কর্নেল তাহেরের গোপন বিচার আদালতে মার্কিন সাংবাদিক লিফশুলজের বক্তব্য এটা শুধু বিচার বিভ্রাট নয়, রাষ্ট্র কর্তৃক সংঘটিত একটি অপরাধ
তাহেরকে ফাঁসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জিয়া
মেজর জেনারেল মঞ্জুর পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে জানতেন, কথিত বিচার শুরু হওয়ার আগেই জিয়া তাহেরকে ফাঁসি দেওয়ার ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ওই সময় জিয়ার ঘনিষ্ঠ ছিলেন এমন দুজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাও এ বিষয়ে তাঁকে নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে ই-মেইলে পাঠানো লিফশুলজের বক্তব্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান।
এর আগে ২০ জানুয়ারি হাইকোর্ট লে. কর্নেল এম এ তাহেরের গোপন বিচার সম্পর্কে বক্তব্য দিতে মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজকে অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও পররাষ্ট্রসচিবকে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় লরেন্স লিফশুলজ ই-মেইলে রাষ্ট্রপক্ষের বরাবরে তাঁর বক্তব্য পাঠান। ১৯৭৬ সালে তাহেরসহ অন্যদের গোপন বিচার চলাকালে মার্কিন এই সাংবাদিককে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পাঁচ পৃষ্ঠার বক্তব্যে লিফশুলজ বলেছেন, ‘নির্মোহভাবে আমি বিশ্বাস করি, বিচার শুরুর আগেই এ রায় নির্ধারিত হয়েছিল। যে তথাকথিত রায়ে তাহেরকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, সে রায়কে বাতিল করার এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত তখনই ছিল। তাহেরের ফাঁসিকে শুধু “বিচার বিভ্রাট” বললেই যথেষ্ট হয় না, এটিকে “রাষ্ট্র কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ” হিসেবেও আখ্যায়িত করা উচিত।’
প্রত্যক্ষদর্শী লিফশুলজ: হলফনামার শুরুতেই লরেন্স লিফশুলজ নিজের পরিচয় ও বাসস্থানের কথা উল্লেখ করেন। তৃতীয় অনুচ্ছেদে তিনি বলেছেন, ‘৩০ বছরের বেশি সময় ধরে আমি এই অনুরোধটি পাওয়ার প্রত্যাশা করেছি। ঢাকায় আদালতকক্ষে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগকে আমি জীবনের অন্যতম সম্মানজনক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করি। আমার মতে, ঢাকায় ১৯৭৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে একটি দুঃখজনক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ওই ঘটনার হাতে গোনা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর একজন ছিলাম আমি।’
তাহেরের বেঁচে থাকা নিয়ে আশঙ্কা: লিফশুলজ তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণের কথা আমি আদালতের সামনে উপস্থাপনের প্রত্যাশা করছি।...১৯৭৬ সালের জুনের শুরুতে যখন আমি ঢাকায় পৌঁছাই, আমি জেনারেল মোহাম্মদ মঞ্জুরের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ওই সময় মঞ্জুর ছিলেন চিফ অব জেনারেল স্টাফ।...তাঁর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ এবং কীভাবে তাঁরা সেনাবাহিনীর জুনিয়র অফিসার হিসেবে পাকিস্তান থেকে পালিয়েছিলেন, তা নিয়ে আলাপ হয়।...দ্রুত আমি বুঝতে পারলাম, তাঁর মনে অনেক কিছু জমা আছে।...