লিমন হাঁটছে
আবার দুই পায়ের ওপর দাঁড়াল লিমন। সাবধানে ফেলা বাঁ পা-টি যে কৃত্রিম
ছবি: প্রথম আলো
‘ছোট শিশুদের মা-বাবা যেমন হাঁটা শেখায়, সেভাবে হাঁটা শিখতে হচ্ছে। আমি আবার হাঁটতে পারছি, এ জন্য আনন্দ লাগছে। আবার কষ্টও লাগছে, কারণ নিজের আসল পা দিয়ে হাঁটতে পারছি না।’
কৃত্রিম পা লাগানোর পর গতকাল সোমবার এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত করলেন র্যাবের গুলিতে পঙ্গু হওয়া লিমন হোসেন।
এখন এই কৃত্রিম পায়েই এগিয়ে যেতে চায় ঝালকাঠির কলেজছাত্র লিমন। গত বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল সে। কিন্তু পরীক্ষার আগমুহূর্তে নিজ বাড়ির পাশে র্যাবের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়। এখন সে হাসপাতালে চিকিৎ সাধীন অবস্থায়ই আবার এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
‘ডাক্তার বলেছেন, এই পা দিয়েই আমাকে এভারেস্ট জয় করতে হবে। আমিও এই কৃত্রিম পা দিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। থেমে থাকলে চলবে না।’ এভাবেই প্রত্যয় ব্যক্ত করে লিমন।
গতকাল সাভারে কৃত্রিম পা লাগানো হয়। বেসরকারি সংস্থা সিডিডি (সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট) বিনা মূল্যে লিমনের কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করেছে। এর আগে এক সপ্তাহ ধরে লিমনকে কৃত্রিম পায়ে হাঁটার অনুশীলন করানো হয়। গতকাল চূড়ান্তভাবে বাঁ পায়ের ঊরুর সঙ্গে কৃত্রিম পা-টি লাগানো হয়। এরপর বিকেলে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ফিরে কারও সাহায্য ছাড়াই সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় নিজ ওয়ার্ডে যায় লিমন। সারা মুখে ফুটে উঠছিল আনন্দ ও বিষাদের মিশ্রণে এক অব্যক্ত অনুভূতি।
এক দিন পরেই ঈদ। ঈদে দুটি পাঞ্জাবি উপহার পেয়েছে লিমন। কিন্তু তার কাছে ঈদের সবচেয়ে বড় উপহার এই কৃত্রিম পা। লিমন বলে, ‘ধীরে ধীরে এই পায়ে হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। কৃত্রিম পায়ে হাঁটতে কোনো ব্যথা অনুভূত হয় না। তবে বারবারই একটা কথা মনে পড়ে যায়, এটা আমার আসল পা নয়।’
কৃত্রিম পা লাগিয়ে হাসপাতালে ফিরে মুঠোফোনে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে লিমন। হাসপাতালের চিকিৎ সক, সেবিকা ও অন্যান্য রোগীও এখন তার বন্ধু। তারাও লিমনের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেয়। কিন্তু বাবা-মা ও ভাইবোনদের ছেড়ে এভাবে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকাটা কষ্টের। গত ঈদের স্মৃতি মনে করে লিমন বলে, ‘গতবার ঝালকাঠিতে গ্রামের বাড়িতে ঈদের নামাজ পড়ে ভাইবোন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। বন্ধুদের বাসায় গিয়ে সেমাই খেয়েছি। কিন্তু এবার ঈদ কাটাতে হবে হাসপাতালে। কৃত্রিম পা দিয়ে তো আর ঈদের নামাজ পড়তে পারব না।’
তার পরও নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করে লিমন। পুলিশের হাতে নির্যাতিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাদেরের কথা উল্লেখ করে লিমন বলে, ‘আমাদের মতো দুর্ভাগ্য হয়তো দেশের আরও অনেকের হয়, আমি ও কাদের সৌভাগ্যবান। মিডিয়া আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে। কিন্তু অনেকের কপালেই তেমন সহযোগিতা জোটে না।’ গণমাধ্যম, মানবাধিকার কর্মীসহ যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দুর্দিনে তার পাশে দাঁড়িয়েছে, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় লিমন।
গত ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপেজলার সাতুরিয়া গ্রামে র্যাবের গুলিতে আহত হয় লিমন (১৬)। তার অভিযোগ, বাড়ির পাশের মাঠ থেকে গরু আনতে গেলে র্যাবের সদস্যরা সন্ত্রাসী সন্দেহে তাকে ধরে পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। পরে গ্রামবাসী চাঁদা তুলে দরিদ্র পরিবারের সন্তান লিমনের চিকিৎ সার খরচ চালায়। ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে তাকে ভর্তি করার পর জীবন বাঁচাতে তার বাঁ পা উরুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়।







