দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড় দুমলোং!
দুমলোং পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানোর পর দেশের পতাকা হাতে চার অভিযাত্রী
ছবি: বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড়ের সন্ধান পেয়েছে ঢাকার ‘নেচার অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব’-এর চারজন তরুণ। রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত এই পাহাড়টি স্থানীয় আদিবাসীদের কাছে দুমলোং নামে পরিচিত। জারমিন জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম)-এ এর উচ্চতা ধরা পড়ে তিন হাজার ৩১৪ ফুট।
২২ ডিগ্রি ০২ মিনিট ০২.১ সেকেন্ড অক্ষাংশ ও ০৯২ ডিগ্রি ৩৫ মিনিট ৩৬.৩ সেকেন্ড দ্রাঘিমাংসে অবস্থিত দুমলোং পাহাড়টি। এর উচ্চতা কেওক্রাডং পাহাড়ের চেয়ে বেশি। কেওক্রাডং পাহাড়ের উচ্চতা তিন হাজার ১৭২ ফুট।
অভিযাত্রীরা জানান, এর আগে তাঁরা তাজিংডং ও সিপ্পি আরসুয়াং পাহাড়ে উঠেছেন এবং উচ্চতা পেয়েছেন যথাক্রমে দুই হাজার ৭২৩ ও তিন হাজার ২৮ ফুট।
২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে নেচার অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব দেশের সর্বোচ্চ পাহাড় সাকা হাফংয়ের সন্ধান পায়; যার উচ্চতা তিন হাজার ৪৮৮ ফুট। নেচার অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব সাকা হাফংকে দেশের সর্বোচ্চ পাহাড় হিসেবে সর্ব প্রথম দাবি করে। এবার দুমলোং পাহাড়কে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড় হিসেবে দাবি করে এর স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।
যেভাবে যাওয়া: দুমলোং পাহাড়টির চূড়া খুঁজে বের করতে মো. ওয়াদুদ মহসিন রুবেল তাঁর ভ্রমণসঙ্গী আবদুল হককে নিয়ে এর আগে তিনবার এই পাহাড়টির আশপাশের গ্রামে গিয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। চতুর্থবার চূড়ান্ত অভিযানের পরিকল্পনা করলে তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হন মো. আমিনুর রশিদ আসিফ ও নাগিব মেশকাত। ঢাকা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি রওনা হয়ে তাঁরা বান্দরবান পৌঁছান ১৫ ফেব্রুয়ারি। ওই দিনই বগা লেক হয়ে পৌঁছান হারমনপাড়ায়। সেখানে রাতযাপন করে পরদিন সকালে রওনা দিয়ে পুকুরপাড়া হয়ে পৌঁছান প্রংজংপাড়ায় এবং সেখানে দুই রাতযাপন করেন। পরদিন সকালে রওনা দেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড়ের চূড়া বিজয়ের লক্ষ্যে। প্রথমে তাঁদের পার হতে হয় রাইংক্ষ্যং খাল। পরে পাহাড়ের গা বেয়ে ওপরের দিকে উঠতে শুরু করেন। সঙ্গে নেন পর্যাপ্ত খাবার পানি, বিশ কেজি চাল, বার কেজি আলু, ৩০টি মুরগির ডিম প্রভৃতি। খাবার বহন করতে এবং জঙ্গল কেটে পথ খুঁজে বের করতে প্রংজংপাড়া থেকে নেওয়া হয় পাঁচজন প্রদর্শক। তাঁরা হলেন জোশেফ ত্রিপুরা, মালিরাং ত্রিপুরা, গণেশ ত্রিপুরা, আনিচান্দ ত্রিপুরা ও হাতিরাং ত্রিপুরা।
অভিযাত্রীরা জানান, প্রথম দিন তাঁদের তাইদাং সাহওগা হাফং নামক একটি পাহাড়ের গায়ে বাঁশবন কেটে রাতযাপন করতে হয়। সেখান থেকে অনেক পথ নিচে নেমে পানি সংগ্রহ করতে হয় এবং মাটি খুঁড়ে সে পানি পলিথিনে সংগ্রহ করে রাখেন। কারণ পানির খুবই অভাব সেখানে। পরদিন তাইদাং পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে সক্ষম হন। পরে কিছুটা পথ এগিয়ে গিয়ে বাঁশঝোপ কেটে তাঁবু টানিয়ে রাতযাপন। স্থানীয় আদিবাসীরা জানায়, এই জায়গাটিতে ব্রিটিশ আমলে বিদেশি সেনারা পাহাড় কেটে একটি ছোট্ট রাস্তা তৈরি করেছিল। ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২ টা ১৫ মিনিটে তাঁরা সর্ব প্রথম বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড় দুমলোংয়ের চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেন। এ পাহাড়ের চূড়া থেকে ভারত ও মিয়ানমার দেখা যায়। ভারতের দিকে তাঁরা দেখতে পান সীমানাছড়া, গবছড়ি চাকমাপাড়া ও ফারুয়া ক্যাম্প। সেদিন পাহাড়চূড়ার কাছে রাতযাপন করে পরের দিন ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে রওনা হয় প্রংজংপাড়ার উদ্দেশ্যে। পথে তাঁরা দেখতে পান ভাল্লুকের কামড়ানো কলাগাছ, হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণীর পদচিহ্ন।
দুমলোং বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাহাড় হলেও এর আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি এখন পর্যন্ত রাঙামাটি জেলার সর্বোচ্চ পাহাড়।







jahangir
২০১১.০২.২৮ ০৩:৫৫
২০১১.০২.২৮ ০৩:৫৯Mofassel Uddin Ahmed
২০১১.০২.২৮ ০৮:২২Sayem & Shifa
২০১১.০২.২৮ ১১:০৩Shajed
২০১১.০২.২৮ ১২:২১Ar.Khan
২০১১.০২.২৮ ১২:৪৮Ramen Kumar Samadder
২০১১.০২.২৮ ১৯:৫০Oniket
২০১১.০৩.০১ ০০:৩৬S M Rubayet Hossain
২০১১.০৩.০১ ০১:৩০