তিনি চাচ্ছিলেন, সেনানিবাসে তাঁর সদর দপ্তরে রাতে তাঁর সঙ্গে আমি দেখা করি।...ওই রাতে জেনারেল মঞ্জুর তাহেরের বিষয়েই আমার সঙ্গে আলাপ করেন। ওই সময় তাহেরের কারাবন্দিত্বের মেয়াদ ছয় মাস পার হয়েছিল। মঞ্জুর বলেছিলেন, বন্দিদশার বেশির ভাগ সময় তাহেরকে একা রাখা হয়েছিল।...তাঁর আশঙ্কা ছিল তাহেরকে বিচারের মুখোমুখি করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন জিয়া। মঞ্জুর এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া অন্য সামরিক কর্মকর্তারা জিয়াকে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু জুনের শুরুতে মঞ্জুর অনিশ্চিত হয়ে পড়েন, তিনি এই বিচার-প্রক্রিয়াটি থামাতে পারবেন কি না। সেনাবাহিনীতে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমার ঢাকায় থাকা উচিত।’
সাক্ষাৎকারের অনুমতি দেননি জিয়া: এরপর লিফশুলজ বলেছেন, ওই মাসে জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে আমার আর দেখা হয়নি। ঢাকায় উত্তেজনা বেড়ে চলছিল। আমি জেনারেল জিয়ার সাক্ষাৎকার নেওয়ার চেষ্টা করি। তাঁর সহকারীরা আমাকে প্রশ্নের একটি তালিকা দিতে বলেন।...সেখানে ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থান এবং আবু তাহেরের গ্রেপ্তারের বিষয়েও প্রশ্ন ছিল। জিয়ার কাছে আমি প্রশ্ন রেখেছিলাম নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে, তাহের এবং তাঁর নেতৃত্বে থাকা বাহিনী জিয়ার জীবন বাঁচিয়েছিল। যদি এটা সত্যি হয়, তাহলে কেন তিনি তাহেরকে আটক করেছেন এবং যারা আসলে তাঁকে (জিয়া) আটকের জন্য দায়ী, তাদের মুক্তি দিয়েছেন। কিন্তু আমাকে সাক্ষাৎকার গ্রহণের অনুমতি দেননি জিয়া।
ওই বিচার সম্পর্কে: লিফশুলজ বলেছেন, ওই ট্রাইব্যুনালে যাঁদের বিচার হয়েছিল তাঁদের পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা দেওয়া হয়নি এবং আইনজীবী নিয়োগ করতে দেওয়া হয়নি। তাঁদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকারও লঙ্ঘিত হয়েছে। অত্যন্ত গোপনে এমন এক আদালতে এই বিচার হয়েছিল, যার কোনো আইনগত ভিত্তিই ছিল না। এই অবিচারের বিরুদ্ধে যাতে গণরোষ ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য গণমাধ্যমকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং বিদেশি সাংবাদিকদের তাঁদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান প্রথম আলোকে বলেন, লরেন্স লিফশুলজ ই-মেইলে তাঁর বক্তব্য পাঠিয়েছেন এবং আদালতে তুলে ধরার অনুরোধ জানিয়েছেন। তা আদালতে তুলে ধরেছি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাসে হলফনামা করে ওই বক্তব্য জমা দেওয়া হয়েছে। তা আসার অপেক্ষায় রয়েছে। মেজর জেনারেল (অব.) নূরুল ইসলাম শিশুর বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁকে আসার জন্য ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার তাহেরসহ ১৭ জনকে বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনালের গোপন বিচারে ১৯৭৬ সালের ১৭ জুলাই সাজা দেওয়া হয়। এরপর ২১ জুলাই ভোররাতে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। কর্নেল তাহেরের গোপন বিচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কর্নেল তাহেরের ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন, তাহেরের স্ত্রী লুৎফা তাহের এবং সামরিক আদালতের বিচারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ফ্লাইট সার্জেন্ট আবু ইউসুফ খানের স্ত্রী ফাতেমা ইউসুফ গত ২৩ আগস্ট হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাহেরের বিচারের জন্য সামরিক আইনের মাধ্যমে জারি করা আদেশ এবং এর আওতায় গোপন বিচার ও ফাঁসি কার্যকর করাকে কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানাতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া ওই সময় গোপন বিচারের মুখোমুখি অপর পাঁচ ব্যক্তি হাইকোর্টে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুল জারি করেন। তাঁরা হলেন জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সহসভাপতি রবিউল আলম, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জিয়াউদ্দিন, হাবিলদার আব্দুল হাই মজুমদার, করপোরাল শামসুল হক ও আব্দুল মজিদ। এখন রিটের ওপর চূড়ান্ত শুনানি চলছে।







Anwar Sadat
২০১১.০২.০৪ ০৩:২৪mridulchowdhury
২০১১.০২.০৪ ০৬:৪৭
২০১১.০২.০৪ ০৭:৩৭Abul Kalam
২০১১.০২.০৪ ০৭:৫৪Mohammad Solaiman
২০১১.০২.০৪ ০৯:০৩Imrul Haider Piyash
২০১১.০২.০৪ ০৯:৪৫Md. Mizanur Raman
২০১১.০২.০৪ ১০:২০Nipo Sarker
২০১১.০২.০৪ ১০:২৪Syed Zahid Hussain
২০১১.০২.০৪ ১০:২৮
২০১১.০২.০৪ ১০:৩২A.W.Haq
২০১১.০২.০৪ ১০:৪১Maruf
২০১১.০২.০৪ ১০:৫২Md. Tazemul Haque
২০১১.০২.০৪ ১১:০৩amanullah aman
২০১১.০২.০৪ ১১:০৪B C Gomes
২০১১.০২.০৪ ১১:০৮khairul islam
২০১১.০২.০৪ ১১:২৮প্রথম আলোর পাঠকদের সাথে এই লিঙ্ক টা শেয়ার করলাম :
http://www.col-taher.com/english/default.asp
Mohammed Manirul Islam Khan
২০১১.০২.০৪ ১১:৪৫saidur
২০১১.০২.০৪ ১১:৪৮কানা-বাবা
২০১১.০২.০৪ ১২:২৪বইটির বাংলা আনুবাদও আছে,ইংরেজি ভাল না লাগলে সেটা পড়ে দেখতে পারেন। আগে পড়ুন, জানুন, তারপরে পাবলিক ডোমেইনে কথা বলুন, সেটাই কি বিবেচকের মত কাজ হবে না?
মনিরুজ্জামান
২০১১.০২.০৪ ১৩:১৭Shuvro Rahman
২০১১.০২.০৪ ১৩:২৬Khairul Basher
২০১১.০২.০৪ ১৩:৩৮Brata Roy
২০১১.০২.০৪ ১৪:০১Abul Kalam
২০১১.০২.০৪ ১৪:১৯
২০১১.০২.০৪ ১৪:৩১ds
২০১১.০২.০৪ ১৪:৪৭
২০১১.০২.০৪ ১৪:৫৬Bijoy
২০১১.০২.০৪ ১৫:০৩Mustafa
২০১১.০২.০৪ ১৫:০৫Imrul Haider Piyash
২০১১.০২.০৪ ১৫:৩০saifuddin
২০১১.০২.০৪ ১৫:৫৫ইমরান হোসেন
২০১১.০২.০৪ ১৬:৩৭md. jakir hosain
২০১১.০২.০৪ ১৭:০৪আফসোস একজন কর্নেল তাহেরের পক্ষে বলার জন্য আমরাই এখনও সাহসী না।
samalochok
২০১১.০২.০৪ ১৭:৩৮Asad
২০১১.০২.০৪ ১৭:৪২Md. Tazemul Haque
২০১১.০২.০৪ ১৭:৫০Masud
২০১১.০২.০৪ ১৮:১১Qamar Uddin
২০১১.০২.০৪ ১৯:২০Qamar Uddin
২০১১.০২.০৪ ১৯:২৮Abul Hossain
২০১১.০২.০৪ ২০:০৭Ramen Kumar Samadder
২০১১.০২.০৪ ২০:৪৫Abbas
২০১১.০২.০৪ ২১:০৩Mirza arifur rahman
২০১১.০২.০৪ ২১:০৮ড. গন্ড মূর্খ (পিএইচডি)
২০১১.০২.০৪ ২২:২৯অত্যন্ত ক্ষোভের সাথেই বলছি - মেজর জিয়ার মরনোত্তর দুনিয়াবী বিচার হওয়া উচিত।
ড. গন্ড মূর্খ (পিএইচডি)
২০১১.০২.০৪ ২২:৩২অত্যন্ত ক্ষোভের সাথেই বলছি - মেজর জিয়ার মরনোত্তর দুনিয়াবী বিচার হওয়া উচিত।
Rafique
২০১১.০২.০৫ ০১:৫০