Azim Chy
২০১১.০৮.৩০ ০১:২১Abdullah Al-Mamun. রংপুর।
২০১১.০৮.৩০ ০১:৪৭Alamgir R Siddiqui
২০১১.০৮.৩০ ০২:০৪Kulsum Al-Nazrul
২০১১.০৮.৩০ ০২:৩১Abrar
২০১১.০৮.৩০ ০২:৫০আজ পুলিশি বর্বরতার নির্মম শিকার হতে হচ্ছে আমাদের দেশের ভবিষ্যতকে। আজ সাধারণ ছাত্ররা বাসার বাহিরে যেতে ভয় পায়। একটি স্বাধীন দেশে বাস করেও আজ আমরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছিনা।
একটি দেশে পুলিশ থাকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। অপরাধ দমনের জন্য। কিন্তু আজ সাধারণ জনগণ পুলিশের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। পুলিশ আজ আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত তো করছেই না, বরং আমরা নিজেদের নিরাপদ রাখার জন্য পুলিশ থেকে ১০০ হাত দূরে থাকুন পন্থা অবলম্বন করছি। আজ পুলিশের উপস্থিতিতে ছয়জন ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, লিমনের মত ছাত্রের এমন অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়, মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হেয় করে বিপদে ফেলা হয়, সাধারণ ছাত্রদের আকস্মিক ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয় - সেখানে আগামীকাল আমাদের সাথেও এমন কিছু ঘটবে না সেটা আমরা কিভাবে বলতে পারি? বিপদ তো বলে কয়ে আসেনা! আজ একজন সাধারণ নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ থেকে সাবধানে থাকার কথা ভাবতে হচ্ছে। তাদের মা-বাবা'রা ভীত-সন্ত্রস্ত্র থাকে কখন তার সন্তানকে আবার লিমন, কাদের'দের মত পরিস্থিতির শিকার হতে হয়।
এমনই যদি অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে স্বাধীন দেশের একজন নাগরিকের মূল্য কোথায়?
আমাদের বিবেক কি এখনো আমাদের নাড়া দেয়নি?
Rabbani Chowdhury
২০১১.০৮.৩০ ০৩:২২Wahab
২০১১.০৮.৩০ ০৩:৪৬কামরুজ্জামান কাজল
২০১১.০৮.৩০ ০৩:৫৪Md Nasim Wahid
২০১১.০৮.৩০ ০৬:৪৬Sayed Hassan Ali
২০১১.০৮.৩০ ০৭:৩১জামাল হোসেন মানিক
২০১১.০৮.৩০ ০৭:৫৩mahfuz mahedi
২০১১.০৮.৩০ ০৮:৩০চোর-ডাকাতের যন্ত্রণাতে
শান্তি যাতে না হারায়,
সেই কারণে বাড়তি কিছু
লোক রেখেছি পাহারায় ।
অস্ত্র দিছি, অর্থ দিছি
শক্তি দিছি যাহাতে,
সত্য পথে থাকে এবং
কিছুই না নেয় বাঁ হাতে ।
তারপরেও আজকে কেনো
লিমন হলো পা হারা ?
এই কথাটার জবাবটা যে
দিতেই হবে সাহারা !
KHONDOKAR
২০১১.০৮.৩০ ০৯:২৪Kamruzzaman
২০১১.০৮.৩০ ০৯:২৬MAY YOU LIVE LONG..........
Architect Chowdhury Fazle Bari
২০১১.০৮.৩০ ১০:৪৯Selim
২০১১.০৮.৩০ ১২:০৮আমার পরিচিত এমন একজন আছে যে জন্মের পর পোলিওতে পংগু হয়ে যায়। অত্যন্ত ট্যালেন্ট। সফলতার সাথে আইটি সেবা দিয়ে যাচ্ছে আমাদের। মাস দুয়েক আগে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিতসার জন্য ভিসা পায়। কিন্তু বন্ধুদের সহায়তার আশ্বাস পেলেও এখন তা না পাওয়াতে তার চিকিতসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
লিমনের মত কোন মিডিয়া বা সমাজকর্মী এগিয়ে আসেনি তার পাশে। তাই হয়তো তার আর চিকিতসা নিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাটা আর নাও হতে পারে।
siemone
২০১১.০৮.৩০ ১৩:১১jahangir
২০১১.০৮.৩০ ১৮:৫৯Kausar
২০১১.০৮.৩০ ২০:৩৬Ashik Imran
২০১১.০৮.৩১ ০৮:৪৫Mahboob Ul Alam
২০১১.০৮.৩১ ১০:০৫Buddhiman kamal
২০১১.০৮.৩১ ১৩:২১ali
২০১১.০৮.৩১ ১৬:০২Md, Masud Miah
২০১১.০৮.৩১ ১৬:২৫Md.Habibur Rahman khan
২০১১.০৮.৩১ ১৯:২২Rezaul Karim Suhag
২০১১.০৮.৩১ ২১:০৬Zaman
২০১১.০৮.৩১ ২৩:০৫Md. Rezwan
২০১১.০৯.০১ ১৫:০২
২০১১.০৯.০২ ১৫:২৮