবি: প্রথম আলো

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজয়ের সংবাদ আসছিল চার দশক আগের এমন দিনে। সেই সংবাদে যুগপত্ মিশেছিল গৌরবময় আনন্দ আর বেদনা। চার দশক পর ওরাও এসেছে বিজয়ের গৌরব নিয়ে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। হতে পারে এই বিজয় তাদের নিজেদের যুদ্ধের, কিন্তু সেই জয়লাভও মানবিক মহিমায় কম মহিমান্বিত নয়।
বিরুদ্ধ পরিবেশ, বৈরী পরিস্থিতি আর দারিদ্র্যের মতো প্রবল পরাক্রম প্রতিপক্ষকে পরাভূত করে লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে তারা। প্রথম আলো সে কারণেই তাদের বলেছে ‘অদম্য মেধাবী’। গতকাল সোমবার সকালে ২০১১ সালের এসএসসিতে জিপিএ-পাঁচ পাওয়া ৫০ জন ও স্নাতক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ১০ জন অদম্য মেধাবীকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা পেয়ে ভবিষ্যতে সুনাগরিক হয়ে দেশগড়ার প্রত্যয় জানিয়েছে অদম্যরা। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ২০৩ জন অদম্য মেধাবীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে।
প্রথম আলো কার্যালয়ে সকাল নয়টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা উপস্থিত হয়েছিলেন ‘ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী সংবর্ধনা-২০১১’ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। অনুষ্ঠানে তেমন কোনো জাঁকজমকের জলুশ থাকে না, থাকে হূদয় ছুঁয়ে যাওয়া নিখাঁদ ভালোবাসার উষ্ণতা, থাকে চোখ ভিজিয়ে দেওয়া সহমর্মিতার মানবিক সুষমা। অদম্যরা কঠিন বাস্তবতা মোকাবিলায় তাদের কঠিন সংগ্রামের কথা বলল। অতিথিরা তাঁদের চলার পথে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বললেন। প্রেরণা জোগালেন ভবিষ্যতে সুনাগরিক হওয়ার জন্য, আবার অদম্যদের সংগ্রামী দৃষ্টান্তে নিজেরাও অনুপ্রাণিত হলেন।
অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল প্রথম আলোর কার্যক্রমের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। এরপর প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেসব শিক্ষার্থী কোনো সুযোগ-সুবিধা না পেয়েও অদম্য মনোবলে জীবন-সংগ্রামে টিকে থেকে শিক্ষায় সফল হয়েছে, তাদের সহায়তা দিতেই এ উদ্যোগ।
প্রথম আলো ট্রাস্ট ও সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান বলেন, ‘এই অদম্য মেধাবীরা জীবনের শুরুতেই দেখিয়েছে কোনো সুযোগ-সুবিধা ছাড়াও কীভাবে জীবনে সফলতা অর্জন করতে হয়। এরাই পারবে আগামী দিনের দেশের উন্নয়ন করতে। প্রথম আলো ট্রাস্ট তাদের সঙ্গে ছিল, আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।’
হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও প্রথম আলো ট্রাস্টের সদস্য মো. ইয়াছিন আলী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করলেও দারিদ্র্যকে জয় করতে পারিনি। কিন্তু এই তরুণেরা কঠিন দারিদ্র্যকে অতিক্রম করে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। এরা দেশকেও ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারবে।’
এরপর অদম্যদের প্রতিক্রিয়া। নিজেদের জীবন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে খুলনার ডুমুরিয়ার আল-আমিন, সুনামগঞ্জের কৃপেশ চন্দ্র দাস, ঝিনাইদহের লাইজু খাতুন, পটুয়াখালীর আবিদা জান্নাত, নীলফামারীর মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের রানা সরকার, পটুয়াখালীর আসমা খাতুন ও টেকনাফের কায়সার উদ্দিন।
অদম্যদের সংগ্রামের কাহিনি শুনে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বললেন, ‘এই অদম্য মেধাবীদের জীবন-সংগ্রাম আমাদের অনুপ্রাণিত করে। আমরা তাদের সঙ্গে থাকতে পেরেছি এতেই আমরা আনন্দিত। শুধু এসএসসি বা এইচএসসি নয়, অদম্যদের মধ্যে যারা আরও লেখাপড়া করতে চায় তাদের উচ্চতর শিক্ষার সহায়তা দিতে ব্র্যাক ব্যাংক পাশে থাকবে।’
অদম্যদের দেশের গান শুনিয়ে উজ্জীবিত করেন মৃত্তিকা ব্যান্ডের মাহমুদুজ্জামান বাবু। এভারেস্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহীম অদম্যদের ভবিষ্যতেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য প্রেরণা দেন। প্রথম আলো ট্রাস্টের সদস্য ও সানিডেল স্কুলের অধ্যক্ষ তাজিন আহমেদ অদম্যদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁরা এসব শিক্ষার্থীকে সহায়তা দিয়েছেন বলেই তারা আজ সফল হতে পেরেছে।’ প্রথম আলোর উপসম্পাদক আনিসুল হক সমাপনী বক্তৃতায় অদম্যদের মাদক, ইভ টিজিং ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘না’ বলতে অঙ্গীকার করার আহ্বান জানালে ‘না’, ‘না’ ধ্বনিতে মিলনায়তন প্রকম্পিত করে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী বার্তা সম্পাদক এম এ ওয়ারেছ।
ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগিতায় প্রথম আলো ট্রাস্টের এই আয়োজনে অদম্যদের পদক ও উপহার দেওয়া হয়। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান অতিথিদের নিয়ে অদম্যদের গলায় পদক পরিয়ে দেন।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন